দোহাই ব্রিজেট, একটু সাবধানে থেকো।
ব্রিজেট লিউকের দিকে তাকালো। লিউক বললো–কিছুক্ষণ আগেই আমার আম্বলবির মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। আম্বলবির মেয়ে বলেছিলো যে, মিস পিঙ্কারটন তোমার সম্পর্কে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
লিউকের কথা শুনে ব্রিজেট ধপ করে বসে পড়লো।
কী বললে? আমায় নিয়ে মিস পিঙ্কারটনের উদ্বেগ ছিলো?
রোজ আম্বলবি তো সেই কথাই বললো।
রোজ আম্বলবি বললো?
হ্যাঁ।
ও আর কী বলেছে?
আর কিছু না।
তোমার ঠিক মনে আছে তো?
হুবহু।
কিছুক্ষণ চুপ করে ব্রিজেট বললো-তাহলে এই ব্যাপার।
মিস পিঙ্কারটনের আস্ববিকে নিয়ে উদ্বেগ ছিলো এবং ভদ্রলোক মারাও গেলেন। এখন শুনি তোমায় নিয়েও তার দুশ্চিন্তা ছিলো—
হেসে উঠলো ব্রিজেট। হঠাৎ হাত হাত-পা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো-ভেবো না, শয়তান তার নিজের ব্যাপারে খুব হুশিয়ার থাকে।
***
মেজর হর্টনের পারিবারিক জীবন
লিউক একটা চেয়ারে বসে বললো–বেশ ভালো ব্যবস্থাই করে দিয়েছেন; তবে আপনার অনেকটা সময় আমার জন্য নষ্ট হলো।
মিঃ জোনস বললেন–ও কিছু নয় মিঃ ফিৎস্ উইলিয়াম–আমাদের এখানে কোনো বাইরের লোক এলে আমরা খুব আনন্দিত হই।
আপনাদের এই জায়গা কিন্তু ভারী অদ্ভুত। নানারকম আচার-বিচার আর সংস্কারের আড়তখানা।
মিঃ জোনস বললো যে, কুসংস্কার দূর করার জন্য যে উপযুক্ত শিক্ষার প্রয়োজন, তেমন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন নেই।
মিঃ জোনস্ লিউকের কথায় একটা আঘাত পেয়ে বললেন–লর্ড হুইটফিল্ড এখানকার জন্য প্রচুর করেছেন; এখানকার ছেলেমেয়েদের যাতে কোনো অসুবিধায় না পড়তে হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখে উনি নানারকম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন।
ওঁর শৈশবের বঞ্চনা কিন্তু এই বিপুল সম্পদ আয়ত্ত করার পথে বাধা হয়নি।–লিউক বললো।
ওঁর যোগ্যতা ছিলো, তাই সব বাধা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন।
যোগ্যতা না ভাগ্য?
একই প্রসঙ্গের জের টেনে লিউক বলে–এই কার্টারের কথাই ধরুন না। ও হয়তো পুরো সপ্তাহের সাতদিনের মধ্যে ছদিনই রাতে মত্ত অবস্থায় সেই পুলের ওপর দিয়ে ফিরতো; অথচ দেখুন, হঠাৎ এক রাতে পা হড়কে নদীতে পড়ে প্রাণটা দিলো। সেই একই ব্যাপার–কপালের লেখা।
ম্যানেজার বললেন–কিছু কিছু লোকের তাতে মঙ্গলই হয়েছে।
তার মানে?
মানে ওর স্ত্রী এবং মেয়ে বেঁচে গেছে।
তা অবশ্য ঠিক।
একজন কেরানী হাতে কাগজপত্র নিয়ে ঢুকলো। লিউককে দিয়ে দুএকটা সই করিয়ে ওর হাতে চেকবই দিলো। লিউক চেকবইটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
অনেক উপকার করলেন। এবারের ডারবীর খেলায় আমার ভাগ্যটা সুপ্রসন্ন ছিলো। আপনি কিছু পেয়েছেন না কি?
মিঃ জোনস্ বললেন উনি জুয়া খেলেন না–তার কারণ, মিসেস জোস্ ঘৌড়দৌড় বিশেষভাবে অপছন্দ করেন।
এখান থেকে কেউ যান কি?
