হুমায়ুন… হামিদার কোমল কণ্ঠস্বর অবশেষে চেপে বসা নিরবতার অবসান ঘটায়। হুমায়ুন ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখে বাম কনুইয়ের উপরে ভর দিয়ে হামিদা আধশোয়া অবস্থায় বিছানায় উঠে বসেছে। তার ডান হাত হুমায়ুনের উদ্দেশ্যে প্রসারিত। সে ধীরে ধীরে কাছে এগিয়ে আসে এবং বিছানার পাশে হাঁটু ভেঙে বসে হামিদার বাড়িয়ে ধরা হাতটা স্পর্শ করে এবং ঠোঁট দিয়ে আলতো করে তার আঙ্গুলে চুমু খায়। হামিদা শুজনিটা তুলে ধরলে, সে উঠে দাঁড়ায় এবং তাঁর পাশে পিছলে শুয়ে পড়ে। হামিদার দেহ আবেগের মন্থনে উষ্ণ অনুভূত হয় এবং ধীরে, প্রায় পূজার ভঙ্গিতে সে তার মুখাবয়ব স্পর্শ করে তারপরে তার আঙ্গুল হামিদার খোলা চুলের গোছা আকড়ে ধরে। তার চোখ চমকে উঠে হুমায়ুনের দিকে তাকায়, সেখানে বিস্ময়ের পাশাপাশি বিশ্বাসের সহাবস্থান। হামিদাকে আলতো করে নিজের দিকে টেনে এনে, সে তার নিখুঁত কাঁধের ঢাল থেকে কোমরের পেলব বাকের ভয়াবহতার মাঝে আবিষ্কারের নেশায় মেতে উঠে। জীহ্বা দিয়ে তাঁর স্তনযুগলে প্রেমময় সোহাগ করার সময় তাঁর ছোট গোলাপী স্তনবৃন্ত শক্ত হয়ে উঠেছে সে বুঝতে পারে আর এটা তাকে আরও সাহসী করে তুলে। হুমায়ুনের হাত প্রেমিকের নমনীয়তায় অনুসন্ধান অব্যাহত রাখলে, হামিদার দেহত্বকে ফিনফিনে ঘামের একটা স্তর ভেসে উঠে। হামিদার চোখ এখন বন্ধ কিন্তু তার ওষ্ঠদ্বয় আলতো ফাঁক হয়ে রয়েছে এবং তাঁদের ভিতর দিয়ে আঁতকে ওঠা শীকার ধ্বনি ভেসে আসে।
নিজের অসহিষ্ণুতাকে সংযত করে হুমায়ুন অপেক্ষা করে যতক্ষণ না তার মনে হয় হামিদা তাকে গ্রহণ করার জন্য তৈরী হয়েছে, তারপরেই কেবল সে উপগত হয়ে তার মাঝে নিজেকে আমূল প্রোথিত করে প্রেমিকের বিশ্বস্ততায়। রমণের মাত্রা জোরাল হতে সে টের পায় হামিদার টানটান হয়ে থাকা দেহ বাঁকতে শুরু করেছে এবং উদ্বিগ্ন চোখে নিচের দিকে তাকিয়ে মেয়েটার আধখোলা চোখে ব্যাথার বদলে উদ্বেল আনন্দ দেখতে পায়। নিজেকে আরও গভীরে নিবিষ্ট করার মাঝে এই মেয়েটার প্রতি সে আবেগসিক্ত প্রেমময় একটা অনুভূতিতে জারিত হয়, যেকোনো মূল্যে তাকে আগলে রাখার একটা বাসনায় তাঁর অন্তর আপুত হয়ে উঠে। হামিদা এখন কেবলই তার একান্ত আপনার এবং যতদিন তারা জীবিত থাকবে এখন থেকে এটাই হবে বাস্তবতা।
ঈষদুষ্ণু পানিপূর্ণ পাত্র নিয়ে তাঁদের পরিচারকেরা তাবুর আলো আধারিতে প্রবেশ করে তাদের জাগিয়ে তুলতে তারা আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় ঘুম ভেঙে জেগে উঠে। হামিদাই প্রথমে হাতের ইশারায় তাঁদের বিদায় করে কিন্তু তারা যখন পুনরায় পরস্পরকে একান্ত করে পায়, সে তখন নিরবে স্থির হয়ে বসে থাকে।
হামিদা কি হয়েছে? আমি কি তোমাকে আঘাত দিয়েছি…?
