কিন্তু এই লোক ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কেন?
পরিচয় করিয়ে নিলেন ক্যাপ্টেন, ও কিশোর পাশা। হেসে বললেন, আমাদের লোকাল পুলিসকে খুব জ্বালাতন করে, তবে মাঝে মাঝে পুলিসকে বেশ সাহায্যও করে। অনেকগুলো জটিল কেসের সমাধান করা গেছে ও আর ওর বন্ধুদের কারণে।
রহস্যময় মানুষটার সঙ্গে হাত মেলাল কিশোর। একটা ব্যাপার লক্ষ কল, সঙ্গীর পরিচয় ছিলেন না ক্যাপ্টেন।
তাদেরকে বসার ঘ্রে এনে বসাল কিশোর।
চা-চাচী ফেরেনি। ভালই হয়েছে, নইলে পুলিস আসার জন্যে চাচীর কাছে একগাদা কৈফিয়ত দেয়া লাগত।
বসার পর সরাসরি কাজের কথায় এলেন ক্যাপ্টেন, হ্যাঁ, এখন বলো তো ইউরিক্লেসের ব্যাপারে কি কি জানো তুমি?
খুব বেশি কিছু না, স্যার, কিশোর বলল। এক কাজ করি, গোড়া থেকেই বলি। একটা রহস্যের তদন্ত করতে করতে ইউরিক্লেসের নামটা পেয়ে গেছি।
হ্যাঁ, বলো, প্রথম থেকেই বলো।
সবে শুরু করেছে কিশোর, এই সময় কয়েকটা সাইকেলের বেলের শব্দ শোনা গেল। বউ বউ করতে করতে দরজার দিকে ছুটে গেল টিটু।
ওই যে, মুসারা এসে পড়েছে। ক্যাপ্টেনের দিকে তাকাল কিশোর, ওরা এ ঘরে এলে কোন অসুবিধে আছে, স্যার? অন্যান্য বারের মত এবারও ওরা এ কেসে আমার সঙ্গে কাজ করছে।
না, কোন অসুবিধে নেই। আসতে বলো ওদের।
সাইকেল রেখে হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকল মুসা, ফারিহা, রবিন। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে অপরিচিত একজন লোক আছে দেখে থমকে দাঁড়াল।
হেসে হাত নেড়ে তিনজনকেই কাছে ডাকলেন ক্যাপ্টেন। উঠে হাত মেলালেন ওদের সঙ্গে।
দেখাদেখি ক্যাপ্টেনের সঙ্গীও উঠে দাঁড়ালেন। হাত বাড়িয়ে দিলেন।
হাত মেলানোর পালা শেষ হলে ফারিহা জিজ্ঞেস করল ক্যাপ্টেনকে, কাজে এসেছেন? নাকি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে?
দুটোই। কিশোরের কাছে ফোন করেছিলাম। সে বলল, কি একটা গল্প নাকি আমাকে শোনাবে তোমরা।
সবাই বসল। ক্যাপ্টেনের যতটা সম্ভব কাছে বসল ফারিহা।
আবার গোড়া থেকে শুরু করল কিশোর। কিভাবে রবিনের কাছে হারের বাড়িতে চোর ঢোকার কথা বলেছিল দুধওয়ালা, কৌতূহলী হয়ে ওরা কিভাবে দেখতে গেল ওবাড়িতে, বেড়ালছানাটাকে বের করে আনল, সব বিস্তারিত বলতে লাগল।
স্বাভাবিকভাবেই ফগের কথা এসে পড়ল।
ক্যাপ্টেন বললেন, আমার আসার খবর বোধহয় ও পায়নি। কিশোর, ওকে একটা ফোন করে দেবে?
নিশ্চয়, স্যার।
উঠে গিয়ে ফোন করে এল কিশোর। তারপর গল্পের বাকিটা বলতে লাগল।
পাঁচ মিনিটও গেল না, সাইকেল নিয়ে প্রায় উড়ে এসে পড়ল ফগ। হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকল। কাপড়ে খাবারের ঝোল আর রুটির গুড়ো লেগে আছে। মোছারও সময় পায়নি। ফোন পেয়ে খাবার ফেলেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে।
মাথা থেকে হেলমেট খুলে মেঝেতে রাখল সে।
ক্যাপ্টেন বললেন, বসো, ফগর্যাম্পারকট। কিশোর একটা গল্প শোনাচ্ছে আমাদের। তুমি এর অনেকখানিই জানো। কিন্তু রিপোর্টে তেমন কিছুই জানাওনি।
হাঁ হয়ে গেল ফগ। গোল চোখ আরও গোল। ভেবে পেল না কি কথা সে জানে অথচ ক্যাপ্টেনকে জানায়নি?
