একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন মিসেস অলিভার এখানে টাকা এলো কোথা থেকে।
পোয়ারো বললেন, টাকা এখানে আসেনি এবং সেটা যথেষ্ট আগ্রহের কারণ। টাকা স্বাভাবিকভাবেই আসে। আত্মহত্যার জন্য টাকা আসতে পারে আবার ওই কারণে টাকা খোয়াও যেতে পারে। সেখানে কোথাও বেশি পরিমাণ টাকা থাকার খবর পাওয়া যায়নি। হ্যাঁ তবে প্রেম-ঘটিত অনেক কাহিনি শুনতে পাওয়া যায় অর্থাৎ স্বামীর প্রতি অন্য নারীর আকর্ষণ আবার স্ত্রীর প্রতি অন্য পুরুষের আসক্তি। এই আকর্ষণবোধ বা আসক্তি সেটা এক তরফেই হোক বা অপর তরফেই হোক না কেন সেটা আত্মহত্যা বা খুনের পর্যায়ে গড়াতে পারে। অথচ এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। আর এই মুহূর্তে যে প্রসঙ্গে কথা বলছি সেটা অত্যন্ত আগ্রহপূর্ণ। সুতরাং সেই কারণেই আমি উদ্বিগ্ন হয়ে মিসেস বারটন কক্সের জন্য অপেক্ষা করছি।
সেই ভয়ঙ্কর মহিলাকে কেন যে আপনি গুরুত্ব দিতে চান আমি ঠিক বুঝতে পারি না। উনি যা করেছেন সেটা হল পরের ব্যাপারে নাক গলানো। আবার উনি আমাকে দিয়ে অনুসন্ধান চালাতে চান। আচ্ছা তিনি কেন আপনাকে দিয়ে অনুসন্ধানের কাজ চালাতে চাইছেন? আমার কাছে এটা কেমন যেন মনে হচ্ছে। দেখুন এটা এমন একটা ব্যাপার যা যে কোনো মানুষকেই খুঁজে বার করতে হবে। আর তিনিই হচ্ছেন যোগসূত্র।
যোগসূত্র?
হ্যাঁ, আমরা জানি না আসল সেই যোগসূত্রটা কী? আর সেটা কোথায়? অথবা সেটা কেমন? আমরা প্রত্যেকে জানি সেই আত্মহত্যার ব্যাপারে তিনি বেশি করে জানতে চান। আর যোগসূত্র হিসাবে তিনি আপনার ধমকন্যা সিলিয়া আর সেই ছেলেটিকে একত্রিত করতে চাইতেন।
আপনি তাহলে বলতে চান ছেলেটি ওঁর ছিল না?
পোয়ারো বললেন, সে ছিল একজন দত্তক পুত্র। একটি ছেলেকে তিনি দত্তকে নেন কারণ তাঁর নিজের ছেলে মারা গিয়েছিল।
ওঁর নিজের শিশু মারা গেছে? কী করে? কেন? এবং কখন?
এসব প্রশ্ন আমি নিজেই নিজেকে করেছি। উনি একটা যোগসূত্র হতে পারেন। যেমন কোনো প্রতিহিংসা নেওয়ার একটা ঘৃণা থেকে, অথবা কোনো প্রেমঘটিত ব্যাপার থেকে। হ্যাঁ ওঁর সম্পর্কে আমাকে মনঃস্থির করতেই হবে এবং যে ভাবেই হোক ওঁর সঙ্গে আমাকে দেখা করতেই হবে। আমি অপারগ, তাই সাহায্য করতে পারবো না। কিন্তু তাও চিন্তা করি যে, সেটা খুবই জরুরি।
বাড়ির কলিং বেলটা সেই সময় বেজে উঠল এবং মিসেস অলিভার পাশের ঘরে চলে গেলেন।
তিনি বললেন, এ বোধহয় সিলিয়া এলো, আপনি কিন্তু এ-ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
পোয়ারো বললেন, হ্যাঁ ঠিকই, তবে আশাকরি মেয়েটার দিক থেকে ও আমাকে নিরাশা করবে না।
কয়েক মিনিট বাদে মিসেস অলিভার সিলিয়াকে নিয়ে এলেন। মেয়েটির চোখে মুখে প্রচণ্ড সন্দেহ।
মেয়েটি বলল, আমি জানি না। যদি আমি–এরকুল পোয়ারোর দিকে তাকালো মেয়েটি এবং সঙ্গে সঙ্গে চুপ করে গেলেন।
