–সে কথা আমি ভুলিনি মিঃ পোয়ারো। আমি এত অকৃতজ্ঞ নই।
–হ্যাঁ আপনাদের এই গুণটা আছে বটে।
–গ্রীক জাতির কথা বলছেন তো?
-না মঁসিয়ে, আমি ইহুদী জাতির কথা বলছি। পোয়ারোর কথায় বিস্মিত হলেন পপোপুলাস। তার ধারণা ছিল তার প্রকৃত পরিচয় কেউ জানে না। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি ইহুদী।
-তাহলে আপনি আমাকে সাহায্য করছেন তো?
–আপনাকে সাহায্য করতে পারলে আমি খুবই খুশী হতাম, কিন্তু দুঃখের বিষয় এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে আপনি যদি চান তাহলে রেসের একটা টিপস দিতে পারি আপনাকে। রেসের মাঠে যান তো!
–তা যাই বৈকি!
-তাহলে শুনুন। আগামী রেসের দিন মাকুইন নামের ইংলিশ ঘোড়াটা বাজি মারবে বলে খবর পেয়েছি।
পপোপুলাসের কাছে রেসের টিপসটা পেয়ে খুশী খুশী মনে পোয়ারো পপোপুলাস এবং জিয়ার কাছে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন।
সেই দিন স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডের ইনসপেক্টর মিঃ জ্যাক-এর কাছে একখানা জরুরী চিঠি লিখলেন পোয়ারো। চিঠিতে তিনি মার্কুইস নামে পরিচিত একজন ক্রিমিন্যালের সম্বন্ধে সব কথা জানতে চাইলেন।
৫. একটি নূতন সূত্র
২১. একটি নূতন সূত্র
মিঃ আলডিন তার নিজের স্যুইটের ড্রয়িংরুমে বসে পোয়ারোর জন্যে অপেক্ষা করছেন। পোয়ারো ফোনে জানিয়েছেন এগারোটায় আসছেন তিনি।
এগারটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মঁসিয়ে পোয়ারো ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করলেন।
মিঃ আলডিন খুশী হয়ে বললেন, আপনি তো খুব পাংচুয়াল দেখছি।
–হ্যাঁ, আমি সাধ্যমত চেষ্টা করি পাংচুয়ালিটি বজায় রাখতে। আচ্ছা, এবার কাজের কথা শুরু করা যাক।–সোফায় বসলেন পোয়ারো।
-বলুন।
–প্রথমেই আমি মিস ম্যাসন-এর সঙ্গে আর একবার কথা বলতে চাই। সে এখানেই আছে তো?
–হ্যাঁ, আপনার কথামত তাকে এখানেই রেখেছি। এখুনি ডেকে পাঠাচ্ছি।
কলিং বেল টিপে বয়কে বললেন মিস ম্যাসনকে আসতে।
একটু পরেই মিস ম্যাসন ঘরে প্রবেশ করলেন। পোয়ারো বললেন, বসুন মিস ম্যাসন। আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।
–সেদিন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আপনি যা যা বলেছেন তার সব কথা মনে আছে তো?
–নিশ্চয়ই।
–আপনি বলেছিলেন, মাদাম ক্যাথারিন-এর কামরায় যে লোকটিকে দেখেছিলেন তাকে আপনি চেনেন না–তাই না?
–হ্যাঁ, এবং এখনও সেই কথাই বলছি।
–আচ্ছা, মঁসিয়ে ক্যাথারিনকে আপনি চেনেন নিশ্চয়ই?
–চিনি, তাকে আমি দুবার মাত্র দেখেছি।
কাছ থেকে কি কখনও দেখেছেন?
-না, খুব কাছে দেখিনি। একবার কার্জন স্ট্রীটের বাড়িতে আর একবার পার্কে। বাড়িতে যখন এসেছিলেন তখন আমি দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আর মিঃ ক্যাথারিন সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছিলেন। কয়েক সেকেণ্ড মাত্র দেখেছিলাম।
–পার্কে তাকে ভালোভাবে লক্ষ্য করেছিলেন কি?
