ওদের ভিতরে পাঠাও।
কয়েক মুহূর্ত পর, আপাদমস্তক আচ্ছাদনে ঢাকা দুজন নারী কক্ষের ভিতর হাজির হলো। কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে খাজানসারা তার মুখের নেকাব সরিয়ে ফেললো এবং সেলিম সম্পূর্ণ ঘামে ভেজা একটি মুখ দেখতে পেলো। সব কিছু আশানুরূপ ভাবেই ঘটেছে জাহাপনা, কেউ আমাকে কোনো প্রশ্ন করেনি।
তুমি চমৎকার কাজ দেখিয়েছে। এখন যেতে পারো এবং ভোর হওয়ার একঘন্টা আগে আবার এখানে হাজির হবে।
আমার পুরষ্কার জাঁহাপনা…
সেলিমের দৃষ্টি আনাকলির নিশ্চল অবয়বের দিকে নিবদ্ধ, সে একটানে তার গলায় ঝোলান পদ্মরাগমণির থলেটি বের করলো। এই নাও।
খাজানসারার দ্রুত পদক্ষেপে প্রস্থান করার বিষয়টি সেলিম লক্ষ্য করলো না। আনারকলির পরনের আলখাল্লাটি তার দেহের তুলনায় লম্বা, তাই সেটার শেষপ্রান্ত ধূলায় আবৃত হয়ে আছে। খাজানসারার দক্ষতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কে সন্দেহ করবে এমন সস্তা পোষাকের অভ্যন্তরে তার পিতার সবচেয়ে প্রিয় রক্ষিতাটি আত্মগোপন করে আছে?
আপনি আমাকে তলব করেছেন, জাঁহাপনা? আনারকলি ছন্দহীন এবং বেখাপ্পা ফার্সি ভাষায় কথাগুলি বললো, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর নিচু এবং মোলায়েম শোনালো।
আমাকে তোমার চুলগুলি দেখাও।
আনারকলি ধীরে তার মস্তক আবৃত করা ওড়নাটি খুলে মাটিতে ফেলে দিলো। তার সোনালী চুলগুলি কালো রঙের একটি আটসাট টুপির ভিতর লুকানো রয়েছে। তার চোখ জোড়া, যেগুলিকে মোমের হালকা আলোতেও নীলকান্তমণির রঙ বিশিষ্ট বলে বোঝা গেলো, সেগুলিকে অলংকৃত করা পাপড়ি গুলি কাজলের পরশ বুলিয়ে কালো করা হয়েছে এবং সেগুলি নির্ভেজাল কৌতূহল নিয়ে সেলিমের চোখের দিকে চেয়ে রয়েছে। সেলিমের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেই সে তার টুপিটি খুললো এবং তার চুলের গোছা, পাকা শস্যের উপর চাঁদের আলো পড়ে যেমন ফ্যাকাশে সোনালী দেখায়, সেই রূপ ধারণ করে তার কাঁধের উপর ছড়িয়ে পড়লো। তার ঠোঁটে ফুটে উঠা রহস্যময় মৃদুহাসি সেলিমের উপলব্ধিতে সেই বার্তা প্রেরণ করলো, যেমনটা নওরোজের উৎসবের নাচ শেষে করেছিলো- পুরুষ মানুষকে আচ্ছন্ন করা নিজ সম্মোহন ক্ষমতা সম্পর্কে সে ওয়াকিফহাল।
তোমার নাচ দেখার পর থেকে তুমি ছাড়া আর কোনো চিন্তাই আমার মাথায় খেলছে না। সেদিন থেকেই আমি তোমাকে কামনা করছি।
আপনার বাবা যদি জানতে পারেন তাহলে তিনি আমার উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হবেন।
আমি তাকে বলবো তুমি নির্দোষ- সব কিছুর জন্য আমি দায়ী। তবে তোমার যদি ইচ্ছা না থাকে আমি তোমাকে জোর করবো না…
আপনার আকুলতা আমাকে তৃপ্ত করেছে। আমার অবস্থানে থাকা কোনো নারী কি একজন যুবরাজকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
