-তা যদি পারতাম, বললেন মিস মারপল, তাহলে অবশ্যই বলতাম। তবে এব্যাপারে আমি নিঃসন্দেহ যে রাদারফোর্ড হলে বসবাসকারী কেউ একজন হত্যাকারী অথবা খুনের পেছনের সব ঘটনা জানে।
-যে গুদামঘরটায় কফিনে মৃতদেহ রাখা হয়েছিল, সেটা সকলেই চেনে, কোথায় চাবি রাখা হয় তাও জানে। আর রাদারফোর্ড হলের সঙ্গে যুক্ত লোকের সংখ্যাও অনেক। বেশ কিছু বহিরাগত নারী ওখানে ঠিকে কাজ করেছে। তাছাড়া উইমেন্স ইনসটিটিউট ও এ. আর. পি. ওয়ার্ডেন কর্মীরাও হয়েছে। যে কেউই জায়গাটাকে উদ্দেশ্যপূরণের ক্ষেত্রে উপযোগী ভাবতে পারে। বললেন ক্রাডক।
–আপনার অসুবিধা আমি বুঝতে পারি। মৃতদেহ সনাক্ত করতে না পারলে আপনাদের পক্ষে এগনোও সম্ভব হচ্ছে না।
–আমরা নানাভাবেই মেয়েটির পরিচয় জানবার চেষ্টা করছি। ওই বয়সের এবং ওরকম চেহারার নিরুদ্দিষ্ট মেয়েদের খবরও অনুসন্ধান করে দেখছি। পুলিস সার্জন বলেছেন, মেয়েটির বয়স পঁয়ত্রিশের কাছাকাছি, স্বাস্থ্যবতী এবং সম্ভবত বিবাহিতা, কমপক্ষে একটি সন্তান তার থাকা উচিত। তার গায়ের সস্তা দামের ফারকোটটি লন্ডনের কোনো দোকান থেকে কেনা নয়, তা-ও জানা গেছে।
–অন্য পোশাক–অন্তর্বাস ইত্যাদি
-হ্যাঁ, ওগুলো বিদেশি, বেশির ভাগই প্যারিস থেকে কেনা। আমরা প্যারিসের পুলিসকে লীর চিহ্ন পাঠিয়ে দিয়েছি। আশা করছি কোনো একটা খবর পাওয়া যাবে।
–সেই পাউডার প্যাকটা
-ওটা খুবই সস্তা জিনিস। কোনো কাজে আসেনি। তবে ওই জিনিসটা সঙ্গে সঙ্গে পুলিসের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলে
মিস মারপল বাধা দিয়ে বললেন, আসলে মৃতদেহটা খুঁজে বার করার ব্যাপারেই আমি বিশেষ আগ্রহী ছিলাম।
–আপনি নিঃসন্দেহ হলেন কি করে যে মৃতদেহটা খুঁজে পাওয়া যাবে?
-ওই মেয়েটির অভাবিত কর্মদক্ষতা দেখে। ও এক অন্য জাতের মেয়ে। তা রাদারফোর্ড হলে কাজকর্ম কেমন করছে?
–দেখে মনে হলো বাড়ির বাসিন্দারা সকলেই তার ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আমরা অবশ্য তার সঙ্গে আপনার পরিচয়ের কথা গোপন রেখেছি।
-আমার সঙ্গে অবশ্য তার কাজের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে।
–তাহলে বলছেন, সে মনে করলে যথারীতি ওখানকার কাজ ছেড়ে দিতে পারে?