মেজর হর্টন যান, উনি পাকা রেসুড়ে। এছাড়া, মিঃ অ্যাবটও প্রায়ই যান।
লিউক ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে একটা সিগারেট ধরালো। ওর সন্দেহভাজন তালিকা থেকে মিঃ জোকে বাদ দেওয়াই সমীচীন মনে করলো। সে যাই হোক এখানে আসার পরিশ্রম বৃথা যায়নি লিউকের। উকিল মিঃ অ্যাবট এবং মেজর হর্টন–দুজনেই ডারবী খেলার দিন উইচউডে ছিলেন না। সুতরাং দুজনেই সেদিন লণ্ডনে গিয়ে মিস পিঙ্কারটনকে চাপা দেওয়ার সুযোগ ছিলো।
যদিও লিউক ডাঃ টমাসকে আর সন্দেহ করে না–তবুও ওর মনে হলো যে, সেদিন যদি ডাঃ টমাস উইচউডেই থেকে থাকেন তা হলে ও যেন আরও খুশী হয়।
এবার রইলো এলসওয়ার্দি। এলসওয়ার্দি কি ডারবী খেলার দিন উইচউডেই ছিলো? যদি তাই হয় তাহলে ওর ওপর থেকে সন্দেহটা অনেক হাল্কা হয়ে যায়।
নিজের গাড়িটা নিয়ে লিউক হাই স্ট্রীটের পিওয়েল গ্যারেজের দিকে রওনা হলো। গাড়িটার দুএকটা দোষ সারাবার ছিলো। লিউক একজন মিস্ত্রী দিয়ে গাড়িটা ঠিক করাতে করাতে গাড়ির ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে লাগলো।
কে যেন দূর থেকে ডাকলো-জিম, একবার এদিকে এসো।
জিম হারভে! তাহলে এই সেই ছেলে যে অ্যামিকে ভালোবেসেছিলো। ছেলেটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে এলো।
লিউক জিজ্ঞেস করলো–এবারের ডারবী খেলায় কিছু পেলেন?
না স্যার, ক্ল্যারিগোল্ডের ওপর বাজি ধরেছিলাম।
দ্বিতীয় জুজুবের ওপর খুব বেশি কেউ বাজি ধরেনি তাই না?
ঠিকই বলেছেন। কাগজে যারা ভবিষ্যদ্বাণী করে, তারা পর্যন্ত বলেছিলো যে জুজুবের জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই।
লিউক বললো–ঘোড়দৌড় খুব অনিশ্চিত খেলা; কখনো ডারবীর খেলা দেখেছেন?
না স্যার, তেমন কপাল থেকে আসিনি।
সহানুভূতি জানিয়ে লিউক বিদায় নিলো। তালিকা থেকে জিম হারভেও বাদ পড়লো। লিউক বাড়ির পথ ধরলো। আগের বারের মতো এবারেও একই জায়গায় মেজির হর্টনের সঙ্গে দেখা হলো।
আমার নাম হর্টন-মেজর হর্টন। কালকে আপনার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি মানর হাউসে। টেনিস খেলার আমন্ত্রণ, মিস কনওয়ে আমন্ত্রণ করেছেন। উনি আপনার বোন–তাই না?
হা।
লিউক বললো–সুন্দর কুকুর–কী বলেন? কিন্তু এটা মেয়ে। আমার পছন্দ বুলডগ। এই তো কাছেই আমার বাড়ি–আসুন না, একটু বিয়ার-টিয়ার খাবেন?
রাজী হয়ে লিউক হাঁটতে আরম্ভ করলো মেজরের সঙ্গে। বাড়িতে দরজায় তালা ছিলো না; দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে একটা ঘরের ভেতর দিয়ে ওরা কুকুরের গন্ধে ভরা ছোটোখাটো একখানা ঘরে পৌঁছলো। ঘরের প্রতিটি দেওয়ালে সারি সারি বইয়ের তাক। বইয়ের তাকে তাকে বিভিন্ন সাইজের রুপোর কাপ সাজানো। ম্যাণ্টপেসের ওপর একখানা বড় তেলরঙে আঁকা ছবি।
