এখানে যে হেয়ার ড্রেসারের ঠিকানা আছে সেটা ব্ৰন্ড স্ট্রিট। খুব ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠান। সেটার নাম হল ইউজিন এ্যান্ড রোসেনটেল। পরে তারা অন্য জায়গায় চলে যায়। তবে এই প্রতিষ্ঠান কিন্তু স্লোয়েন স্ট্রিটে তাদের ব্যাবসা চালাতে থাকে। কয়েক বছর আগে তাদের দুজন সহকারী অবসর নিয়েছে। তারা কিন্তু তখন প্রধান সহকারী হিসাবে তাদের খরিদ্দারদের সেবা করতে। লেডি র্যাভেন্সক্রফট ছিলেন তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। রোসেনটেল এখন নিজেকে হেয়ার স্টাইলিস্ট হিসাবে পরিচয় দেয় এবং সে এখন থাকে সেলটেবহ্যামে। আমার যৌবনকালে সবাই একই রকম বলত যে, একই লোক আলাদা টুপি।
পোয়ারো বললেন, আ-হা!
গ্যারওয়ে প্রশ্ন করলেন, আ-হা কেন?
এরকুল পোয়ারো বললেন, এক্ষুনি আপনি একটা মতলব আমাকে উপহার দিয়েছেন। আর কী অদ্ভুত ভাবেই না একজনের মাথায় এই মতলবটা আমি।
গ্যারওয়ে বললেন, আপনার মাথায় অনেকগুলো মতলব দানা বেঁধেছে আর সেটা। অনেক অসুবিধার মধ্যে একটা আপনার আর দরকার নেই। আমি পারিবারিক ইতিহাস থেকে যতদূর সম্ভব অনুসন্ধান করে দেখেছি যে সেখানে বেশি কিছুই নেই। অ্যালিস্টেয়ার র্যাভেন্সক্রফট ছিলেন স্কটিশ। বাবা ছিলেন যাজক আর দুজন কাকা সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। উভয়ই বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। বিয়ে করেছিলেন মার্গারেট প্রেস্টন গ্রেকে। খুব ভালো বংশের মেয়ে ছিল সে। পারিবারিক কোনো কলঙ্ক ছিল না। জানি না আপনি কোথা থেকে এই খবর সংগ্রহ করেছেন। তবে আপনার ধারণা ঠিক তিনি ছিলেন তার যমজ বোনের একজন। এবং ডোরোথি ও মার্গারেট প্রেস্টন গ্রে-র ডাক নাম ছিল ডলি এবং মলি। প্রেস্টন গ্রে থাকতেন সাসেক্স-এ ব্যাটারস গ্রীনে। যমজ দুই বোনের একই দিনে তাদের প্রথম দাঁত ওঠে। এবং একই দিনে তাদের জ্বর হত । আর তারা পোশাক পরত একই রকম। একই দিনে তাদের দুজনের বিয়ে হয়েছিল এবং উভয়েরই স্বামী সেনাবাহিনীতে কাজ করত। পারিবারিক চিকিৎসক কয়েক বছর আগে মারা যান। অতএব তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো খবর তার কাছ থেকে সংগ্রহ করার আর কোনো উপায় নেই। ছোটোবেলা একজনের মাধ্যমে একটা বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
লেডি র্যাভেন্সক্রফট-এর?
