পোয়ারো বললেন, এখন বুঝলাম।
ডেসমন্ড বলল, আমি আপনাকে কী করতে বলব কিছুতেই আপনাকে বোঝাতে পারছি না।
আপনার মনে কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছে। এবং তার উত্তর খুঁজে বার করার জন্য আমার কাছে এসেছেন তাই তো?
হ্যাঁ, আমার তাই মনে হয়।
আপনি কতটুকু জানেন আর তার ঝামেলাই বা কীরকম আমি কিছুই জানি না, পোয়ারো বললেন। আপনার সম্পর্কে একটু আধটু জানি বিস্তারিতভাবে নয়। মিস র্যাভেন্সক্রফটের সঙ্গেও আমার দেখা হয়নি। ওঁর সাথে কিন্তু আমি দেখা করতে চাই।
হ্যাঁ, আমি ভাবছিলাম আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য। ওর সঙ্গে আপনার কথা বলা ভালো।
বুদ্ধিমানের মতোই কাজ করেছেন। আচ্ছা আপনি কি কোনো ব্যাপারে অসুখী বা অসুবিধায় পড়েছেন কোনো বিষয়ে? পোয়ারো জিজ্ঞেস করলেন।
না, না, তেমন কোনো অসুবিধায় পড়িনি। ব্যাপারটা কী ঘটেছে জানেন, অনেক বছর আগে সিলিয়া তখন ছোটো অথবা বলা যেতে পারে সে তখন স্কুলের মেয়ে। তখনই তার জীবনে একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যায়। সে রকম ঘটনা যে কোনো সময়েই ঘটতে পারে। দু-জন অভিভাবক হতাশায় আত্মহত্যা করে বসেন। এই ব্যাপারে কেউ খুব বেশি জানে না। যা ঘটনা ঘটেছিল তা নিয়ে অন্য লোকদের ছেলেমেয়ের চিন্তার কোনো কারণ থাকতে পারে না। আমি বলতে চাইছি এই বিষয় নিয়ে আমার মায়ের মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
পোয়ারো বললেন, কেউ কেউ এমন বেশি আগ্রহ দেখায়, যেমন কারোর জীবনের সফরে, যার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কই নেই। এমন কি সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার বলেও গণ্য হতে পারে না।
কত বছর আগে এঘটনা শেষ হয়ে গেছে। এই ব্যাপারে কেউ খুব বেশি জানেও না। অথচ আমার মা আজও এ ব্যাপারে তিনি খুঁটিনাটি সব কিছু তথ্য জানতে চান এবং এর মাধ্যম হল সিলিয়া। আর সিলিয়াকে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে যে, তিনি জানেন না, ও আমাকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক কিনা।
আপনি? আপনি নিশ্চয়ই জানেন ওকে আপনি বিয়ে করতে চান। কি চান না?
হ্যাঁ, অবশ্যই আমি জানি। এবং ওকে বিয়ে করার জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু জানেন ও ভীষণ মুষড়ে পড়েছে। কারণ ও জানতে চায় কেন সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেল এবং ওর বিশ্বাস আমি সব কিছু জানি। এবং আরও মনে করে আমার মা এ-ব্যাপারে কিছু জানেন বা কিছু শুনে থাকবেন।
পোয়ারো বললেন, আপনার জন্য আমার যথেষ্ট সহানুভূতি আছে। আপনি বুদ্ধিমান যুবক এবং আপনি মেয়েটিকে বিয়ে করতে চান। এতে কোনো বাধার কারণ দেখতে পাচ্ছি না। অনেক বছর আগে যে ঘটনা ঘটেছিল তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নেই আর ছিলও না। এই ধরনের বেদনাদায়ক ঘটনার ব্যাখ্যা কেউ কখনও জীবনে পায় না।
সেটা ছিল একটা স্রেফ চুক্তি মাফিক আত্মহত্যা তার বেশি কিছু হতে পারে না। কিন্তু
আপনি কি তার কারণ জানতে চান?
হ্যাঁ, সেই রকমই। এই ব্যাপারে সিলিয়া খুব উদ্বিগ্ন। অবশ্যই আমার মাও উদ্বিগ্ন। এক্ষেত্রে কারোর কোনো দোষ বা ত্রুটি ছিল। কিন্তু মুশকিল হল এর বিন্দুবিসর্গ আমরা জানি না। বিশেষ করে আমার জানার কথা নয় কারণ সেই সময় আমি সেখানে ছিলাম না।
আপনি কি তখন জেনারেল আর লেডি র্যাভেন্সক্রফট এবং সিলিয়াকে চিনতেন না?
প্রায় আমার সারা জীবন ধরে আমি সিলিয়াকে জানি। আমার স্কুলের ছুটির সময় আমি আমার অভিভাবকের কাছে চলে আসতাম আর ওরা পাশের বাড়িতেই থাকত। সেইজন্য খুব ছোটবেলা থেকেই আমাদের আলাপ। আমরা পরস্পরকে পছন্দ করতাম এবং এক সঙ্গে থাকতাম। তারপর দীর্ঘ কয়েক বছর আর ওর সাথে দেখা হয়নি। ওর বাবা মা মালয়েতে থাকতেন আর আমার অভিভাবকেরাও। আমার ধারণা তারা আবার পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করতেন ওখানে। আপনাকে বলা হয়নি আমার বাবা মারা গেছেন। আমার মা যখন মালয়েতে ছিলেন তখন তিনি কিছু একটা শুনেছিলেন আর সেটা এখনও তিনি মনে রেখেছেন। ওঁদের সম্পর্কে গবেষণাও করছেন। তবে আমি নিশ্চিত তার চিন্তাধারা কখনই সত্য হতে পারে না। আর এরজন্য সিলিয়াকে উদ্বিগ্ন করে তোলার জন্য বদ্ধপরিকর। তারজন্যই আমি জানতে চাই সত্যিকারের কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যার জন্য ওঁরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন? এবং সিলিয়াও জানতে চায় কী ঘটেছিল এবং কেন ঘটেছিল আর কি ভাবেই বা।
পোয়ারো বললেন, আপনারা উভয়েই যে সেটা অনুভব করেন অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমার মনে হয় আপনার থেকেও সিলিয়া বেশি উদ্বিগ্ন এবং ওর মনটা বিঘ্নিত। বর্তমানে এখন অতীতের সেই ঘটনা নিয়ে চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনারা উভয় উভয়কে বিয়ে করতে চান। তাহলে অতীতের সঙ্গে আপনার কিসের সম্পর্ক? ওর বাবা-মা চুক্তি মাফিক আত্মহত্যা করেছিলেন কিনা বা প্লেন দুঘর্টনায় মারা যাবার পর অপরজন আত্মহত্যা করলেন কিনা, এইসব বিষয় নিয়ে আপনাদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। আর যদি বা ওঁদের বিবাহোত্তর জীবনে প্রেমঘটিত কোনো ঘটনা ঘটে থাকে এবং তার জন্য যদি তারা অসুখী হন এ নিয়ে কি আপনাদের কোনো উদ্বেগের কারণ ঘটতে পারে?
ডেসমন্ড বারটন কক্স বললেন, আপনি যা বললেন তা সুচিন্তিত মতামত এবং খুবই খাঁটি কথা। কিন্তু সিলিয়ার মনের মধ্যে কোনো ঘটনা একবার ঢুকলে ওর ভেতরটা তোলপাড় করে উঠলেও মুখে সেটা প্রকাশ করবে না। এবং তখন ও খুব কম কথা বলে।
