.
এতক্ষণে উত্তেজনা থিতিয়েছে। গাড়ি নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলো লুসি। কোনোরকম ভূমিকা না করেই সে এমাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে জানাল। সে যে পুলিসেও খবরটা জানিয়েছে সেকথাও বাদ দিল না।
এমা ভয়ে বিস্ময়ে কথা হারিয়ে ফেলেছিল। পরে সামলে নিয়ে অনুযোগের স্বরে বলল, পুলিসকে খবর দেবার আগে আমাকে জানানো তোমার উচিত ছিল।
ঠিক এই সময়েই বাড়ির সামনে গাড়ি থামার শব্দ হল।
পরক্ষণেই দরজার ঘন্টা সশব্দে বেজে উঠল।
.
ইনসপেক্টর বেকনের হাত ধরে বড় গুদোমঘর থেকে বেরিয়ে এলো এমা ক্রাকেনথর্প। তার মুখ ফ্যাকাসে। চোখে উভ্রান্ত দৃষ্টি।
-না, ইনসপেক্টর, মেয়েটিকে চিনি না, জীবনে কখনো আগে দেখিনি।
–ধন্যবাদ মিস।
হলঘর অতিক্রম করে তারা পড়ার ঘরে ঢুকল। সেই সময় ডাক্তার কুইম্পার পড়ার ঘর ছেড়ে বেরচ্ছিলেন। ইনসপেক্টর মুখোমুখি হলে তারা পরস্পরকে অভিবাদন জানালেন।
এমার দিকে তাকিয়ে ডাক্তার বললেন, তুমি শক্ত মনের মেয়ে, সবকিছু সহজভাবে মেনে নেবে। তোমার বাবা সুস্থ আছেন। ভেতরে তার সঙ্গে গিয়ে কথা বলল।
এমা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। তার গমন পথের দিকে তাকিয়ে ডাক্তার বললেন, এমা একা এই পরিবার সামাল দিচ্ছে। ওর আগেরটি আগেই সরে পড়েছে। এমা এখনো অবিবাহিতা।
–বোধহয় খুবই পিতৃভক্ত। ইনসপেক্টর বললেন।
–ঠিক ততটা নয়, যতটা আপনি ভাবছেন। বাড়ির মেয়েদের সুখী করার দায়িত্ব যে মেয়েদের একথা সে জানে।
.
ইনসপেক্টর বেকন লুসির সঙ্গে গিয়ে আগে পাথরের কফিনে মৃতদেহটি দেখলেন। পরে দেখা দিল সনাক্তকরণের প্রশ্ন।
এমা ক্রাকেনথর্প আর মিঃ ক্রাকেনথর্প বাড়িতে আপাততঃ এই দুজনই মানুষ উপস্থিত। এমার টেলিফোন পেয়ে ডাঃ কুইম্পারও উপস্থিত হয়েছেন।
এমা মৃতদেহটি দেখল। সে পরিষ্কার জানাল, এর আগে মেয়েটিকে আমি জীবনে কখনো দেখিনি।
বৃদ্ধ মিঃ ক্রাকেনথর্পকে ডাঃ নিজে ওপর থেকে নিচে নিয়ে এলেন। বাড়ির কর্তা, তার মতামত স্বভাবতই ইনসপেক্টর বেকনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু তিনিও বড় গুদোমঘর থেকে ঘুরে এসে জানালেন, জীবনে এ মেয়ের মুখ আমি দেখিনি। কফিনটা আমি নেপলস কি ফ্লোরেন্স থেকে এনেছিলাম এখন আর ঠিক মনে নেই। কিন্তু এ কিরকম কথা কোথাকার কোনো মেয়ে এর ভেতরে খুন হয়ে পড়ে থাকবে?