না, অন্যজনের। ক্যাপ্টেন জ্যারাকে তিনি বিয়ে করেন এবং তাদের দুটি সন্তানও হয়। ছেলেটি ছিল ছোট এবং চার বছরের। ঠেলাগাড়ি বা ওই জাতীয় কোনো একটা গাড়ির ধাক্কা লাগে ছেলেটির মাথায় তাতে সে পুকুরে পড়ে যায় এবং জলে ডুবে মারা যায়। ভদ্রমহিলার অপর মেয়েটি ন-বছরের, সে নাকি তার ছোটো ভাইকে পুকুরে ঠেলে ফেলে দেয়। এক সঙ্গে তারা খেলছিল এবং খেলতে খেলতে তারা ঝগড়া করে। কিন্তু এর মধ্যে সন্দেহ করার মতো কিছু ছিল না। আবার কিছু লোক বলে যে মা নিজেই নাকি সেই নিষ্ঠুর কাজটা করেছিলেন। রেগে গিয়ে মেয়েটির মাথায় আঘাত করেন। আবার কেউ একজন বলে পাশের বাড়ির এক মহিলা নাকি ছেলেটির মাথায় আঘাত করেছিল। কিন্তু তাই বলে আপনি যেন মনে করবেন না। এ খবর আপনার মনে আগ্রহ জাগাতে পারে। মায়ের বোন আর তার স্বামী চুক্তি করে আত্মহত্যা করার সঙ্গে এ-ঘটনার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।
পোয়ারো বললেন, না, সেরকম কিছু বলে মনে হচ্ছে না। তবে যে কেউ এর পিছনের ঘটনা জানার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে।
গ্যারওয়ে বললেন, হ্যাঁ, আমি যেমন রয়েছি যে, প্রত্যেককেই অতীতের দিকে তাকাতে হবে। কিন্তু আমি এক্ষেত্রে বলতে পারি না যে, আমরা অতীতের কথা ভেবে দেখেছি কিনা। কারণ এসব ঘটনা ঘটেছিল আত্মহত্যা করার কয়েক বছর আগে। সেই সময় এ-ঘটনার জের থাকে আইনের দিক থেকে কিছু চলেছিল।
হ্যাঁ, কেসটা আমি দেখেছি, এবং খবরের কাগজের বিবরণও আমি পড়েছি। তবে এ ব্যাপারে একটা সন্দেহ অবশ্যই থেকে যায়। এ-ঘটনায় ছেলেটির মা ভীষণভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তার ফলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেই স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি আর কখনও ফিরে আসতে পারেননি।
আচ্ছা তারা কি ভেবেছিল সেই নিষ্ঠুর কাজটা তিনিই করেছিলেন?
হ্যাঁ, তার চিকিৎসক সেইরকমই ভেবেছিলেন। প্রত্যক্ষ সাক্ষী বলতে যা বোঝায় তা কিছুই ছিল না। ভদ্রমহিলা বলেছিলেন তিনি নাকি জানালা দিয়ে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যটা দেখেছিলেন। যে, তাঁর বড়ো মেয়ে ছেলেটিকে আঘাত করে পুকুরে ঠেলে ফেলে দেয়। আমার মনে হয় না সেই জবানবন্দি তারা বিশ্বাস করেছিল।
আমার মনে হয় মানসিক রোগের কোনো চিকিৎসকের সাক্ষ্য থাকতে পারে। কি পারে না?
হ্যাঁ, কোনো হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে যেতে হয় তাকে। তিনি নিশ্চয়ই ছিলেন মানসিক রোগী, বেশ কিছুদিন তাকে চিকিৎসা করতে হয়। আমার অনুমান লন্ডনের সেন্ট এ্যান্ড্রাস হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে তার চিকিৎসা হয় এবং শেষে তাকে সুস্থ বলে ঘোষণা করা হয়। এবং বছর তিনেক বাদে তার পরিবারের সঙ্গে সাধারণ জীবনযাপন করার জন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি কি তখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন?
আমার অনুমান তিনি সব সময়ই স্নায়বিক রোগিণী ছিলেন।
সেই আত্মহত্যার ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন তিনি? নাকি তিনি র্যাভেন্সক্রফটদের সঙ্গেই থাকতেন?
না, সেই ঘটনার সপ্তাহ তিনেক আগে তিনি মারা যান। তবে মারা যাবার সময় তিনি তাদের সঙ্গে ওভারক্লিসে ছিলেন। ঘুমের মধ্যে হেঁটে বেড়োতেন তিনি, তা বেশ কয়েক বছর ধরে এই রোগে তিনি ভুগছিলেন। আবার এক এক সময় তিনি ঘুমের পিল খেতেন এবং এর ফলে ঘুমের ঘোরে রাতে এক এক সময় বাড়ির ভেতর ঘুরে বেড়াতেন। আবার কখনও কখনও বাড়ির বাইরেও চলে যেতেন। তখন কারো ক্ষেপ থাকত না। এইভাবেই তিনি পাহাড়ের ওপর পড়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা যান। পরের দিন পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাননি। তার বোন লেডি র্যাভেন্সক্রফট এই ঘটনায় দারুণভাবে মুষড়ে পড়েন, তারা পরস্পর খুব অনুরক্ত ছিলেন। তাঁর বোনের সেই আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি এত বেশি আঘাত পেয়েছিলেন যে তাঁকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
