তারপরেই পরপর দুটো গুলির আওয়াজে আর স্পষ্টভাবে খান খান হয়ে গেল রাতের নিস্তব্ধতা।
.
লোরেনের অ্যাডভেঞ্চার
ঠিক রাত সাড়ে নটার লোরেন শুতে গিয়েছিল। একটা বাজতে দশ-এ তার ঘুম ভাঙলো। কয়েকঘন্টা ঘুমিয়ে তার শরীর ঝরঝরে হয়ে গেছে।
ঐ ঘরে ওর সঙ্গে কুকুরদুটোও ঘুমোচ্ছিল। ওদের একজন সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে লোরেনের দিকে তাকালো।
-চুপ করে ঘুমো, লার্চার। কুকুরটা মাথা নিচু করে তাকিয়ে রইলো।
লোরেন ওদের কথা মতো যুক্তি মেনে চুপ করে থাকাই ঠিক ভেবেছিল। কিন্তু ওর মুখ দেখে, ওর শক্ত ছোট্ট চোয়লের দৃঢ়তার ছাপ দেখলে যে কেউ বুঝে নিতে পারবে ওর মনের জোর কতখানি।
একটা টুইডের কো আর স্কার্ট পরে পকেটে সে চট করে পুরে নিলো একটা টর্চ। হাতির দাঁতের হাতলের ছোট্ট একটা পিস্তল নিলো।
লোরেনকে তৈরি হতে দেখে লার্চার সামনে এসে ল্যাজ নাড়তে লাগলো।
-না, লার্চার, এখন নয়। চুপ করে ঘরে থাকো।
বাইরে বেরিয়ে দরজা বন্ধ করলো সে। তারপর বাইরে একটা দরজা দিয়ে বেরিয়ে টুসীটারে উঠে বসলো।
কয়েক মিনিটের মধ্যে সে এসে পৌঁছালো ওয়াইভার্ন অ্যাবীর বাগানে।
ধীর পায়ে বাড়িটার দিকে এগোলো। দুটো বাজলো কোথাও। বারান্দার কাছে আসতেই তার বুকের ওঠানামা বেড়ে গেল। বারান্দায় উঠে চারিদিকে সজাগ দৃষ্টি দিলো।
আচমকা তার পায়ের সামনে একটা কি এসে পড়লো। সে নিচু হয়ে তুলে নিলো। বাদামী রঙের একটা কাগজের প্যাকেট। ওপর দিকে তাকালো।
ওর ঠিক মাথার ওপরের দিকে খোলা জানলা দিয়ে একটা পা বেরিয়ে এলো আর একটা লোক আইভি লতা বেয়ে নামতে শুরু করলো।
এক মুহূর্ত দেরি না করে প্যাকেট হাতে নিয়ে লোরেন ছুটতে লাগলো। পেছন থেকে ভেসে আসা হুটোপাটির শব্দ ও তখনও শুনতে পাচ্ছে। ভয়ে সিঁটিয়ে পড়িমড়ি করে তখন ছুটছে লোরেন। বারান্দা পেরোতে গিয়ে সে বাধা পেলো। একজন স্বাস্থ্যবান পুরুষ ওকে জাপটে ধরেছে।
–ভয় নেই, সুপারিন্টেন্ডেন্টের দয়ার্দ্র কণ্ঠস্বর শোনা গেল।
লোরেন হাঁফাতে হাঁফাতে বললো, তাড়াতাড়ি চলুন, ওরা বোধহয় পরস্পরকে মেরে ফেলেছে।
সেই সময় দুবার গুলির আওয়াজ ভেসে এলো।
দুজনে দ্রুত পায়ে লাইব্রেরির খোলা জানলার সামনে এসে দাঁড়ালো। ব্যাটল টর্চ জ্বালাতে গিয়ে ধাক্কা খেল।
জানালার প্রায় নিচে রক্তের স্রোতের মধ্যে পড়ে আছে জিমি থেসিজারের অচৈতন্য দেহ, ডানহাতটা অদ্ভুতভাবে বাঁকানো।
লোরেন নিজেকে সংযত রাখতে পারলো না। কান্না জড়ানো গলায় বললো, ও মনে গেছে। জিমি–জিমি মরে গেছে।
–উনি মারা যাননি। ঠিক আছে। ব্যাটল ওকে আশ্বস্ত করলেন। দেখুন আলোটা জ্বালতে পারেন কিনা।
লোরেন ঘরে ঢুকে সুইচ টিপতেই সারা ঘর আলোকিত হয়ে উঠলো।
