কিন্তু ঐ মৌমাছিটা? ওটাকে তো আর অস্বীকার করা যাবে না। উড়ন্ত মৌমাছির দিকে তাকিয়ে থাকতে গিয়ে পলক ফেলতে ভুলে যায় ভেরা।
ওটার সঙ্গে মিস্ ব্লেন্টের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। দৃঢ়স্বরে বললেন ডঃ আর্মস্ট্রং এটা খুনীর একটা চাল। মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনাকে বদলে দেবার জন্য এক্ষেত্রে মৌমাছির সাহায্য নিয়েছে সে।
খুনী যত চালাকই হোক না কেন শুন্যে হাত পাকিয়ে বললেন ওয়ারগ্রেভ আমাদের বিচার বুদ্ধির কাছে হার মানতে বাধ্য সে। এখন বলুন, আমাদের মধ্যে কে সঙ্গে এনেছেন ইনজেকশনের সিরিঞ্জ।
আমি হ্যাঁ, আমিই এনেছি। চার জোড়া জ্বলন্ত চোখের চাহনি উপক্ষো করে বললেন আর্মস্ট্রং শুধু এখানে নয়, আমি যেখানেই যাই না কেন, সঙ্গে করে একটা ইনজেকশনের সিরিঞ্জ নিয়ে যাই।
বেশ তো কোথায় আছে, সেটা একবার দেখাতে পারেন।
কেন, আমার ঘরে সুটকেসের মধ্যে আছে।
চলুন ওয়ারগ্রেভ তার পিঠের ওপর হাত রেখে বললেন, আপনার ঘরে গিয়ে সেটা দেখে আসা যাক।
নিঃশব্দে সাবধানে পা ফেলে ফেলে পাঁচজন উঠে এলেন দোতলায় ডঃ আর্মস্ট্রং এর ঘরে। সবার দৃষ্টি স্থির তখন আর্মস্ট্রং এর সুটকেসের ওপর। তন্ন তন্ন করে খুঁজতে গিয়ে তার ব্যবহৃত সব কিছুই পাওয়া গেলো, কিন্তু পাওয়া গেলো না কেবল সেই ইনজেকশনের সিরিঞ্জটা। ক্রোধ সামলাতে পারলেন না আর্মস্ট্রং রাগে চিৎকার করে উঠলেন, মিস ব্লেন্টকে খুন করার জন্যে নিশ্চয়ই খুনী আমার সিরিঞ্জটা লোপাট করে দিয়েছে।
ওদিকে চারজোড়া আগুন ঝরা চোখের দৃষ্টি স্থির নিবন্ধ হলো আর্মস্ট্রং এর ওপর। তারই মধ্যে যতোটা সম্ভব নিজেকে সংযত রেখে বললেন ওয়ারগ্রেভ, আমি আগেও বলেছি, আবার এখনো বলছি, খুনী আমাদেরই এই পাঁচজনের মধ্যে একজন। অর্থাৎ চারজন নিরপরাধ আর একজন অপরাধী। এ অবস্থায় এখন আমাদের সকলের উচিৎ যে যার নির্দোষিতা প্রমাণ করা। তারা কেন খুনী নয়, যুক্তি তর্ক দিয়ে অবশ্যই বোঝাতে হবে। নিছক কর্তব্যের খাতিরে আপনাকেই প্রথমে জিজ্ঞাসা করছি–এখন বলুন কি কি ওষুধ আছে আপনার সঙ্গে?
বলার মতো তেমন কিছু নয়–এই ধরুন কিছু ঘুমের ট্যাবলেট এক প্যাকেট ব্রোমাইড এক শিশি সোডি বাই কাব আর কয়েকটা অ্যাসপিরিন। এগুলো আছে আলমারির দেরাজে। খুলে দেখতে পারেন আপনারা।
না, তার আর দরকার হবে না। আপনার মুখের কথাই যথেষ্ট। বললেন ওয়ারগ্রেভ, ঘুমের ট্যাবলেট আমার কাছেও আছে দু-একটা। তবে কি জানেন, মাত্রারিক্ত হলে সে ওষুধ আর ওষুধ থাকে না তখন, বিষে পরিণত হয়ে যায়। যাই হোক এবার লম্বার্ডের দিকে ফিরে তিনি জিজ্ঞেস করলেন শুনেছি আপনার কাছে একটা পিস্তল আছে মিঃ লম্বার্ড?
