কিছু মানুষের সাহায্য ছাড়া এই বইটি অনুবাদ করা সম্ভব হত না। বইটি জাপানিজ থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন টেরি গেলাঘের। প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হয়েছে ক্যাট, দানির ইয়ানগিরভ, আন্তন সেমেনভ, এবং তোরেস কোসে এর চিত্রকর্ম। মূল বইটি মালয়শিয়া থেকে কিনে এনে দিয়েছিলেন সেঁজুতি ভাবি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ঔপন্যাসিক ফারিয়া প্রেমা বরাবরের মত সম্পাদনার বিরক্তিকর কাজটি দ্রুত করে দিয়েছেন। ‘চাপাচাপি’বাজ অ্যান বলেছে বই শেষ করতে পারলে শার্ট কিনে দেবে। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
সব শেষে প্রকাশক নাজিম ভাইকে ধন্যবাদ বইমেলার সমস্ত ভেজাল মাথায় নিয়ে দ্রুত বইটি পাঠকদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। আশা করি বইটি থ্রিলার প্রেমী সবার ভাল লাগবে।
সূচিপত্র
১. সেভেন রুমস
২. ইন আ ফলিং এয়ারপ্লেন
৩. দ্য হোয়াইট হাউজ ইন দ্যা কোল্ড ফরেস্ট
৪. ফাইন্ড দ্যা ব্লাড!
৫. ইন আ পার্ক অ্যাট টোয়ালাইট, আ লং টাইম এগো
৬. ওয়ারড্রব
৭. সং অফ দ্যা সানি স্পট
৮. কাজারি অ্যান্ড ইয়োকো
৯. সো-ফার
১০. ওয়ার্ডস অফ গড
১১. জু
সং অফ দ্য সানি স্পট
১
চোখ খোলার পর আবিষ্কার করলাম আমি একটা স্ল্যাবের উপর শুয়ে আছি। উঠে বসে আশেপাশে তাকিয়ে দেখতে পেলাম একটা বড় রুমের ভেতর আছি, যার ভেতর একগাদা অদ্ভুত দেখতে জিনিস জমা করে রাখা। উল্টো দিকে দেয়ালের কাছে একজন লোককে চেয়ারে বসে থাকতে দেখলাম। তাকে দেখে মনে হল গভীর কোন চিন্তায় ডুবে আছে, কিন্তু আমাকে ঠিকই লক্ষ্য করল। তার মুখে একটা হাসি ফুটে উঠল।
“গুড মর্নিং,” চেয়ারে বসেই সে বলল। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরনের সব কিছুরই রঙ সাদা।
“তুমি কে?” আমি জানতে চাইলাম। উত্তর দেয়ার আগে সে উঠে দাঁড়াল আর হেঁটে কাছের একটা লকারের দিকে গেল। লকার খুলে কিছু পোশাক আর জুতো বের করল।
“আমি সেই ব্যক্তি যে তোমাকে সৃষ্টি করেছে, সে আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল। সিলিং থেকে আসা সাদা আলো আমাদের দুজনকে ভাসিয়ে দিচ্ছিল। সে কাছাকাছি এলে আমি বুঝতে পারলাম তার ত্বক কতটা ফ্যাকাসে ছিল। সাদা ত্বকের বিপরীতে তার চুলগুলো ছিল গাঢ় কালো। সে আমার কোলের উপর কাপড়গুলো রেখে বলল পরে নিতে। আমি শার্ট আর ট্রাউজারটার দিকে তাকালাম; ওগুলো দেখতে ঠিক তার পরা পোশাকগুলোর মতই ছিল, একই রকম সাদা রঙের। আমি নগ্ন ছিলাম।
“হ্যাপি বার্থডে,” সে বলল। রুমের উপর আবার চোখ বুলিয়ে আমি দেখতে পেলাম আমাদের চারপাশে অনেক রকমের যন্ত্রপাতি আর বানানোর সামগ্রী রাখা। আমি যেখানে বসেছিলাম তার পাশে একটা প্ল্যাটফর্মের উপর একটা মোটা বই দেখতে পেলাম। দেখে মনে হচ্ছিল বইটা অসংখ্যবার পড়া হয়েছে, একগাদা সাজানো নোট রাখা।
