আপনি তাদের কাছে যেতে চান না?
হ্যাঁ আমার যাবার উপায় ছিল এবং আমি যেতেও পারতাম। কিন্তু আমার ধারণা তারা আমার কাছে মুখ খুলবে না। এমন কতকগুলো প্রশ্ন করার আছে যা আমি তাদের বলতে পারব না। সিলিয়াও পারবে বলে মনে হয় না। আমরা কি জানতে চাই তারা জেনে যাবে এবং তারা মনে করে আমাদের সেটা জানা উচিত নয়। তার মানে এই নয় যে তারা খারাপ লোক। হয়তো আমাদের ভালোর জন্য আসল ঘটনার কথা চেপে গেছে বা করে থাকবে।
পোয়ারো বললেন, আপনি বেশ গুছিয়ে কথা বলেন আর আপনার কথা শুনে আমার খুব আগ্রহ হয় এবং আমার অনুমান আপনার মনে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা আছে। সিলিয়া কি আপনার সঙ্গে একমত?
আমি ওকে বেশি কিছু বলিনি। ও খুব ম্যাডি আর জেলির ভক্ত।
ম্যাডি আর জেলি সেটা কী?
ওগুলো নাম। আমার ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল। সিলিয়া তখন খুব ছোটো। যখন আমি ওকে প্রথম দেখি। আপনাকে আমি আগেই বলেছি এবং মনে আছে নিশ্চয়ই ও আমাদের পাশের বাড়িতেই থাকত। ওর একজন ফ্রেঞ্চ গভরনেস ছিল। তার নাম ছিল মাদমোয়াজেল। সে দেখতে ছিল খুব সুন্দর। আমরা ছোটোরা যখন খেলতাম সিলিয়া ও সঙ্গে থাকত। সিলিয়া তাকে ডাকত ম্যাডি বলে। তার অত বড়ো নাম সে ছোট করে দিয়েছিল। তারপর থেকে সারা পরিবার ওই ম্যাডি বলেই ডাকত।
–হ্যাঁ, দেখুন তিনি ফরাসি মহিলা বলে যতটুকু সে জানে ততটুকু আপনাকে বলবে এবং এ-ব্যাপারে অন্য কাউকে সে বলবে না।
আর অপর আর একটা মেয়ে যার কথা আপনি বলেছিলেন তার নাম?
জেলি। বুঝলেন ওই একই ধরনের। আমার অনুমান ম্যাডি সেখানে দুই কী তিন বছর থেকে পরে এই ফ্রান্সে অথবা সুইজারল্যান্ডে চলে যায়। তার পরে এই মেয়েটি আসে। আমরা তাকে ম্যাডি বলে ডাকতাম আর সিলিয়া বলতো জেলি, সে ছিল খুবই সুন্দরী এবং কৌতুকপ্রিয়া। আমরা সবাই তাকে ভালোবাসতাম। আর জেনারেল তো তার প্রতি খুব যত্ন নিতো। তারা দুজনে তাস খেলতো আরো অনেককিছু।
লেডি র্যাভেন্সক্রফট?
তারা পরস্পর পরস্পরের অনুগত ছিল। আর সেই কারণেই সে ফিরে আসে সেখান থেকে চলে যাবার পরও।
সে ফিরে এসেছিল?
হ্যাঁ, লেডি র্যাভেন্সক্রফট যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন জেলি তখন ফিরে এসেছিল কারণ তাকে দেখাশোনা করার জন্য এবং সঙ্গ দেবার জন্য। আমি বিশ্বাস করি এবং আমি নিশ্চিত সেই বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটার সময় সে সেখানেই ছিল। সত্যিকারের কি ঘটেছিল–সে সব জানে।
আপনি কি তার ঠিকানা জানেন? বা সে এখন কোথায় থাকে?