ঠিকই শুনেছেন, কিন্তু তার জন্য কি হয়েছে।
অনেক কিছু হয়েছে, আর হতেই বা কতক্ষণ, যা সব অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, এখানে তাই আমার বক্তব্য হলো আপনার পিস্তল, ডঃ আর্মস্ট্রং এর ওষুধের বাক্স, আর আমার কাছে যে যে ওষুধ আছে, সবগুলো একটা বিশেষ জায়গায় রেখে আমাদের প্রত্যেকের ঘরে গিয়ে তল্লাসী চালিয়ে দেখবো ডাক্তারের ইনজেকশানের সিরিঞ্জ, ম্যাকআর্থারকে খুন করার জন্য যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল সেটা খুঁজে পাওয়া যায় কিনা।
কিন্তু, আমি প্রথমেই বলে রাখছি, প্রতিবাদ করে উঠলো লম্বার্ড, আমি আমার পিস্তল হাতছাড়া করবে না, ওটা আমার কাছেই থাকবে।
হাতছাড়া করার প্রস্তাব তো আমি করছি না। আপনার পিস্তল সহ সব জিনিস থাকবে একটা চাবি লাগানো বাক্সে। আর সেই বাক্সটা যে আলমারিতে থাকবে, তার চাবি থাকবে আপনার কাছে। তার মানে ব্যাপারটা এই রকম দাঁড়াচ্ছে যে, আপনাদের দুজনের সম্মতি ছাড়া কেউ সেই বাক্সটা খুলতে পারবে না। কি রাজি আছেন তো?
হ্যাঁ, এতে আমার সম্মতি আছে।
তাহলে এখন বলুন, আপনার সেই পিস্তলটা কোথায় পাওয়া যেতে পারে?
আমার বিছানা সংলগ্ন টেবিলের ড্রয়ারে। এখুনি নিয়ে আসছি?
আমরাও আপনার সঙ্গে যাবো।
লম্বার্ডের ইচ্ছে নয়, ওঁদের সঙ্গে নেয়। যাই হোক, কোনো রকমে বিরক্তি ভাবটা দমন করে করিডোরের একেবারে শেষপ্রান্তের ঘরে গিয়ে ঢুকলো সে, বাকী চারজন তাকে অনুসরণ করলেন।
বিছানা সংলগ্ন টেবিলের ড্রয়ার খুলতে গিয়ে চকিতে একবার সে তাকালো সকলের মুখের দিকে, ভাবখানা এই যে, নিয়ে যাও পিস্তলটা
কিন্তু শূন্য ড্রয়ার, সেখানে পিস্তলের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গেল না।
বিস্ময়ে সবাই হতবাক।
কি এর পরেও পিস্তল রাখার জন্য আলাদা একটা বাক্সের প্রয়োজন হবে? শ্লেষের সুরে বলল লম্বার্ড।
তার কথায় কেউ ভ্রূক্ষেপই করলো না। ভেরা তো কোনো মন্তব্য না করেই বেরিয়ে গেলো লম্বার্ডের ঘর থেকে। তবে ডঃ আর্মস্ট্রং ওয়ারগ্রেভ এবং ব্লোর হাল ছাড়লেন না। নতুন উদ্দমে তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখলেন লম্বার্ডের ঘর। কিন্তু শুধু পিস্তল নয়, সন্দেহজনক তেমন কোনো জিনিস বা কাগজপত্র পাওয়া গেলো না লম্বার্ডের ঘরে।
ওয়ারগ্রেভ, আর্মস্ট্রং কিংবা ব্লোর এরা কেউই রেহাই পেলেন না। এক এক করে প্রত্যেকের ঘরে তল্লাশী চালানো হলো, সন্দেহজনক কোনো কিছুই পাওয়া গেলো না। সব শেষে অভিযান চালানো হলো ভেরার ঘরে।
ভেরা জানতো বোধ হয়। তাই সে দাঁড়িয়েছিল দরজার সামনে। ওয়ারগ্রেভের সঙ্গে তার দৃষ্টি বিনিময় হতেই মুখে সামান্য একটু হেসে তিনি বললেন, কি করবো বলুন কর্তব্যের খাতিরে আপনার ঘরেও খুঁজে দেখতে হবে। আমার কথায় আপনি হয়তো মনে মনে রাগ করেছেন। কিন্তু আমরা নাচার। কর্তব্যের খাতিরে
