বাবার স্থলে হামিদা তাকে এ ব্যাপারে অবহিত করার চেষ্টা করেছেন যে কীভাবে একজন নারীকে সন্তুষ্ট করতে হয়- কথাটি মনে পড়তে সেলিমের হাসি পেলো। অবশ্য শালীনতা বজায় রাখতে গিয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে পারেননি কিন্তু সেলিম বুঝতে পেরেছে তিনি কি বলতে চেয়েছেন তার নববধূর প্রতি অত্যন্ত কোমল ও বিবেচকের মতো আচরণ করতে হবে। সে তাই করবে। বাজারের নর্তকী গীতা তাকে অনেক কৌশল শিখিয়েছে। সে জেনেছে কীভাবে নিজের আগ্রাসী আবেগের মুখে লাগাম পড়িয়ে উভয় পক্ষের তৃপ্তি অর্জিত হতে পারে। সে গীতার কাছে গিয়েছিলো একজন অনভিজ্ঞ অতি উৎসাহী বালক হিসেবে, অনেকটা পাল (পশুর প্রজনন ক্রিয়া) দেয়া স্ট্যালিয়ন ঘোড়ার মতো। কিন্তু গীতা তাকে একজন প্রেমিকে পরিণত করেছে…শৈল্পিক আঙ্গিকে রতিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য হামিদার ইঙ্গিতপূর্ণ নির্দেশনা তার প্রয়োজন ছিলো না। তবে বাসর রাতের মিলন বিষয়ক রীতি নীতি সম্পর্কে হামিদার কাছ থেকে প্রাপ্ত উপদেশ তার অনেক কাজে লাগবে। পরদিন সকালে বিছানা পর্যবেক্ষণ করা হবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে যৌনমিলন সত্যিই সম্পাদিত হয়েছে এবং নববধূ প্রকৃতপক্ষে কুমারী ছিলো।
দুই ঘন্টা পরের ঘটনা, সেলিম আকবরের প্রদান করা নতুন ভবনের হেরেমের শয়ন কক্ষে পরিচারকদের সহায়তায় বিয়ের পোশাক এবং অলঙ্কার খুলছিলো। সবুজ কিংখাবের পর্দার অন্যপাশে নববধূ নিজস্ব পরিচারিকাদের তত্ত্বাবধানে গোসল করে সুগন্ধি মেখে বাসর শয্যায় স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছিলো। সেলিম সম্পূর্ণ নগ্ন হওয়ার পর পরিচারক তার মাথার উপর দিয়ে একটি সবুজ রেশমের ঢিলে জামা পড়িয়ে দিলো এবং এর গলা ও বুকের পান্নার কজা এটে দিলো। এরপর পরিচারকরা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো। সেলিম এক মুহূর্ত ইতস্তত করলো, তেলের প্রদীপের হালকা আলো পড়ে ঝিকমিক করতে থাকা কিংখাবের পর্দাটির দিকে তাকিয়ে রইলো। সে আসলে বিচলিত অনুভব করছে না বরং এই বিরল মুহূর্তটিকে মনের পর্দায় গেঁথে রাখতে চাইছে। একদিন সে হয়তো সম্রাট হবে এবং যে রাজপুত রাজকুমারীর সঙ্গে আজ তার মিলন হবে তার গর্ভে জন্ম নেবে পরবর্তী মোগল সম্রাট। এই মিলনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, এটি বাজারের কোনো অখ্যাত সরাই খানায় হুড়মুড় করে তাৎক্ষণিক যৌন সুখ লাভের মতো তুচ্ছ বিষয় নয়। এটি তার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং তার নিয়তির ভিত্তি স্তম্ভ।
হঠাৎ পর্দার অন্যপাশে তার জন্য অপেক্ষারত নারীটির কথা মনে হতেই সেলিমের দেহে কামনার ঢেউ আছড়ে পড়লো এবং দার্শনিক চিন্তা গুলি মন থেকে উবে গেলো। সে পর্দা সরিয়ে শয়ন কক্ষে পা রাখলো। মান বাঙ্গ বিছানায় বসে ছিলো, তার স্তন যুগলের আকৃতি জামরঙের প্রায় স্বচ্ছ মসলিন পোষাকের মধ্যদিয়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো। তার লম্বা ঘন কালো চুল কাঁধের উপর ছড়িয়ে আছে এবং কানের চুনি পথরের দুল গুলো দ্যুতি ছড়াচ্ছে। গলার চিকন সোনার হারটিও চুনি পাথর খচিত। কিন্তু যা সেলিমের দৃষ্টি কাড়লো তা হলো মেয়েটির লম্বা লম্বা পাপড়ি বিশিষ্ট কালো চোখের উত্তেজিত চাহনি এবং তার দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস সমৃদ্ধ মৃদুহাসি।
