আর নাগায়ো, সুমাকো, আমি গাট্টি বোঁচকাহীন অবস্থায় বাজার করতে গেলাম। বেকারির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সুমাকো বলল, সে মিষ্টি কিছু কিনতে চায়।
“কিছু কেক কিনে নেয়া যাক নাকি? আর আমাদের একটা ছুরিও কিনতে হবে। আমার স্পষ্ট মনে আছে কেবিনে একটাও ছুরি নেই।”
আমার মনে আছে ওর বাম হাতে একটা কালো ব্যাগ ঝুলছিল। আমি নিশ্চিত, ওটা ডাঃ ওমোজির রক্তের ব্যাগটাই ছিল।
“আমি কি একটা প্রশ্ন করতে পারি? প্রথম ট্যাক্সি যেটা কেবিনে ব্যাগট্যাগ নিয়ে গিয়েছিল, সেটায় কি রক্তের ব্যাগটা ছিল?”
“আমার তা মনে হয় না,” সুগুয়ো বলল, কিন্তু ওকে দেখে তেমন একটা আত্মবিশ্বাসী মনে হল না।
“যখন সুগুয়ো আর ডাঃ ওমোজি গাড়িতে উঠলেন তখন রাস্তার উপর একটা কালো ব্যাগ পড়েছিল,” সুমাকো আমার পেছন থেকে বলল। আমি ঘুরে তাকালাম। ও দুইতলা থেকে নেমে এসেছে, এখন চেয়ারের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। “ওটা যে ডাঃ ওমোজির ব্যাগ তা আমি বুঝতে পেরেছিলাম, সেকারনে আমাদের কেনাকাটার সময় সেটা আমি বহন করেছিলাম।”
আমি হাতের মুঠি পাকিয়ে ডাক্তারের দিকে তাকালাম।
“এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস আপনি কি করে রাস্তায় ফেলে গেলেন?”
“আমাকে কেন মুঠি তুলে শাসাচ্ছেন? মারবেন নাকি? আমি সেফ একজন বুড়ো মানুষ যার খুব একটা ভবিষ্যৎ বাকি নেই আর!”
আমার নিজেরও কোন ভবিষ্যৎ বাকি নেই!
“ঠিক আছে, ডিয়ার, শান্ত হও। বুড়ো হাঁসটা এমনিতেই সবকিছু আধা মনে রাখতে পারে, তাই সে যদি উলটাপালটা কিছু করে ফেলে তাহলে মাফ করে দেয়াই ভাল।”
তোমার কি কোন রক্ত নেই? কোন অ নেই? “তারমানে তোমার কাছে রক্তের ব্যাগটা ছিল। ব্যাগটা কি রুমে ছিল?”
সে ওর মাথা নাড়ল। “আমি নিশ্চিত যে আমরা যখন এখানে এলাম তখন পর্যন্ত সেটা আমার সাথেই ছিল, আমি নিশ্চয়ই সেটা কোথাও নামিয়ে রেখেছিলাম…।”
কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। আমার দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হতে শুরু করল, ঘুম পাচ্ছিল। বুঝতে পারছিলাম এগুলো খারাপ লক্ষণ। বালিঘড়ির মত নিয়মিতভাবে আমার ক্ষত থেকে রক্ত বেয়ে পড়তে থাকল। প্রতি সেকেন্ডে আমার আয়ুও কমতে থাকল।
“কিন্তু তুমি নিশ্চিত তো ব্যাগটা এই কেবিনেই আছে?”
“হ্যাঁ, যেমনটা সুগুয়ো বলল।”
“কিন্তু কেবিনের কোথায় থাকতে পারে সেটা?”
সবাই চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। নাগায়ো (ভণ্ডটা) লিভিং রুমের মুখ থেকে বলে উঠল।
“গত রাতে আমি ব্যাগটা দেখেছিলাম।”
কথাটা সবার মনোযোগ আকর্ষণ করল।
“কি? আসলেই?”
“হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত যে ব্যাগটা দেখেছি। এই দরজার কাছেই সেটা পড়ে ছিল।”
“তারমানে, নাগায়ো, তুমি রক্ত খুঁজে পেয়েছ?”
