আচ্ছা সেই দুঘর্টনাটাই কি কয়েক সপ্তাহ পরে র্যাভেন্সক্রফটদের আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছিল?
সে রকম কোনো অনুমান কখনও করা হয়নি।
আপনি বললেন যে যমজ সন্তানদের জীবনে সর্বক্ষেত্রে একইরকম ঘটনা ঘটে থাকে। তাহলে সেই সূত্র ধরলে বলতে হয় যে, র্যাভেন্সক্র নিজেই নিজেকে হত্যা করে থাকবেন হয়তো, কারণ তিনি ছিলেন যমজ বোনের একজন। আর তারপর তার স্বামী নিজেকে দোষী ভেবে আত্মহত্যা করে ছিলেন হয়তো।
গ্যারওয়ে বললেন পোয়ারোকে, আপনার মনে অনেকগুলো ধারণা কাজ করছে। অ্যালিস্টেয়ার র্যাভেন্সক্রফট-এর সঙ্গে তার শালির কোনো গোপন সম্পর্ক থাকতেই পারে । কারণ সেরকম কোনো অনুযোগ বা অভিযোগ শোনা যায়নি কারোর কাছ থেকে।
টেলিফোন বেজে উঠতে পোয়ারো উঠে দাঁড়ায় এবং বলেন মিসেস অলিভারের ফোন।
তিনি বললেন যে মঁসিয়ে পোয়ারো, আগামী কাল সিলিয়া আমার এখানে আসছে। পরে সেই ভয়ঙ্কর মহিলাটির আসার কথা। আপনি কি তাহলে চা কিংবা কোরার আমন্ত্রণ রাখতে পারবেন? আর আপনি এইরকমই তো চাইছিলেন তাই না?
পোয়ারো বললেন, হ্যাঁ ঠিক এইরকমটাই চাইছিলাম। মিসেস অলিভার বললেন, আমি একটি পুরোনো যুদ্ধের ঘোড়ার সঙ্গে মিলিত হতে যাচ্ছি। জুলিয়া কারস্টেয়ার্স তার খোঁজ আমাকে দিয়েছেন আমার ধারণা। তিনি ভুল নাম পেয়েছেন। তবে আমার মনে হয় তিনি তার সঠিক ঠিকানা পেয়েছেন।
.
এরকুল পোয়ারোর সঙ্গে দেখা করল সিলিয়া
পোয়ারো বললেন, ম্যাডাম স্যার হুগো ফস্টারের সঙ্গে কেমন বেড়ালেন?
আমার মনে হয় জুলিয়া তার নাম ভুল দিয়েছেন, তাঁর নামের শুরু ফস্টার নয় ফথার গিল।
তাহলে আপনি কি বলেন হাতিরা সব সময় নাম মনে রাখার ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য?
হাতির ব্যাপার আমি শেষ করে ফেলেছি সুতরাং হাতির কথা আর বলবেন না।
তাহলে আপনার সেই যুদ্ধের ঘোড়া?
বয়স্ক পোমানা ঘোড়া খবরের ব্যাপারে একেবারে অযোগ্য। কিছু লোক বলত বারনেট যারা তারা তাকে ওই নামে ডাকত। মালয়তে একটা দুঘর্টনায় তিনি তার ছেলেকে হত্যা করেছিলেন। তা বলে সেটা র্যাভেন্সক্রফটের খুন হওয়ার ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আবার বলছি, হাতিদের ব্যাপারটা আমি শেষ করে ফেলেছি-ম্যাডাম আপনি বেশ আপনার ধারণা ভালোভাবেই বজায় রেখেছেন।
আধ ঘন্টার ভেতর সিলিয়া এখানে আসছে। আমি ওকে বলেছি এ-ব্যাপারে আপনি আমাকে বেশ ভালোভাবেই সাহায্য করেছেন। ও কেবল আপনার সঙ্গেই দেখা করুক আপনি। কি তাই চান?
