আমার অনুমান কোনো সোসাইটি হয়তো বলে থাকবে যে, এইভাবে খবরটা আপনি বলতে পারেন কিংবা ডেসমন্ড কি জানেন কোনো রক্তের সম্পর্কের কথা?
আমার মনে হয় না ডেসমন্ড জানে। কিন্তু আমার এও মনে হয় না যে, তার জন্য ওর কোনো চিন্তার কারণ আছে। সেরকম চিন্তাগ্রস্ত ছেলে ও নয়ই।
আপনি হয়তো জানেন, মিসেস বারটন কক্স আপনাদের একজন পারিবারিক বন্ধু ছিলেন, হয় মার অথবা বাবার? আপনি কি কখনও ওঁনার সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন? যখন আপনি ছেলেবেলায় আপনার নিজের বাড়িতে ছিলেন?
আমার তা মনে হয় না। কারণ ডেসমন্ডের মা মিসেস বারটন কক্স মালয়তে গিয়েছিলেন। সম্ভবত ওঁর স্বামী সেখানেই মারা যান। এবং ওঁরা যখন বিদেশে ছিলেন সেই সময় ডেসমন্ডকে ইংল্যান্ডের স্কুলে পাঠানো হয়। এবং ছুটির সময় ওঁর কোনো খুড়তুতো অথবা মাসতুতো ভাই কিংবা কোনো পরিচিতজন তাদের বাড়িতে ওকে নিয়ে যেত। এবং এইভাবেই আমরা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু হয়ে উঠেছিলাম। আমি সব সময়তেই ওকে মনে রেখেছি। গাছে ওঠার খুব ওস্তাদ ছিল এবং ও আমাকে পাখির বাসা আর পাখির ডিমের ব্যাপারে শিখিয়ে ছিল। আমি একজন বড়ো নায়কের পূজারিণী বলতে পারেন। তাই পরে আবার যখন দেখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বভাবতই আমরা পরস্পর উভয়ই আরো কাছে এসে পড়ি। আমরা দুজনেই আলোচনা করি যে, আমরা ছেলেবেলায় কোথায় ছিলাম। তারপর ও একদিন আমার নাম জিজ্ঞেস করে। ও বলেছিল আমি কেবল তোমার খ্রিস্টান নামটা জানি। তখন আমরা দুজনে অনেক কথাই মনে করার চেষ্টা করি। আপনি হয়তো বলতে পারেন এর ফলে আগের থেকে আমরা দু-জন আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠি। বলতে গেলে ওর সম্পর্কে সব কিছু আমি জানি না। কিন্তু আমি জানতে চাই। এমন একটা ব্যাপার যা সত্যি সত্যি ঘটেছিল যাতে আপনি জড়িয়ে পড়তে পারেন আর সেটা যদি আপনি না জানেন আপনি ঘর বাঁধবেন কী করে? জীবনে আপনি কিই বা করতে যাবেন?
সুতরাং আপনি বলছেন আমি যেন আমার তদন্তের কাজ চালিয়ে যাই।
হ্যাঁ তাতে যদি কোনো ফুল হয়। যদিও আমি আর ডেসমন্ড যে ভাবে কিছু তথ্য অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি সে ভাবে নয় কিন্তু। কারণ তাতে আমরা খুব একটা সফল হইনি। সুতরাং এর থেকে সহজেই অনুমান করা যায় সেটা সত্যিকারের জীবনের কাহিনি হতে পারে না। এটা মৃত্যুর কাহিনি অথবা দুটি মৃত্যুর ঘটনা সেটাই বলা যেতে পারে। যখন জোড়া আত্মহত্যা তখন যে কেউ ধরে নিতে পারে সেটা মৃত্যুর খবর। শেক্সপীয়ার বা অন্য কোথাও লেখা সেই উক্তির কথা মনে পড়ে আর মৃত্যুর ক্ষেত্রে সেটা ভাগ করা যায় না। হ্যাঁ আপনি চালিয়ে যান। পোয়ারোর দিকে ফিরলেন সিলিয়া এবং বললেন, অনুসন্ধান চালিয়ে যান। আপনি যদি মনে করেন আপনার তদন্তের ফলাফল সরাসরি আমাকে বলতে পারেন অথবা মিসেস অলিভারকেও বলতে পারেন। তারপর সিলিয়া মিসেস অলিভারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ধর্ম মা, আপনাকে আমি আতঙ্কিত করতে চাই না কিন্তু আমি সরাসরি ঘোড়ার মুখ থেকে কথাটা শুনতে চাই। আমার কথাটা বোধহয় রূঢ় হয়ে গেল কিন্তু বিশ্বাস করুন আঁসিয়ে পোয়ারো আমি ওভাবে বলতে চাইনি।
না, পোয়ারো বললেন, আমি ঘোড়ার মুখ হতে চাই।
আপনি কি মনে করেন আপনি সফল হতে পারবেন?