“না, পাইনি। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে গত রাতে, যখন আমি প্লাটিপ্লাসের অঙ্গভঙ্গি করছিলাম তখন সেটা এখানে একদিকে কাত হয়ে পড়েছিল।”
গত রাতের ডিনারের কথা মনে পড়ল। সুমাকোর রান্না করা খাবার খেয়েছিলাম আমরা সবাই। তারপর আমার স্ত্রী আর দুই ছেলে কিছু অভিনয় করে দেখিয়েছিল। নাগায়োর প্লাটিপ্লাসের অঙ্গভঙ্গি অভিনয় করে দেখানোটা ছিল সবচেয়ে (এখন পর্যন্ত) খারাপ।
সুগুয়ো বলল, “নাগায়ো, বাবা তোমাকে গতরাতে একদম গাধা বানিয়ে ছেড়েছিল।”
সুমাকো সাথে যোগ করল : “সবচেয়ে বেকুবি ব্যাপার হল, একটা প্লটিপ্লাস নিজে কখনো বলতে পারে না, সে একটা স্তন্যপায়ী নাকি একটা হাঁস, আর তুমি আমার সৎ ছেলে হলেও কিছু আসে যায় না, তুমি আসলেই একটা রাম গাধা।”
“এহ, বকবকানি বন্ধ কর। প্লাটিপ্লাসের মধ্যে কোন ভুল নেই। আমাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। প্লাটিপাস অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী। ওদের পাগুলো ছোট আর পায়ে হিল আছে! আসলে গতরাতে, সুমাকো তুমি নিজেই সবকিছু গুব্রট পাকিয়েছিল তোমার ফালতু ‘আপেল ডামপ্লিং গ্যাং’ গান নিয়ে। ঐটার জন্যই বাবা ক্ষেপে গিয়েছিল। তা না হলে তিনি আমার পরিবেশনা ঠিকই পছন্দ করতেন। তুমি জানো না তিনি ডামপ্লিং দুচোখে দেখতে পারেন না?”
“আমার কোন ধারনাই ছিল না। আমি কিভাবে জানব যে ওর প্রথম স্ত্রী। দশ বছর আগে ডামপ্লিং গলায় আটকে মারা গিয়েছিল? আমি তো এতদিন ভেবেছি সে ওই ট্রাফিক এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছিল।”
আমি চোখ বন্ধ করে গত রাতের সবকিছু মনে করার চেষ্টা করলাম। ঘুরন্ত লণ্ঠনের মত, দৃশ্যগুলো আমার চোখের পর্দার উপর প্রতিফলিত হল।
****
গত রাতে, খাওয়া দাওয়া শেষ হওয়ার পর আমরা এই তিনজনের পরিবেশনা দেখেছিলাম-সুমাকো, নাগায়ো, সুগুয়ো-এই ক্রম অনুসারে। আমার মেজাজ খারাপ চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল নাগায়োর পরিবেশনা শেষ হওয়ার পর। কিন্তু তারপর সুগুয়ো কার্ডের কিছু খেলা দেখাল যেগুলো খারাপ ছিল না। হতে পারে ও একটা কাপুরুষ, আকাইম্মা, বখে যাওয়া একটা ছেলে, কিন্তু জাদু পরিবেশনায় ওর খানিকটা দক্ষতা আছে। ওর রুমের বুকশেলফ রহস্যোপন্যাস দিয়ে ভর্তি।
আমার মনে পড়ল ও যখন ছোট ছিল তখন একবার ওকে তারার দিকে হ্যাঁ করে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় ধরে ফেলেছিলাম।
“কি ভাবছিলে?” আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম ওকে।
“আমি একটা জাদুর কথা ভাবছি যা দিয়ে মানুষ মারা যাবে, সে চোখ টিপে বলেছিল। আমি হাসিতে ফেটে পড়েছিলাম।
“তুমি যে কাপুরুষ, এরকম একটা জাদুর কথা তুমি কেন ভাববে? আর যদি এরকম কিছু একটা বের করেও ফেলতে পার, এরপর কি করবে? এই নিয়ে গল্প লিখবে? নাকি কাউকে খুন করতে ব্যবহার করবে? তুমি যে কাপুরুষ তাতে এর কোনটাই করা তোমার পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি যাবে কলেজে আর ভাল গ্রেড অর্জন করবে তারপর তোমার দিন কাটবে কুকুর হাঁটাতে নিয়ে বেরিয়ে।”