সেলিম কল্পনা করেছিলো তার বাসর ঘরে প্রবেশের সময় নববধূটি লাজুক ভঙ্গীতে মাথা নত করে থাকবে-সুলায়মান বেগ বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে ঠাট্টাও করেছে, তাকে সতর্ক করেছে যাতে গণিকাগৃহের অশালীন আচার প্রদর্শন করে অনভিজ্ঞ মেয়েটির মনে ত্রাসের সঞ্চার না করে। কিন্তু সেলিম অনুভব করলো যা ঘটতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে মান বাঈ এর মধ্যে কোনো সংশয় নেই বরং সে বিষয়টি সম্পর্কে কৌতূহলী। নিজের পোশাকের বন্ধনীগুলি আলগা করে সেলিম সেটাকে মেঝেতে পড়ে যেতে দিলো এবং বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো। মনে মনে ভাবছে সে বহু যুদ্ধে লড়াই করেছে ফলে নিজের স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে বেশি বেগ পেতে হবে না। সেলিম বিছানার ধারে মান বাঈ এর কাছাকাছি বসলো কিন্তু তাকে স্পর্শ করলো না এবং হঠাৎ কিছুটা অনিশ্চিত বোধ করলো। কিন্তু মান বাঈ কোমলভাবে সেলিমের কাধ ধরে নিজের পাশে শুইয়ে দিলো। স্বাগতম ফুফাতো ভাই, সে ফিসফিস করে বললো। সেলিমের আর বেশি উৎসাহের প্রয়োজন হলো না, মান বাঈকে টেনে নিজের পাশে শুইয়ে সে তার উন্মক্ত অধরে ঠোঁট ছোঁয়ালো। তারপর তার দেহের স্বচ্ছ মসলিন পোশাকটি ধীরে খুলে ফেললো এবং সেলিমের হাত মান বাঈ এর নরম দেহের স্পর্শকাতর অংশগুলিতে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। মান বাঈ এর কোমর খুব চিকন কিন্তু তার বক্ষযুগল গীতার চেয়েও বড়, সেলিম চট করে তুলনামূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলো। এখন মান বাঈ এর হাত দুটি সেলিমের দেহে বিচরণ করতে লাগলো, গীতার মতো দক্ষ এবং নিশ্চিত ভঙ্গীতে না হলেও যথেষ্ট আগ্রহী এবং দ্বিধাহীন ভাবে। মান বাঈ এর উরু যুগল কিছুটা ফাঁক করে নিয়ে সেলিম সেখানে তার প্রণয়স্পর্শ প্রদান করা শুরু করলো। মান বাঈ এর সমগ্র দেহ প্রকম্পিত হলো এবং তার শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেলো। কয়েক মুহূর্ত পর তার পিঠ ধনুকের মতো বেঁকে গেলো এবং সে সেলিমকে এত দৃঢ়ভাবে জাড়িয়ে ধরল যে সেলিম তার শক্ত হয়ে আসা বোটা দ্বয়ের স্পর্শ অনুভব করতে পারলো। যদিও সে তরুণ, তবুও সেলিমের এটা বোঝার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে যে মান বাঈ মিথীয়া আর দীর্ঘায়িত না করে এখনই চূড়ান্ত উপলব্ধি পেতে চাইছে। সেলিম নিজেকে তার উপরে স্থাপন করলো এবং কোমল ভাবে তার মাঝে প্রবেশের চেষ্টা করলো। কিন্তু প্রবেশ পথটি সেলিমের কাছে অত্যন্ত আঁটসাঁট মনে হলো। সে ইতোপূর্বে কোনো কুমারী নারীর সঙ্গে মিলিত হয়নি এবং সে বুঝতে পারছিলো তাকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে মান বাঈ ব্যথা না পায়। কিন্তু পুনরায় সে তার নববধূর মাঝে ব্যাগ্রতা প্রত্যক্ষ করলো। তার চাপা আর্তনাদ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাতের আঙ্গুলগুলি সেলিমের কাঁধের মাংসে চেপে বসেছে এবং সর্বশক্তিতে তাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছে। সেলিমের উত্থান পতন আরো তীব্রতর হলো। মান বাঈ এর আর্তচিৎকার এখন গোঙ্গানিতে পরিণত হয়েছে, তবে সেটা কষ্টের জন্য নয় সুখানুভূতির জন্য। হঠাৎ সেলিম অনুভব করলো মান বাঈ কিছুটা উন্মুক্ত হয়ে এলো। এবং সে সম্পূর্ণ গভীরে প্রবেশ করতে পারলো। দুটি ভিন্ন দেহ সম্পূর্ণ একত্রিত হয়ে গেলো এবং তারা এখন একক অস্তিত্ব নিয়ে উঠা নামা করছে। সেলিম তাঁদের মিলনটি আরেকটু দীর্ঘায়িত করতে চাইলো, কিন্তু পারলো না। চূড়ান্ত মুহূর্ত উপস্থিত হলো, এবং নিজের পরমতৃপ্তিময় গোঙ্গানির পাশাপাশি সে মান বাঈ এর সুখানুভূতি সূচক ঘন ঘন শ্বাস টানার শব্দ পেলো।
