কিশোর, পিনটু কললো, এই লোকটা কি সার্জেন্ট ডগলাসের দলের কেউ?
বোধহয়। আমার বিশ্বাস, আরও কঙ্কাল আছে এখানে।
কয়েকটা পাথর দেখিয়ে মুসা বললো, আলগা। ধসে পড়েছে। ওপাশে কিছু আছে নাকি?
মাথা ঝাঁকালো কিশোর। থাকতে পারে।
দ্রুত পাথরগুলো প্রাতে লাগলো ছেলেরা। কিন্তু যতোই সরায়, কমে না আর। একটা রালে তিনটে এসে পড়ে। তবে ধৈর্য হারালো না ওরা। সরিয়ে চললো এক এক করে। ফাঁক বাড়তে লাগলো আস্তে আস্তে।
বেরিয়ে পড়লো একটা সরু সুড়ঙ্গ। আলো হাতে আগে আগে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকলো রবিন। সোজা এগিয়েছে সুড়ঙ্গটা। কয়েক মিনিট পরে আরেকটা গুহা আবিষ্কার করলো সে, প্রথমটার চেয়ে তিন গুণ বড়।
রবিনের পেছনে ঢুকলো পিনই। উঠে দাঁড়িয়ে বললো, অনেক বড়!
প্রথমটার চেয়ে এটা উঁচুও বেশি, প্রায় দ্বিগুণ।
একেবারে ক্যাসলের নিচে, রকিন বললো।
লুকানোর চমৎকার জায়গা, বললো মুসা। সহজেই ভেতর থেকে পাথর দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়া যায়। জানা না থাকলে বাইরে থেকে কেউ কিছু বুঝতেই পারবে না।
যতোদিন খুশি থাকা যাবে এখানে, মন্তব্য করলো পিনটু, যদি বাইরে থেকে নিয়মিত খবর দিয়ে যাওয়া হয়।
তবে, কিশোর বললো, আমার মনে হয় না সময়মতো মুখটা বন্ধ করতে পেরেছিলেন ডন। হাত তুলে বয়ে দেখালো সে।
আসেটা সামান্য সরালো রবিন, ভালোমতো দেখার জন্যে। আরেকটা কাল পড়ে আছে। কালচে হয়ে আসা তামার বোম পড়ে রয়েছে কয়েকটা, আর পাশেই পড়ে আছে একটা পুরানো মরচে ধরা রাইফেল।
পাথরের আড়ালে কভার নিয়েছিলো বোঝা যাচ্ছে, মুসা কললো। আরেকজন সৈন্য।
ওই, আরও একজন, কিশোর দেখালো।
উপুড় হয়ে ওহার প্রায় মাঝখানে পড়ে রয়েছে তৃতীয় কঙ্কালটা। এটার পাশেও তামার বোতাম আছে। আর আছে চামড়ার বুট, বেল্ট আর হোলস্টার। নষ্ট হয়ে এসেছে। কঙ্কালের এক হাতের আঙুলের কাছে পড়ে রয়েছে একটা মেকসিকান ওয়রস্টাইল রিভলভার।
নিশ্চয় সার্জেন্ট ডগলাস। ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো কিশোর, পালানোর পর ওদেরকে যে আর পাওয়া যায়নি, এটাই কারণ।
কিন্তু, চারপাশে চোখ বোলাচ্ছে পিনটু, ডন কোথায়?
গুহার চারপাশে টর্চের আলো বোলালো রবিন। লুকানোর কোনো জায়গা চোখে পড়লো না, শুধু খাড়া, শূন্য দেয়াল।
এই তিনজনকে গুলি করে মেরেছে কেউ, মুসা বললো। কে মারলো? ডন পিউটো?
বোধহয়, নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটলো একবার কিশোর। কিন্তু তাই যদি করবেন, তাহলে তো সহজেই ওদেরকে কবর দিয়ে এখানে থাকতে পারতেন। কেন থাকলেন না?
