না, না এ অবাস্তব ধারণা, কখনোই তা সম্ভবপর নয়। প্রতিবাদ করে উঠলো ভেরা।
অবাস্তব। অসম্ভব। এখন আমাদের সামনে এ সব কথার কোনো অস্তিত্ব নেই মিস ক্লেথন। ভেরার দিকে ফিরে বললেন ওয়ারগ্রেভ এখন সব কিছুই সম্ভব। আমাদের এই বিপদের সময় এ নিয়ে অযথা তর্কে যাওয়া উচিত নয়। আমি আবার বলছি, আমাদের দশজনের মধ্যেই একজন মিঃ ওয়েন অন্য পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই আততায়ী। অবশ্য আমরা এখন আর দশজন নই মোট সাতজনে ঠেকেছি। তাই মাস্টার্ন, মিসেস রগার্স ও জেনারেল ম্যাকআর্থারকে অনায়াসেই বাদ দেওয়া যায়? একটু সময় থেকে সকলের মুখের দিকে চকিতে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে তিনি এবার জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে আপনারা একমত তো?
দ্বিধাবোধটা কাটিয়ে উঠতে যা একটু সময় লাগলো, হুঁ। তবে ভাবতে অবাক লাগে।
এর মধ্যে অবাক হওয়ার কি আছে ডঃ আর্মস্ট্রং দৃঢ়স্বরে বললেন ব্লোর, আমি তো একটা আন্দাজ
আপনার বক্তব্য পরে শুনবো মিঃ ব্লোর হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন ওয়ারগ্রেভ, আগে এক এক করে সকলের অভিমত জেনে নিই, আমার বক্তব্যে তাদের সায় আছে কিনা, তারপর আপনারা
আপনার বক্তব্যে আমার পুরোপুরি সায় আছে, উলের ওপর থেকে চোখ তুলে বললেন এমিলি, আপনার বক্তব্যে যথেষ্ট যুক্তি আছে। আর এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের মধ্যেই একজন খুনী বদ্ধ পাগল।
না আমি একমত হতে পারছি না, প্রতিবাদ করলো ভেরা আমার বিশ্বাস নেই।
আর মিঃ লম্বার্ড আপনার কি অভিমত? তার দিকে ফিরলেন ওয়ারগ্রেভ।
আপনার বক্তব্যে আমার পূর্ণ সমর্থন আছে।
বাঃ আমি তো এই চাইছিলাম। তৃপ্ত হয়ে বললেন ওয়ারগ্রেভ এবার প্রকৃত অপরাধীকে প্রমাণ স্বরুপ চিহ্নিত করার পালা। এখন আপনারা খুব চিন্তা ভাবনা করে বলুন তো আমাদের মধ্যে কোনো বিশেষ ব্যক্তির এমন কোনো দোষ ত্রুটি কিংবা তার সন্দেহজনক চাল-চলন দেখেছেন কি, যাতে করে অপরাধী বলে মনে হয়। হা মিঃ ব্লোর আপনি এখন আপনার কি একটা আন্দাজের কথা বলবেন বলেছিলেন না।
আন্দাজ বলতে পারেন, আবার নিছক একটা কৌতূহলও বলতে পারেন। আমি জানতে চাই, মিঃ লম্বার্ড সঙ্গে পিস্তল কেন এনেছেন?