সেলিমের কাছ থেকে কোনো উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে আনারকলি নিজেকে বিবস্ত্র করতে লাগলো। সে তার কুৎসিত পোশাকের আবরণ ছেড়ে এমন ভাবে বেরিয়ে এলো যেনো একটি সুন্দর সাপ পুরানো খোলস ছেড়ে নবরূপ ধারণ করেছে। তার শরীরের মোহনীয় ত্বক থেকে মুক্তার মতো নরম দীপ্তি ঝড়ছে এবং তার নীল শিরা উপশিরা বিশিষ্ট পূর্ণ স্তনযুগলের শীর্ষে অবস্থিত বোটাটি উজ্জ্বল গোলাপি বর্ণের, সেগুলি সামান্য দুলতে থাকলো যখন সে সেলিমের দিকে এগিয়ে এলো। আনারকলি সেলিমের একটি হাত নিজ হাতে নিয়ে সেটাকে তার চিকন এবং রেশমের মতো মসৃণ কোমরে ছোঁয়ালো। তারপর, নিজ দেহকে সেলিমের দেহের উপর সজোরে চেপে ধরলো, সেলিম তার রেশমের জোব্বার উপর দিয়ে তার বোঁটা দ্বয়ের স্পর্শ অনুভব করতে পারলো। এবারে সেলিমের হাতটি সে নিজের সমৃদ্ধ নিতম্বে নামিয়ে আনলো। তার তৃক, সেলিম যেমনটা অনুমান করেছিলো হুবহু তেমনই-উষ্ণ এবং নমনীয়। এক অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পৌরুষেয় শিহরণ সেলিমের শরীরে বয়ে গেলো এবং সে আনারকলির কাছ থেকে একটু পিছিয়ে গিয়ে সজোরে টান মেরে নিজের পোশাক খুলতে আরম্ভ করলো, তার অস্থিরতার কারণে নমনীয় বস্ত্রটি ছিঁড়ে যেতে লাগলো।
আপনি আপনার পিতার মতোই যোদ্ধাসুলভ দেহের অধিকরী এবং তার মতোই দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠেন…
আনারকলির বক্তব্য সেলিম শুনতে পেলো বলে মনে হলো না। ঐ মহিমাময় অবয়বের মাঝে নিজেকে সমাহিত করা ছাড়া তার মাথায় আর কোনো চিন্তা কাজ করছে না। আনারকলিকে টেনে নিয়ে সে একটি ডিভানে শোয়ালো এবং লাথি মেরে অসুবিধা জনক গদিগুলিকে সরিয়ে দিলো। তারপর তার সোনালী চুলগুলো দুহাতে আকড়ে ধরে প্রথমে তার ঠোঁটে চুমু খেলো এবং সেখান থেকে গিরিপথের মধ্যস্থলের দিকে অগ্রসর হলো। আনারকলির কাধ থেকে শুরু করে সুগোল উরু পর্যন্ত প্রসারিত নিখুঁত দেহসৌষ্ঠব সেলিমকে অবাক করলো। সেলিমের অস্থিরতা উপলব্ধি করে ইতোমধ্যেই সে তার উরু দুটি দুপাশে প্রসারিত করেছে এবং তার কোমল দেহটি ঘামে পিচ্ছিল হয়ে গেছে। জাহাপনা, আনারকলি ফিসফিস করে বললো, এখনই…আমি তৈরি… সেলিম যখন মেয়েটির দেহের মধ্যে প্রবেশ করলো এবং তার উত্থান-পতন শুরু হলো, সে এক অভিনব বিজয়োল্লাস অনুভব করলো- তবে এই অনুভূতি কেবল অসামান্য সুন্দরী এক নারীর সঙ্গে মিলনের কারণেই তার মাঝে সৃষ্টি হয়নি। এর আরেকটি কারণ সে তার পিতার অধিকৃত একটি নারীকে সম্ভোগ করতে পেরেছে।
*
সেলিমের ঘুম আসছে না। রাতটি তার কাছে অসহ্য একঘেয়ে এবং গুমোট লাগছে। তার বিছানার উপর নড়তে থাকা টানাপাখাঁটি কক্ষের উষ্ণতাকে একটুও কাবু করতে পারছে না। কিন্তু সেলিম বুঝতে পারছিলো গরম জনিত অসুবিধা নয় বরং আনারকলিকে আবার কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তার নিদ্রা কেড়ে নিয়েছে। খাজানসারা তার পিতা লাহোরে ফিরে আসার ঠিক আগে পর পর দুরাত আনারকলিকে তার কাছে নিয়ে এসেছিলো। কিন্তু তারপর থেকে সে আর তার দেখা পায়নি।