মিসেস অলিভার বললেন, তোমাকে এমন একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই যিনি আমাকে সাহায্য করছেন। আশাকরি তোমাকেও উনি সাহায্য করবেন। তুমি যা জানতে চাইছ সেটার খোঁজ করতেই তিনি এখন ব্যস্ত। সত্য উদঘাটনে উনি একজন বিশেষ পারদর্শী। ইনি হলেন মঁসিয়ে এরকুল পোয়ারো।
ভীষণ সন্দেহের চোখে সিলিয়া তাকাল পোয়ারোর দিকে। তার চেহারা হচ্ছে ডিম্বাকৃতি মাথা, প্রকাণ্ড গোঁফ এবং ছোটো খাটো চেহারা।
সেই সন্দেহের সুরেই সিলিয়া বলল, আমার মনে হয় ওঁর নাম আমি শুনেছি।
পোয়ারো দৃঢ়স্বরে বলতে চেষ্টা করছিলেন আমার নাম অনেক লোকই শুনেছে। কিন্তু তিনি বললেন, না কারণ বহু লোক তার নাম শুনেছেন কিন্তু তারাই এখন নীরব।
আমি নিজের সম্পর্কে কিছু বলব আপনাকে তাই বসুন মাদামোয়াজেল। আমি যখন কোনো তদন্ত শুরু করি তার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাই। আমি সত্য উদ্ঘাটন করব আর আপনি সেই সত্যকেই জানতে চান এবং সেই উপলব্ধিটাই আমি আপনার মনে জাগিয়ে তুলতে চাই। আমি এর বিভিন্ন দিক আপনার সামনে তুলে ধরতে পারি যা আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি। তাই যদি মনে করেন তাহলে আমাকে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।
পোয়ারো মেয়েটির দিকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিলেন। সিলিয়া চেয়ারে বসে আগ্রহের সঙ্গে তাঁর দিকে তাকালেন। তিনি বললেন, আপনার কি মনে হয় না সত্যকে আমি পরোয়া করতে চাই?
পোয়ারো বললেন, আমার ধারণা হয়তো সেই সত্য একটা আঘাত অথবা একটা দুঃখ হতে পারে। আবার এও হতে পারে যে আপনি বলতে পারেন, কেন আমি এগুলো থেকে মুক্ত হতে পারব না? আপনি হয়তো বলতে পারেন কেন আমি জানতে চাইব? এটা এমন একটা বেদনাদায়ক উপলব্ধি যে ব্যাপারে আমি আশাব্যঞ্জক কিছুই করতে পারি না। মা-বাবার আত্মহত্যার ঘটনা আমি স্বীকার করি এবং তাদের আমি ভালোবাসতাম মা বাবাকে ভালোবাসা নিশ্চয়ই কিছু ক্ষতিকর নয়?
আজকাল কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা বিবেচনা করতে হবে বলে মনে হয় বললেন মিসেস অলিভার, তবে আমরা বলতে পারি এটা একটা বিশ্বাসের নতুন অধ্যায়।
সিলিয়া বললেন, এমন একটা পরিস্থিতিতে বাস করছি যে, অবাক হয়ে শুধু ভাবছি লোকদের কথা এই ব্যাপারটাকে নিয়ে নানান রকমের কথা বলে বিশেষ করে আমাকে যখন করুণার চোখে দেখে। বলতে পারেন কেন আমি তাদের করুণার পাত্র হব? সেই সঙ্গে কৌতূহলও, আমি বলতে চাইছি লোকেদের ধারণার ব্যাপারে। যে সব লোকের সঙ্গে আপনার সর্বদা দেখা হচ্ছে, কিংবা যে সব লোকেদের আপনি জানেন অথবা যে সব লোক আপনার পরিবারদের জানে, এরকম জীবন আমি চাই না। আমি সত্যকে জানতে চাই, সত্য যতই নিষ্ঠুর, এবং নির্মম হোক আমি সেই সত্যর মোকাবিলা করতে পার এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দয়া করে আমাকে অন্তত কিছু বলুন।