–স্বচ্ছন্দে।
–কিন্তু সে তো কাজ আগের মতই করে চলেছে।
–মেয়েটি বুদ্ধিমতী, কোনো বিষয়ে আগ্রহ জাগা অসম্ভব নয়।
যাইহোক, আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।
–লেগে থাকলে কার্যসিদ্ধি হবে। বললেন মিস মারপল।
–কিন্তু আপনার কিছু প্রেরণা না পেলে কিছু চিন্তালব্ধ সূত্র
জলজ্যান্ত একটি মেয়ে নিপাত্তা হয়ে গেল অথচ নিরুদ্দিষ্ট আত্মীয় বা বন্ধুর সন্ধান কেউ করছে না এটাই আমার প্রধান চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই কোনো থিয়েটার পার্টি, যারা একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়ায় তাদের কথা ভাবছি। ওরকম পার্টির মেয়েদের বাড়ির সঙ্গেও বন্ধন বলতে কিছু থাকে না। কোনো মেয়ে হারিয়ে গেলে সাধারণতঃ তার খোঁজ নেবারও তাই কেউ থাকে না।
ক্রাডক হেসে বললেন, আপনার এই কল্পনার বাস্তব ভিত্তি অস্বীকার করা যায় না। বিষয়টা আমরা মাথায় রাখব।
.
মিস মারপল পরদিনই তার বন্ধু মিসেস ম্যাকগিলিকার্ডিকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে চিঠি লিখলেন। ব্র্যাকহ্যাম্পটনের রাদারফোর্ড হলের একটি পাথরের কফিনের মধ্যে ট্রেনে গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা মেয়েটির মৃতদেহ পাওয়া গেছে–এই সংবাদ জানতে পেরে মিসেস ম্যাকগিলিকার্ডি যে পরিতৃপ্তির হাসি হাসছেন চিঠি লিখতে লিখতে মানসচক্ষে তার সেই দৃশ্য ফুটে উঠল।
.
০৮.
বাসন মাজার জন্য পার্সলে গাছ সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে লুসি সবজি বাগানে ঢুকেছিল। কেড্রিক ক্রাকেনথপও এই সময় এসে জুটল।
–আপনার এই কাজ আমার একদম পছন্দ নয়।
–কোন কাজ? অবাক হল লুসি।
–এই যে বাড়ির ঝিয়ের কাজ।
-আপার দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করা গেল না। আমি গৃহস্থালীর কাজের সাহায্যকারিণী।
হ্যাঁ, এতেই আপনার অদ্ভুত স্বভাবটা ধরা পড়ে।
-অদ্ভুত
–অদ্ভুত না হলে আর ওই গুদামঘরের ভেতরে একটা সেকেলে কফিনের ভেতরে আপনার চোখ পড়ে?
লুসি হাসল
–বাবার সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?
–এসব নিয়ে চিন্তা করার অবসর পাইনি।
–আমি জানি এমা বাদে আমাদের সকলকে তিনি ঘৃণা করেন। নিজে স্বভাবদোষে ঠাকুর্দার কোপে পড়েছিলেন। তিনি তার সমস্ত বিষয়আশয় নাতিনাতনিদের জন্য ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়ে গেলেন।
আর এমন ব্যবস্থা করে গেলেন যে সঞ্চিত অর্থ থেকে যা আয় হবে কেবল সেটুকু তিনি নিজে ভোগ করতে পারবেন, মূলধন ছুঁতে পারবেন না। আর আমাদের পিতৃদেব করলেন কি, না, এখানে এসে কেবল টাকা জমিয়ে টাকার পাহাড় বানালেন।
ঠাকুর্দার বিত্তের এক কপর্দকও আমরা ভাইবোনেরা কেউ পেলাম না। আমি একজন শিল্পী, বিদেশে পড়ে থেকে মার খাচ্ছি। হারল্ড নিজের উদ্যোগে ব্যবসা করে গণ্যমান্য হয়েছে। তবে বাজারে তার সম্পর্কে নিন্দনীয় গুজব শোনা যায়। আর আলফ্রেড বেচারা, সে হলো পরিবারের কালো ভেড়া, কুলাঙ্গার যাকে বলে। ছোটখাট নানা কাজ ও বিভিন্ন সময় করেছে, আর সবেতেই সন্দেহজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেক ভাগ্য যে এখনো জেলখানায় ঢোকেনি।
–একজন অপরিচিত লোককে এসবকথা বলা আপনার কি উচিত কাজ হচ্ছে?
–কেন, তুমি কি পুলিসের ইনফর্মার?