ইতিপূর্বে পুলিসের সার্জন জনস্টেন মৃতদেহ দেখে রায় দিয়ে গেছেন, স্ত্রীলোকটি দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে মারা গেছে। ডাঃ কুইম্পার ইনসপেক্টর বেকনের কাছে এই বিবরণ জানতে পেরে নিজেই প্রস্তাব করলেন, আমিও একবার মৃতদেহটা দেখতে চাই।
আপনার মতামত জানতে পেলে আমি খুব খুশি সব স্যার। বললেন বেকন, স্ত্রীলোকটির পরিচয় আমাদের জানা দরকার।
কিন্তু পাথরের কফিনটার সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরের মৃতদেহটা তিনি দেখলেন। পরে জানালেন, এ মেয়েকে কখনো আগে দেখিনি। আমার রোগীদের কেউ নয়। বোঝা যাচ্ছে একসময় বেশ সুন্দরী ছিল। কিন্তু ওরকম একটা জায়গায় কফিনটার ভেতরে ওটা আবিষ্কার হল কি করে?
–মিস আইলেসব্যারো আবিষ্কার করেছেন। বললেন বেকন।
–বাড়ির নতুন কাজের মেয়েটি? তা পাথরের কফিনের ভেতরে দেখার কি দরকার পড়েছিল ওর?
–একটু পরেই আমিও একথা তার কাছে জানতে চাইব।
এই সময় আলেকজান্ডার আর তার বন্ধু স্টডার্ড ওয়েস্ট সেখানে উপস্থিত হল।
–স্যার, দয়া করে, আমাদের মৃতদেহটা একবার দেখতে দেবেন?
আলেকজান্ডারের অনুরোধ শুনে ইনসপেক্টর বেকনের ভ্রু কুঞ্চিত হল।
দুই কিশোরের পরিচয় জেনে নিয়ে তিনি জানতে চাইলেন, এই অঞ্চলে তোমরা কখনো সোনালী চুলের কোনো মেয়েকে দেখেছ? তার গায়ে একটা হালকা রঙের ফারকোট?
-এখুনি ঠিক মনে করতে পারছি না স্যার, বলল আলেকজান্ডার, সেজন্যই তো একবার দেখতে চাইছি-দয়া করে আমাদের আবেদনটা বিবেচনা করুন স্যার।
ইনসপেক্টর বেকন কি ভাবলেন। পরে বড় গুদামঘরের সামনে প্রহরারত কনস্টেবলকে ডেকে তিনি নির্দেশ দিলেন, কিশোরদুটিকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে আনতে।
রান্নাঘরে সন্ধ্যার জন্য চিপস তৈরি করছিল লুসি। এমন সময় একজন কনস্টেবল এসে জানাল, ইনসপেক্টর লুসির সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছেন।
সামনে থেকে আলুর কুচির বাটিটা সরিয়ে রেখে লুসি বার্তাবাহকের পেছন পেছন এসে একটি ঘরে ঢুকল।
লুসি আসন গ্রহণ করলে ইনসপেক্টর প্রথমে তার নাম এবং লন্ডনের ঠিকানা জেনে নিলেন।
পরে জিজ্ঞেস করলেন, মিস আইলেসব্যারো, আপনি বড় গুদোমঘরে ছেলেদের জন্য রঙের খোঁজে গিয়েছিলেন, তাইতো?
-হ্যাঁ। লুসি জবাব দিল।
-রঙ খুঁজে পাওয়ার পর আপনি একটা ক্রোবার সংগ্রহ করে চাড় দিয়ে পাথরের কফিনটার ঢাকনা তুলে ফেলে মৃতদেহটা আবিষ্কার করেন?
–হ্যাঁ, তাই।
–আচ্ছা, পাথরের কফিনটার মধ্যে আপনি কি খোঁজ করছিলেন?
–একটা মৃতদেহ খোঁজ করছিলাম।
–আপনি মৃতদেহ খোঁজ করছিলেন? এই কাহিনী আমাকে বিশ্বাস করতে বলছেন?
–অদ্ভুত শোনালেও কাহিনীটা সত্যি। আমাকে ব্যাখ্যা করবার সুযোগ দেবেন আশাকরি।
–অবশ্যই। আপনার বক্তব্য আপনি বিস্তারিত ভাবে বলুন।
লুসি তার অদ্ভুত আবিষ্কারের পূর্ববর্তী সমস্ত ঘটনা সংক্ষেপে যথাযথ পেশ করল।
–একটা মৃতদেহ অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে আপনি এই বাড়িতে চাকরি নিয়েছিলেন, আর আপনাকে একাজে নিয়োগ করেছিলেন এক বৃদ্ধ মহিলা–তা এই মহিলাটি কে?