-হ্যাঁ, সেদিন আমি তাকে ভালোভাবে দেখেছিলাম, সেদিন তার সঙ্গে একজন বিদেশিনী মহিলা ছিলেন।
–বিদেশিনী?
–হ্যাঁ, মহিলাটি ইংরেজ নন।
–আচ্ছা, এবার একটু ভেবে বলুন তো, সেদিন মাদামের কামরায় যাকে দেখেছিলেন তার চেহারাটা মিঃ ক্যাথারিন-এর মতো কিনা?
এবার মিস ম্যাসন বিস্মিত স্বরে বললেন, একথা আমি চিন্তাও করিনি স্যার। তিনি মানে
–আপনি হয়তো শুনে থাকবেন মিঃ ক্যাথারিন ওই ট্রেনেই ছিলেন। মাদাম ক্যাথারিন যে ঐ ট্রেনেই যাচ্ছিলেন সে কথাও তিনি জানতেন। অতএব সঙ্গত কারণেই ধরে নেওয়া যেতে পারে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
–কিন্তু স্যার, মাদামের কামরায় যে ভদ্রলোককে দেখেছি তিনি ট্রেনের যাত্রী নন।
–একথা কেন বলছেন?
-কারণ, ওঁর গায়ে ওভারকোট আর মাথায় টুপি ছিল। ট্রেনের কোনো যাত্রী হলে নিশ্চয়ই তিনি ওভারকোট আর টুপি পরে কামরায় যেতেন না।
একদিক দিয়ে ঠিকই বলছেন কথাটা। কিন্তু এমন তো হতে পারে, মঁসিয়ে ক্যাথারিন প্ল্যাটফর্মে নামবার জন্য ওভারকোট ও টুপি পরে করিডরে বেরিয়ে হঠাৎ তার মত পরিবর্তন করে মাদামের কামরায় গিয়েছিলেন। হয়তো করিডরে মাদামের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবার পর তিনি আর প্ল্যাটফর্মে না নেমে মাদামের কামরায় মাদামের সঙ্গে ঢুকেছিলেন।
মিস ম্যাসন বললেন, একথাটা আগে আমার মনে হয়নি। কিন্তু আপনার কথায় এখন মনে হচ্ছে হয়তো ঠিক। তবে এ ব্যাপারে আমি হলফ করে কিছু বলতে পারবো না।
পোয়ারো পকেট থেকে সিগারেট কেসটা বার করে মিস ম্যাসনের হাতে দিয়ে বললেন, দেখুন তো এটা মাদাম ক্যাথারিন-এর সিগারেট কেস কি না?
মিস ম্যাসন ভালো করে দেখলেন এক পিঠে K অক্ষরটা সোনালী রঙে এমব্রস করা রয়েছে। এটা কার বলতে পারেন কি?
সঠিক বলতে পারি না, কিন্তু এটা মাদামের নয়। সিগারেট কেসটা পোয়ারোকে ফিরিয়ে দিল।
–এটা তাহলে মিঃ ক্যাথারিন-এর হতে পারে। কারণ, তাঁর নামের আদ্যক্ষরও K।
–হ্যাঁ, স্যার, আপনার কথাই ঠিক মনে হচ্ছে। মাদাম তার স্বামীকে উপহার দেবার জন্যে একটা সিগারেট কেস কিনেছিলেন। এটা নিশ্চয়ই সেটা হবে।
মিস ম্যাসন আলডিন এবং পোয়ারোকে অভিবাদন জানিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
মিঃ আলডিন বললেন, আপনি তাহলে বলতে চান ড্রেকই একাজ করেছে? অথচ গতকাল আপনিই বলেছেন পুলিশ কাউন্টকে সন্দেহ করছে।
-ঠিকই বলেছিলাম মঁসিয়ে।
–তাহলে?
–কি তাহলে?
–এখন তো দেখছি আপনি ড্রেককে সন্দেহ করছেন।
-সন্দেহ করাটাই তো আমার পেশা। কিন্তু আমি যে ড্রেককে সন্দেহ করছি, একথা আপনার মনে হলো কেন?