লাজুকভঙ্গিতে সে হুমায়ুনের দিকে তাকায় এবং মাথা নাড়ে।
তাহলে কি হয়েছে?
বিগত দিনগুলোতে আমি আতঙ্কিত ছিলাম…
কি জন্য?
আপনার স্ত্রী হিসাবে আপনি আমাকে চান এটা জানতে পেরে আমি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। আমার ভয় ছিল যে আমি বোধহয় আপনাকে প্রীত করতে পারবো না… আপনাকে আশাহত করবো। কিন্তু গতরাতে আপনার নমনীয়তা, আমার জন্য যে আনন্দ আপনি সৃষ্টি করেছেন, সবকিছু আমার উদ্বেগকে প্রশমিত করেছে… চোখের তারায় আন্তরিকতার সতেজতা নিয়ে হামিদা এখন তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। হুমায়ুন কিছু বলার চেষ্টা করতে সে আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে তাঁর ঠোঁট চেপে ধরে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে একজন বিশিষ্ট ভবিষ্যদর্শীর রক্ত আমার ধমনীতে বইছে। কিন্তু আরো কিছু আছে যা আপনি জানেন না। ভবিষ্যতের গর্ভে সঞ্চিত অভিজ্ঞতার আদল কখনও কখনও আমিও দেখতে পাই। গতরাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি যে অচিরেই আমি গর্ভবতী হব… একটা পুত্রসন্তান। আপনি জিজ্ঞেস করবেন না আমি কিভাবে জেনেছি কেবল আমাতে বিশ্বাস রাখেন যে ঘটনাটা সত্যি। হুমায়ুন তাকে দুহাতে আকড়ে ধরে। মোগল সাম্রাজ্য আমি আবার গড়ে তুলবো এবং তুমি, আমি আর আমার পুত্রসন্তান আমরা সবাই মহান সম্রাটের গৌরব অর্জন করবো, রমণের রমণীয়তায় হারিয়ে যাবার সূচনালগ্নে সে ফিসফিস করে কথাগুলো হামিদাকে বলে।
২.৭ মরু-পথের দুঃখ-দুর্দৈব
১২. মরু-পথের দুঃখ-দুর্দৈব
সুলতান, আমার গুপ্তদূতেরা এখান থেকে কয়েক মাইল দক্ষিণে মাটির দেয়াল দিয়ে ঘেরা একটা ছোট্ট শহরে নিঃসঙ্গ এক পথিককে আটক করেছে। তার পোষাক দেখে আর বাচনভঙ্গি শুনে পরিষ্কার বোঝা যায় যে সে এখানে একজন আগন্তুক, শহরের দোকানীদের এবং আশেপাশে কে শুনছে সে বিষয়ে তোয়াক্কা না করে সে বারবার জিজ্ঞেস করেছে যে, আপনি আর আপনার সৈন্যবাহিনী কি এই পথ দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। লোকটা গুপ্তচর হতে পারে ভেবে আমি তাকে সোজা আমার কাছে নিয়ে আসতে বলি, আহমেদ খান বলে।
লোকটা যদি সত্যিই গুপ্তচর হয়, তবে বলতেই হবে সে খুব একটা কৌশলী না। নিজের কর্তব্যকর্ম গোপন রাখার বিষয়ে আপাত দৃষ্টিতে সে খুব একটা প্রয়াস নেয়নি।
আহমেদ খানের মাঝে হুমায়ুনের হাসি সঞ্চরিত হয় না। সুলতান, লোকটা দাবী করছে যে সে সরাসরি কাবুল থেকে এসেছে এবং বলেছে যে আপনার সাথে তার দেখা করাটা জরুরী। লোকটার উদ্দেশ্য যদি যথার্থ হয়, তাহলে তার মুখ দেখে আমার মনে হয়নি খুব একটা ভালো কোনো সংবাদ সে নিয়ে এসেছে।