কারণটা তো আমি আপনাকে আগেই বলেছি, বিশ্বাস হয় নি? ঠিক আছে আবার বলছি রুক্ষস্বরে, পিস্তল সঙ্গে আনার ঘটনাটা সংক্ষেপে বললো লম্বার্ড।
প্রমাণ দেখান, শুধু বানানো গল্প ফেঁদে বসলেই চলবে না, ভ্রু কুঁচকে কৈফিয়ত চাইলেন ব্লোর প্রমাণ চাই।
প্রমাণ চাইছেন? তাদের কথার মাঝে বাধা দিয়ে ওয়ারগ্রেভ বললেন, কেবল মিঃ লম্বার্ড একাই যে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হবেন তা নয়, অনেক ব্যাপারে আমরাও প্রমাণ দিতে অসমর্থ হতে পারি। অতএব আমাদের মুখের কথাটাই বিশ্বাস করে নিলে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এখানে একটু থেমে ওয়ারগ্রেভ কি যেন ভেবে আবার বলতে শুরু করলেন, এক কাজ করা যাক, কারোর সন্দেহজনক কার্যকলাপের সন্ধান না করে বরং দেখা যাক, কাকে কাকে আমাদের সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়। সাতজনের মধ্যে দুজনকে বাদ দেওয়ার পর শেষ ব্যক্তি যিনি অবশিষ্ট থাকবেন, তিনিই হবেন অপরাধী তাকেই সেই অজ্ঞাত আততায়ী বলে আমরা ধরে নেবো।
এ ব্যাপারে প্রথমেই আমি একটা কথা বলতে চাই, নিজের সাফাই চাইলেন আর্মস্ট্রং। আমি একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। তাই আপনারা নিশ্চয় আমাকে সন্দেহের তালিকা থেকে–
তাকে বাধা দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন ওয়ারগ্রেভ, দেখুন ডঃ আর্মস্ট্রং আপনি যদি ঐ দোহাই দেন, তাহলে আমিও বলবো, আমিও কিছু কম স্বনামধন্য নই। তবু তা সত্ত্বেও আপনার মতো আমাকে আপনাদের সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ একবারও করবো না। চিকিৎসক বিচারপতি এমন কি পুলিশও পাগল হতে পারে। পাগলামি হচ্ছে একটা জঘন্য রোগ। এ রোগে কখন কে যে আক্রান্ত হতে পারে, আগে থেকে কেউ বলতে পারে না।
তাহলে শুরুতেই, একটা কাজ আমরা নিশ্চয়ই করতে পারি লম্বার্ড পরামর্শ দেয়, মহিলা দুজনকে আগে থেকেই আমাদের সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে রাখতে পারি, কি বলেন আপনারা?
তার মানে আপনি বলছেন, মেয়েদের কখনো পাগলামি রোগ হয় না, কিংবা তারা খুন করতে পারে না?
না, জোর দিয়ে সেরকম কথা তো আমি বলিনি, একটু ইতস্ততঃ করে লম্বার্ড বলে তবে আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হয়–
আর্মস্ট্রং-এর দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওয়ারগ্রেভ জিজ্ঞেস করলেন, আপনিই বলুন, ম্যাক আর্থারের মৃত্যু ঘটেছে মাথায় তীব্র আঘাতে, সে আঘাত কোনো মহিলার পক্ষে করা সম্ভব না অসম্ভব?
অসম্ভব নয়। মাথা দোলালেন আর্মস্ট্রং।
তাতে শক্তি প্রয়োগের দরকার হয় কি?
না, একেবারই নয়।
ধন্যবাদ, ওয়ারগ্রেভ আরো বলেন, আগের দুজনের মৃত্যু ঘটেছে বিষ বা ঘুমের পিল খেয়ে, এটা প্রয়োগ করতে একটুও শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয় না।
লম্বার্ডের মুখে আর কথা যোগালো না।
ওদিকে অল্প আক্রোশে চিৎকার করে উঠলো ভেরা, দেখছি আপনার মাথাটাই একেবারে খারাপ হয়ে গেছে। সত্যি সত্যি, আপনিই উন্মাদ। অপ্রকৃতিস্থ।
ভেরার দিকে তাকালেন বরফ ঠাণ্ডা চোখে। কোন রাগ নয়, অভিনয় নয়, তার সেই অদ্ভুত চাহনির সামনে পড়লে অতি কঠিন প্রকৃতির লোকের শরীরও বুঝি অবশ হয়ে যেতে বাধ্য। এবং হোও তাই, চমকে উঠল ভেরা, উঃ লোকটা কি সাংঘাতিক। এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন আমাকে গিলে ফেলবে। শুরু থেকেই দেখছি, আমাকে ও একেবারে পছন্দ করে না।
