পোয়ারো প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা আপনার কি একবারও মনে হয়নি যে, সত্যিকারের যে ঘটনা ঘটেছে তা জানা খুবই কষ্টকর। এবং যদি সেটা অসম্ভব কিছু হয়?
মানে আপনি বলতে চান, ওঁদের মধ্যে কে কাকে খুন করেছিলেন বা কেন খুন করেছিলেন এবং তারপর নিজে আত্মহত্যা করেছিলেন এই তো? অবশ্য যদি না অন্য কোনো ব্যাপার থেকে থাকে।
সেই অন্য ব্যাপারটা ঘটেছে অতীতে। এখন সেটা নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামানোর কি কোনো দরকার আছে?
এটা কোনো ব্যাপারই হওয়া উচিত ছিল না যদি না আমার মা অহেতুক নাক না গলাতেন। সিলিয়া যে এ নিয়ে কোনোদিন কিছু ভেবেছে আমার মনে হয় না। কারণ এ-ঘটনা ঘটার সময় সে সুইজারল্যান্ডে স্কুলে ছিল। আর এব্যাপারে কেউ ওকে বিশেষ বলেওনি। আপনি নিশ্চয়ই এটা স্বীকার করবেন কৈশোর বয়সে যে ঘটনা ঘটে আর লোকেরা তাকে সে ব্যাপারে যা বুঝিয়ে থাকে সে সেটাকেই মেনে নেয়।
আপনারা তাহলে অসম্ভবকেই জানতে চাইছেন?
ডেসমন্ড বলল, আপনাকে আমি খোঁজ করতে বলেছি।
অনুসন্ধান চালাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। বললেন পোয়ারো। প্রত্যেকেরই একটা কৌতূহল থাকে বিয়োগান্ত কোনো ঘটনা যার থেকে দুঃখ হতে পারে। আবার বিস্ময়ের কারণ ঘটতে পারে, কেউ হয়তো অসুস্থ হয়ে উঠতে পারে। মানুষের দুঃখ, বেদনা ব্যক্তিগত ব্যাপার হলেও যে কোনো মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হল কৌতূহল জাগা। কিন্তু এত ঘটনার পরেও আমি বলব অতীতের স্মৃতি নতুন করে মনে করাটা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আর তার কোন প্রয়োজনই নেই। ডেসমণ্ড বলল কিন্তু দেখুন…
তাছাড়া তার কথার মাঝে বাধা দিয়ে পোয়ারো বলে উঠলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর বাদে অতীতের সেই ঘটনার প্রকৃত তথ্য খুঁজে বের করা কীরকম কঠিন এবং অসম্ভব ব্যাপার এই বিষয়ে আপনি নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন?
সরাসরি প্রতিবাদ করে উঠে ডেসমন্ড বললেন, দুঃখিত, এক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে আমি একমত হতে পারছি না। সেটা খুবই সম্ভব আমার মনে হয়।
খুব সম্ভব, একথা কেন আপনার মনে হল জানতে পারি কি? বললেন পোয়ারো।
কারণ—
সেই কারণটা কি আপনার জানা আছে?
আমার ধারণা এখনও এমন কিছু কিছু লোক আছে যারা সেই ঘটনার কথা জানে। এমন কিছু লোক আছে যারা আপনাকে কিছু বলার বলে মনে করলে তারা বলবে। তারা আমাকে কোনো কিছু বলবে না এবং সিলিয়াকেও না। আপনিই একমাত্র পারেন তাদের কাছ থেকে খোঁজ খবর নিতে।
পোয়ারো বললেন, এটা আকর্ষণীয় বটে–
ডেসমন্ড বলল, অতীতের যা ঘটনা শুনেছি সবই ভাসাভাসা, কেউ একজন বলেছিলেন লেডি র্যাভেন্সক্রফট বেশ কয়েক বছর একটা মানসিক হাতপাতালে ছিলেন। আবার কেউ বলেন তিনি যখন তরুণী ছিলেন একটি শিশু মারা যায় বা এ-ধরনের কিছু হবে। সেই আঘাতই তাকে বিভ্রম করে তোলে।
আপনি নিশ্চয়ই এ-ঘটনা নিজের চোখে দেখেননি?