ফাঁকে দেখেই অস্থির হয়ে উঠেছে টিটু। আর থাকতে না পেরে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াল ফগের গোড়ালির কাছে। ওর উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে কড়া ধমক লাগাল কিশোর, অ্যাই, চুপ করে বোস্! জরুরী আলোচনা হচ্ছে।
কিশোরের দিকে তাকাল টিটু। মুখ দেখেই বুঝতে পারল, এখন দুষ্টুমি চলবে না। ফারিহার পায়ের কাছে গিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল সে।
এগিয়ে চলল কিশোরের গল্প। রাতের বেলা চৌকিদারদের কাছে খোঁজ নিতে গিয়েছিল, তারপর ওকে ধরার জন্যে প্রায় সারারাত ঠাণ্ডার মধ্যে গাছের নিচে বসেছিল ফগ, এ কথায় আসার পর আর হাসি চাপতে পারল না মুসা। তার হাসি সংক্রমিত হলো ফারিহা আর রবিনের মধ্যে। জোর করে মুখ গভীর করে রাখল কিশোর। ক্যাপ্টেন আর তার সঙ্গীর মনে কি ঘটছে মুখ দেখে বোঝা গেল না। ঘাম দেখা দিয়েছে ফুগের কপালে।
পরদিন নদীতে নৌকা নিয়ে খুঁজতে গিয়ে কি পেয়েছিল ফগ, বলল কিশোর। ব্যাগের মধ্যে কি ছিল, তাও জানাল।
ফগের দিকে তাকালেন ক্যাপ্টেন, ফগর্যাম্পারকট, তোমার রিপোর্টে তো এ সব কথা বলনি? কি করেছ ওগুলো?
বেচারা ফগ। ভঙ্গি দেখে মনে হলো চোখ উল্টে দিয়ে পড়ে যাবে। ওর অবস্থা দেখে কিশোরের মায়াই হতে লাগল। তাড়াতাড়ি জবাব দিল, ওগুলো আমাকে দিয়ে দিয়েছিল। প্রতিটি জিনিস। অবাক হচ্ছেন, স্যার? আমিও হয়েছিলাম।
১৬.
কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না, ক্যাপ্টেন বললেন, এত জরুরী সূত্রগুলো তোমাকে দিয়ে দিল কেন ও?
ঢোক গিলল ফগ। পাকা আপেলের মত টুকটুকে হয়ে যাচ্ছে গাল। ইস, হতভাগা বিচ্ছুটা! আবার ডোবাল ওকে! এই ছেলেটার কারণেই আবার অপদস্থ হতে চলেছে। জবাব খুঁজে পাচ্ছে না সে।
জবাব দিয়ে দিল ফারিহা, খুশি মনে কি আর দিয়েছে? ভেজা জিনিসগুলো পানি সহই ওর শার্টের ভেতর ঠেসে ভরে দিয়েছে।
আহ, ফারিহা, থামো তো! এমনিতেই যা অবস্থা হয়েছে ফগের, আরও বেকায়দায় ফেলতে চাইল না ওকে কিশোর। দোষটা আমারই ছিল।
আশ্চর্য! খুব বিরক্ত হলেন ক্যাপ্টেন। একজন পুলিস হয়ে তোমার এই আচরণ? শার্টের ভেতর ভেজা কাপড় ভরে শাস্তি দেয়াছি-ছি-ছি!
ঝামেলা! বিড়বিড় করল ফগ। না, স্যার…ইয়ে…আমি কি করে বুঝব কাপড়গুলো খুব জরুরী ছিল?…ওগুলো যে সূত্র, বুঝতেই পারিনি। আসলে ওই সকালে মাথাটা আমার এত গরম হয়ে ছিল…