পোয়ারো বললেন, না, আপনি যেভাবে আয়োজন করেছেন সেইভাবেই ওকে পেতে চাই।
আমার মনে হয় ও বেশিক্ষণ থাকবে না। ও যদি ঘন্টাখানেকও থাকে আমরা সেই সময় প্রয়োজনীয় আলোচনা সেরে ফেলব। তারপর তো মিসেস বারটন কক্স আসছেন।
–হ্যাঁ, হ্যাঁ সেটা খুব আকর্ষণ ও কৌতূহল্লোদ্দীপক হবে। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মিসেস অলিভার এবং বললেন, আমাদের আরও বেশি উপাদান পেতে হবে এবং আরও বেশি খবর সংগ্রহ করতে হবে তাই না?
পোয়ারো প্রত্যুত্তরে বললেন, হ্যাঁ, আমরা জানি না আমরা কি চাইছি। আমরা এখনও পর্যন্ত যা জেনেছি তা হল এক বিবাহিত দম্পতি যাঁরা সুখ ও শান্তিতে বাস করছিলেন। হঠাৎ তারা আত্মহত্যা করতে গেলেন। কিন্তু এই আত্মহত্যার কারণ কি দেখাব? অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি। আবার পূর্ব-পশ্চিমে, ডাইনে-বাঁয়ে পিছিয়েও এসেছি।
মিসেস অলিভার বললেন, ঠিক বলেছেন। অনেক অনেক জায়গায় আমরা গেছি। কেবল উত্তর মেরুতে এখনও পর্যন্ত যাইনি।
পোয়ারো বললেন, উত্তর মেরুতে যেমন যাইনি তেমন দক্ষিণ মেরুতেও নয়।
সেখানে কী আছে আর আমাদের খোঁজার পালা কখন শেষে হবে?
আমাদের অনেক কিছু জানার আছে এবং অনেক কিছু পাওয়ার আছে। আমাদের খোঁজার পালা শেষ কবে বলতে পারি না। তবে একটা খালি তালিকা তৈরি করেছি আপনি কি সেটা পড়বেন?
মিসেস অলিভার তার পাশে এসে বসলেন এবং কাচের ওপর দিয়ে পড়তে থাকলেন সেটা।
পরচুল, তিনি প্রশ্ন করলেন প্রথমেই পরচুল কেন?
পোয়ারো বললেন, চার-চারটে পরচুল। খুবই আকর্ষণীয় আর এর সমাধান খুব দুঃসাধ্য ব্যাপার।
আমার অনুমান যে দোকান থেকে উনি ওগুলো কিনেছিলেন, সেই দোকান বোধহয় উঠে গেছে। এখন পরচুলের ব্যবহার কমে গেছে। শুধু বিদেশে বেড়োতে যাওয়ার সময় লোকেরা ব্যবহার করে। কারণ ভ্রমণে ঝামেলার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
পোয়ারো বললেন, শুধু পরচুলের জন্য আমার মনে আগ্রহ জাগে। তা ছাড়া অন্য অনেক কাহিনি আছে যেমন তাদের পরিবারে মানসিক বিপর্যয়ের খবর বা যমজ বোনর গল্প। মানসিক দিক দিয়ে তিনি খুবই বিপর্যস্ত ছিলেন এবং তিনি তার জীবনের বহু বছর মানসিক হাসপাতালে ছিলেন।
সেটা কোনো সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে বলে আমার মনে হয় না। আমি বলতে চাই, বললেন মিসেস অলিভার, সেই মেয়েটি এসে ওঁদের দুজনকে গুলি করে থাকবে হয়তো। তবে আমি এর কারণ কী তা খুঁজে পাচ্ছি না।
পোয়ারো বললেন, না, সেই রিভলবারের ওপর শুধু জেনারেল র্যাভেন্সক্রফট আর তার স্ত্রীর হাতের ছাপ ছিল বলে জেনেছি। মালয়তে একটি শিশুকে হয় খুন করা হয় নয় আক্রমণ করা হয়। এবং সেই কাজটা করেছিল সম্ভবত লেডি র্যাভেন্সক্রফটের যমজ বোন। সম্পূর্ণ অন্য এক নারী, একজন আয়া কিংবা একজন চাকর। আর একটা ব্যাপার হল অর্থ, আপনি নিশ্চয়ই অর্থের ব্যাপার একটু আধটু জানেন।