ততক্ষণে দরজার বাইরে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন কণ্ঠের কোলাহল। তারা ঘরে ঢুকতে চাইছিল।
একটা রুমাল বের করে জিমির ডান হাতে যেখানে গুলি লেগেছে, সেখানে বেঁধে দিতে দিতে ব্যাটল বললেন–বেশি রক্তপাত হওয়ার জন্য উনি জ্ঞান হারাননি। পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছেন।
দরাজায় তখন উধ্বশ্বাসে করাঘাত হচ্ছে। ব্যাটল ঘরের চারিদিকে একবার খুঁটিয়ে দেখে নিলেন। একটা অটোমেটিক পিস্তল জিমির পাশে পড়েছিল। সেটা তুলে টেবিলের ওপর রেখে দরজার খিল খুলে দিলেন।
একসঙ্গে কয়েকজন লোক ঢুকে পড়লো। জর্জ লোম্যাক্স বললেন, সুপারিন্টেভেট ব্যাটল, আপনি এখানে? মানে, কি হয়েছে?
মেঝেতে পড়ে থাকা জিমির দিকে তাকিয়ে বললো-হা ঈশ্বর!
দামী রাত্রিবাস পরিহিতা লেডি কুট বললেন–উঃ বেচারী।
বান্ডল বললো লোরেন!
হের এবারহোর্ড মন্তব্য করলেন–হা ভগবান!
স্যার স্ট্যানলি ডিগবিহা ঈশ্বর, এসব কি?
অত রক্ত দেখে বাড়ির এক পরিচারিকা নরম উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, উঃ কি রক্ত দেখেছেন।
ততক্ষণে প্রধান পরিচারক অন্যান্য ঝি-চাকরদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভিড়টা হালকা করে নিলো।
জর্জ লোম্যাক্স বলে উঠলেন–ব্যাটল, কি ঘটেছে?
ব্যাটল বললেন–এখানে একটা ইয়ে মানে, আপনারা যে যার ঘরে শুতে যান দয়া করে। তারপর একটু সহজ ভাবে বললেন, এখানে একটা ছোট দুর্ঘটনা ঘটেছে।
-হা মানে এটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবাই শুতে গেলে খুশী হবো।
কিন্তু কেউ ঘর ছাড়তে রাজী নয় বোঝা গেল।
এই সময় জিমি নড়েচড়ে উঠে বসলো-হ্যাল্লো, ও গম্ভীর গলায় বসে উঠলো, কী হয়েছে?
এবার ঘরের চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।
–আপনারা লোকটাকে ধরতে পেরেছেন? আইভি লতা বেয়ে লোকটা যখন উঠছিল তখন আমি জানলার তলায় ছিলাম। ধরে ছিলাম লোকটাকে প্রচণ্ড মারামারি করেও
-এই সেই খুনী বদমাইস নিশ্চয়ই, লেডি কুট মন্তব্য করলেন।
–মনে হছে, আমরা সব ভণ্ডুল করে দিয়েছি, যা ষাড়ের মতো শক্তি লোকটার।
ঘরের চেহারা দেখলে তা মালুম পাওয়া যায়।
জিমি কি যেন খুঁজছিল। হঠাৎ বললল–আমার লিওপোল্ড?
ব্যাটল টেবিলের ওপরে রাখা পিস্তলটা ইঙ্গিত করলেন। আশা করি এটাই আপনার লিওপোল্ড?
–হ্যাঁ, জিমি বললো, এটার ওপর ভরসা করেছিলাম খুব। ঠিক মত ট্রিগার টানতে পারলে একটা কেন, আরো কয়েকটা গুলি চালানো যেত। লোকটা জানলার কাছে দৌড়ে যেতে আমি গুলি ছুঁড়ি প্রথমে। সে ঘুরে আমাকে গুলি করে।
স্যার স্ট্যানলি ডিগবি এতক্ষণে শিরদাঁড়া সোজা করলেন।
–লোম্যাক্স, ওরা সেটা নিয়ে পালায়নি তো? হা ভগবান!