না, আমার মা বলেছেন, আমার মনে হয় তিনি খবরটা শুনেছিলেন মালয়েতে। সেখানকার লোকের মুখে গল্প শোনা।
আপনি জানতে চান সেগুলো সত্য না মিথ্যা ছিল?
যেহেতু বহু বছর আগেকার ঘটনা তাই জানি না কার কাছে যাব, কাকে জিজ্ঞেস করব। আর যতক্ষণ না আমরা সেই কারণটা খুঁজে বার করতে পারব সেই প্রশ্নটা থেকেই যাবে। কি ঘটেছিল আর কেনই বা ঘটেছিল।
পোয়ারো বললেন, আমি মনে করি অবশ্য সন্দেহও বলতে পারেন। সিলিয়া তার মায়ের অসুস্থতার প্রভাব তার মধ্যে প্রভাবিত হতে পারে না। এটা যতদিন বা যতক্ষণ নিঃসন্দেহ হচ্ছেন ততদিন বা ততক্ষণ পর্যন্ত সে আপনাকে বিয়ে করতে রাজী হবেন না। এই আপনি বলতে চাইছেন তো?
যেভাবেই হোক এটা তার মাথায় ঢুকে গেছে। আর সম্ভবত সেটা তার মাথায় ঢুকিয়েছে আমার মা, এবং আমার মা সেটা বিশ্বাস করেন। আমি মনে করি না শুধু খোগল্প ছাড়া এই বিশ্বাসের সত্যি কোনো কারণ আছে।
পোয়ারো বললেন, তদন্তের পক্ষে এটা খুব সহজ হবে বলে মনে করি না।
আমি কিন্তু আপনার সম্পর্কে অনেক প্রশংসা শুনেছি। যেমন আপনি কোনো ঘটনার ব্যাপারে খুব বুদ্ধির সঙ্গে সত্য উদ্ঘাটন করেন আবার লোকেদের আপনি প্রশ্ন করেন আবার তাদেরকে দিয়েই সত্য ঘটনা বলিয়ে নেন।
আপনি কাকে প্রশ্ন করতে বলেন, বলুন। আপনি মালয়ের লোকেদের কথা বলেছেন কিন্তু তাদের উল্লেখ আপনি কিন্তু করছেন না। আপনি সেই সব মহিলাদের কথা বলছেন যারা সেই সময় সৈনিক স্বামীদের কর্মক্ষেত্র মালয়ে থাকত।
আমার মনে হয় না সেগুলো কোনো কাজের হবে। যারা এই সব গল্প করত, আলোচনা করত, তারা নিশ্চয়ই ভুলে গিয়ে থাকবে যেহেতু তা অনেক দিনের আগের ঘটনা। খুব সম্ভব তারা সকলেই হয়তো মারা গেছেন। আমার আরও মনে হয় মা সব ভুল খবর সংগ্রহ করেছিলেন এবং তিনি যা শুনেছিলেন তার থেকেও বেশি তার নিজের মনগড়া কাহিনি তৈরি করেছিলেন।
আপনি কি এখনও মনে করেন আমি সমর্থ হলে
হ্যাঁ, ভালো কথা, আপনি বরং মালয়েতে গিয়ে কাউকে প্রশ্ন করুন। এখন বোধহয় সেইসব লোকেদের মধ্যে কেউই নেই।
তার মানে আপনি আমাকে নামগুলো দেবেন না?
না, না, সেইসব নামগুলো নয়, বললেন ডেসমন্ড।
তাহলে কি অন্য কোনো নাম আছে?
ঠিক আছে, আমার যা মনে আছে তাই বলি। আমার ধারণা দু-জন লোক সেই ঘটনার কথা জেনে থাকতে পারে। আর কেনই বা ঘটেছিল তা তারা জেনে থাকতে পারে কারণ তারা তখন সেখানে ছিল।