হ্যাঁ, আমি জানি সে কোথায় থাকে। তাদের দুজনের ঠিকানাই আমার কাছে আছে। আমি চিন্তা করে দেখেছি আপনি ওদের দুজনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। আমি জানি অনেক কিছু জানার আছে।-ভেঙ্গে পড়ল সে এবার।
কয়েক মিনিটের জন্য পোয়ারো তাকিয়ে রইলেন তার দিকে। পরে তিনি বললেন, হ্যাঁ এটা একটা সম্ভাবনা, অবশ্যই একটা সম্ভাবনা।
২.১ দীর্ঘছায়া
সুপারিনটেন্ডেন্ট গ্যারওয়ে এবং পোয়ারা মন্তব্যগুলো মিলিয়ে দেখলেন।
পোয়ারোর দিকে সুপারিনটেন্ডেন্ট তাকালেন। তখন তার চোখ দুটি পিটপিট করছিল। জর্জ হুইস্কি এবং সোডা রাখল। আর পোয়ারোর সামনে রাখল রক্তবর্ণের পানীয় গ্লাস।
সুপারিনটেন্ডেন্ট আগ্রহ প্রকাশ করে জিজ্ঞেস করলেন আপনার পানীয় কী?
পোয়ারো প্রত্যুত্তরে বলল, কালো আঙুরের সিরাপ। সুপারিনটেন্ডেন্ট গ্যারওয়ে বললেন, খুব ভালো। প্রত্যেকেরই একটি নিজস্ব স্বাদ থাকে, গ্যারওয়ে তার পানীয়তে চুমুক দিয়ে বললেন, এ যে দেখছি আত্মহত্যার রিপোর্ট?
সুপারিনটেন্ডেন্ট গ্যারওয়ে বললেন, এছাড়া আর কী হতে পারে? আর এটাই তো আপনি জানতে চেয়েছিলেন। বলে তিনি মাথাটা দোলালেন। আপনাকে বেশি ব্যথা দেওয়ার জন্য আমি খুবই দুঃখিত বললেন পোয়ারো। কিপলিং-এর গল্পের মতো আমি জন্তু জানোয়ার অথবা শিশু ভালোবাসি। তৃপ্তিহীন এক কৌতূহলে ভুগছি আমি। গ্যারওয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তৃপ্তিহীন কৌতূহল? কিপলিং খুব সুন্দর গল্প লিখেছেন। আর তার লেখার উপাদানও আমি জানি। এবং সেগুলো থেকে আরও জানতে পারি যে, মানুষ একবার যদি জাহাজ ধ্বংসী টর্পেডোবাহী রণপোতের চারপাশে ছোটো খাটো একটা ট্যুর দেয়, তখন দেখা যাবে অনেক বেশি কিছু সঞ্চয় করতে পারে সে, তার জ্ঞানের ভাণ্ডার একজন রয়্যাল নেভির টপ ইঞ্জিনিয়ারের থেকেও বেশি।
এরকুল পোয়ারো বললেন, আমি সব কিছু জানি না। তাই আমাকে জিজ্ঞেস করতে হবে, জানতে হবে। তাই আমার আশঙ্কা প্রশ্নের একটা দীর্ঘ তালিকা আমি আপনার কাছে পাঠিয়েছি।
গ্যারওয়ে বললেন, আমাকে কী বিহ্বল করেছে জানেন? একটা জিনিস থেকে আর একটায় আপনার লাফানোর ভঙ্গিটা। মানসিক রোগের চিকিৎসকের যদি রিপোর্ট হয় তাহলে টাকাটা কীভাবে এলো? বা কেই বা টাকাটা পেল। অথবা কেউ কি এই টাকা আশা করেছিল, পায়নি? বিশেষ করে মেয়েদের চুল পরিচর্যার সরঞ্জাম, পরচুল, অবশ্যই পরচুল যোগানদারের নাম প্রসঙ্গক্রমে এগুলো এসে পড়ে।
পোয়ারো জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এসব জিনিসগুলো জানেন? আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি ওগুলো আমাকে বিস্ময়ে অভিভূত করে ফেলে।
খুব ভালো কথা, এটা একটা ধাঁধার মতো। এবং এ-বিষয়ে আমরা পূর্ণ মন্তব্য করেছি। এর কোনোটাই যদিও ভালো বলে মনে হয়নি আমাদের। তবুও ফাইলগুলো রেখে দিয়েছে যদি কেউ সেখানে এসে দেখতে চায় সেই জন্য। এই বলে টেবিলের ওপর একটা কাগজ রাখলেন তিনি।