আমি পোশাকগুলো পরে তার পিছুপিছু রুম থেকে বের হলাম। অনেকগুলো দরজা আর শাটারসহ একটা লম্বা হলওয়ে ধরে হেঁটে গেলাম। তারপর একটা সিঁড়ি সামনে পড়ল, যেটা উপর দিকে গিয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার পর আরেকটা দরজা পড়ল। দরজাটা সে খুলতেই উজ্জ্বল আলো আমার মুখের উপর এসে পড়ল আর কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ হয়ে গেলাম। সেই মুহূর্তে আমি প্রথম উপলদ্ধি করলাম, যেই রুমে আমি প্রথম চোখ খুলেছিলাম, সেটা ছিল ভূগর্ভস্থ। আমার ত্বক দ্রুত উষ্ণ সূর্যালোক শুষে নিতে লাগল।
দরজা দিয়ে বের হওয়ার পর আমি দেখতে পেলাম আমরা একটা ঘাসে ঘেরা পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছি। উপরের এই চওড়া সবুজ ঢালু জায়গা থেকে সামনের পুরোটা এলাকা সুন্দরভাবে চোখে পড়ছিল। আমাদের ভূগর্ভস্থ চেম্বারের দরজাটা একদম চুড়োর কাছে অবস্থিত। কাঠামোটা একদম সাধারণ ধরণের ছিল। কংক্রিটের তৈরি আয়তক্ষেত্র, লম্বায় আমার চেয়ে বেশি নয়। একটাই দরজা ঢোকার কিংবা বের হওয়ার জন্য। ছাদটা। কংক্রিটের একটা সমতল জায়গা, যেটার কিছু অংশ ঘাসে ঢেকে ছিল। একটা পাখি সেখানে বাসা বেঁধেছে।
আমি চারপাশের এলাকার উপর চোখ বোলালাম তথ্য সংগ্রহের জন্য। আমাদের ছোট পাহাড়টার চারিদিকে উঁচু পর্বতমালা। পাহাড়টার আকৃতি ছিল কোন গোলকের উপরের এক তৃতীয়াংশের মত। ব্যাস এক কিলোমিটার। পর্বতগুলো গাছে ছেয়ে ছিল। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম সেটার মত আর কোন ঘাসভূমি চোখে পড়ল না। আমি সিদ্ধান্তে এলাম যে পাহাড়টা অবশ্য
“নিচের ঐ বনের ভেতরে আমাদের বাড়ি, লোকটা হাত তুলে দেখিয়ে বলল। পাহাড়ের নিচে একটা বেড়া দেয়া জায়গা দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকে পর্বতমালা পর্যন্ত গাছ ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এর ভেতরে একটা ফাঁক দিয়ে আমি একটা বাড়ির ছাদের কিছু অংশ দেখতে পেলাম।
“ঐ বাড়িতে তুমি আমার দেখাশোনা করবে,” সে বলল। তারপর আমরা পাহাড় বেয়ে নামতে লাগলাম।
বনের কাছাকাছি একটা জায়গায় দুটো সাদা রঙের কাঠের তক্তা একত্র করে ক্রস বানানো হয়েছে। এমনিতে জায়গাটা একদম সমতল, খালি ঐ জায়গাটায় মাটি একটু উঁচু।
“কবর,” সে বলল।
কাছে যাওয়ার পর আমি দেখতে পেলাম বাড়িটা বেশ বড় আর পুরোনো। বিষয়টা আমার কাছে পরিস্কার যে, বাড়িটাকে প্রকৃতির ইচ্ছের উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে গাছ গজিয়েছে। ছাদের টাইলস থেকে সবুজ পাতা উঁকি দিচ্ছিল। বাড়ির সামনে বেশ অনেকটা জায়গা নিয়ে একটা ঘেসো উঠোন, একটা কুয়া আর একটা জং ধরা পুরাতন ট্রাক।