আমার বিশ্বাস আমি পারব।
আর সব সময়েই সেটা সত্য হয়ে থাকে তাই তো?
পোয়ারো বললেন, সাধারণত সেটা সত্য হয়েই থাকে। তার বেশি আমি কিছু বলতে পারব না।
মিসেস বারটন কক্স
দরজা পর্যন্ত সিলিয়াকে এগিয়ে দিয়ে এসে মিসেস অলিভার জিজ্ঞেস করলেন, মেয়েটির সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?
পোয়ারো বললেন, কৌতূহল জাগাল একটি মেয়ে। খুব ব্যক্তিত্বসম্পন্না মেয়ে। আমি যদি সেইভাবে ওকে খাড়া করতে চাই তাহলে অবশ্যই বলব ও বিশেষ একজন, কোনো একজন নয়।
হ্যাঁ সেটা খুবই সত্য, বললেন মিসেস অলিভার। আমি চাই আপনি কিছু বলুন।
কার সম্পর্কে, মেয়েটির সম্পর্কে কি? সত্যি কথা কি জানেন, ওকে আমি খুব একটা ভালো জানি না। ধর্মসন্তান সম্পর্কে কেউ তেমন কিছু জানতে পারেন না। তাদের সম্পর্কে বেশি গভীরে প্রবেশ করা যায় না, আর তাছাড়া কোনো উপায়ও থাকে না।
আমি ওর কথা বলতে বলিনি। ওর মার কথা বলুন।
ও তাই বলুন।
আপনি কি ওর মাকে জানতেন?
ওঁর সম্পর্কে আপনি কী জানতে চান বলুন?
আপনার কি ওঁকে মনে আছে? কী রকম মহিলা ছিলেন উনি?
আপনাকে একটা কথা বলি। কোনো ব্যাপারে কেউ অতীতের কোনো লোককে পুরোপুরি ভুলতে পারে না এবং ভুলতে পারে না সেই অতীতের স্মৃতিটাকে।
আচ্ছা বলতে পারেন আপনার মনে কী রকম রেখাপাত তিনি করেছিলেন?
মিসেস অলিভার বললেন, সুন্দরী ছিলেন তিনি তবে তেরো চোদ্দ বছর বয়সের কিশোরীর মতন নয়, তখন ওঁর দেহে অনেক চর্বি ও মেদ জমে গিয়েছিল। আমার মনে হয় আমাদের সকলেরই সেরকম হয়ে থাকে।
ওঁর মধ্যে ব্যক্তিত্ব ছিলো?
সেটা মনে করা খুব কঠিন ব্যাপার। কারণ উনি আমার একমাত্র বন্ধু বা অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন না। আমরা তখন অনেকেই একসঙ্গে মেলামেশা করতাম, তা আপনি বলতে পারেন আমাদের সবার ধ্যান ধারণা এবং পছন্দ-অপছন্দ প্রায় সবারই একরকম ছিল। টেনিস খেলায় আমাদের খুব আগ্রহ ছিল। এবং আমরা অপেরায় যেতে ভালোবাসতাম। আমাদের একটা সাধারণ ধারণার কথা আপনাকে শোনালাম।