হয়তো তিনি মারেননি, মুসা বললো। মারাটা কঠিনও ছিলো অবশ্য। তিনজন ট্রেইনড সৈন্যের বিরুদ্ধে একা…।
ডনই মেরেছেন! বলে উঠলো রবিন। ওই দেখো!
কোণের দিকে অন্ধকার মতো একটা জায়গায় আলো ফেলেছে রবিন। ছোট একটা গর্ত রয়েছে ওখানে দেয়ালের গোড়ায়। ভালো করে না তাকালে চোখে পড়ে না ওটা। লুকিয়ে থাকার চমৎকার জায়গা। ওখানেই দেখা গেল চতুর্থ কঙ্কালটা। এগিয়ে গেল ছেলেরা। কঙ্কালের পোশাক সৈন্যদের চেয়ে আলাদা। পাশে পড়ে আছে একটা মেকসিকান হ্যাট, ইনডিয়ান ডিজাইন। আর আছে দুটো মরচে পড়া রাইফেল।
হ্যাটটা তুলে নিলো পিনটু। স্থানীয় ইনডিয়ানদের তৈরি। একে বলে কনচো। এজন্যেই…বুঝলে, এজন্যেই ডন পিউটোকে কোনোদিন কেউ দেখেনি… ধরে এলো তার গলা।
মাথা ঝাঁকালো কিশোর। পালিয়ে এসে কনডর ক্যাসলের এই গুহায় লুকানোর মতলব করেছিলেন ডন। পিছু নিয়েছিলো ডগলাস আর তার দুই করপোরাল। এখানে এসে ঢুকেছিলো। ওদেরকে গুলি করে মেরেছেন ডন। তবে তিনিও রেহাই পাননি ওদের গুলি থেকে। তার পর ভূমিকম্প হয়েছিলো, বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো গুহামুখ, ওদেরকে আর কেউ খুঁজে পায়নি। একেবারে গায়েব হয়ে গিয়েছিলো চার চারজন মানুষ।
কিন্তু কিশোর, রবিন প্রশ্ন তুললো, তার বন্ধুরা এখানে খুঁজতে এলো না কেন? ওরা নিশ্চয় জানতো ঈগল তার বাসা খুঁজে পেয়েছে।
এই প্রশ্নের জবাব আমরা কোনোদিনই জানতে পারবো না। হয়তো তাঁর বন্ধুরা জানতোই না যে তিনি এসেছেন, জানানোর সময়ই হয়তো পাননি। কিংবা ওরা আসার আগেই ভূমিকম্পে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো গুহামুখ। স্যানটিনো যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে হয়তো এমন কাউকে পায়নি, যে তাকে জানাতে পারে ডগলাসের রিপোর্ট ঠিক নয়। তলোয়ারটা সাগরে পড়ে গেছে একথা নিশ্চয় বিশ্বাস করেনি সে, ভেবেছিলো, চুরি হয়ে গেছে।
কিশোওর! চেঁচিয়ে উঠলো মুসা। করটেজ সোর্ডটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম আমরা! এখানেই হয়তো আছে!
গুহাটায় তন্ন তন্ন করে খুঁজলো ওর।
কিন্তু পাওয়া গেল না তলোয়ার।
১৮
পেছনে লোক লেগে ছিলো, কিশোর বললো, এটা জানতেন ডন। এখানে আনেননি হয়তো সেজন্যেই।
তাহলে কোথায় লুকালেন? রবিনের প্রশ্ন।
পিনটু বললো, ডন চিঠিতে কনডর ক্যাসলের কথা লিখেছিলেন। যাতে তাঁর ছেলে এসে তলোয়ারটা খোজে এখানে। ঠিক?
ঠিক, বললো কিশোর। তিনি হয়তো আশা করেছিলেন, ছেলে ফিরে আসা পর্যন্ত এখানেই লুকিয়ে থাকতে পারবেন।
কিন্তু পারলেন না। গুলি খেয়ে মরলেন। এমনও হতে পারে, গুলি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যাননি। তাহলে তলোয়ারটা এমন কোথাও রেখে যাবেন, যাতে স্যানটিনো খুঁজে পায়…।
এবং তাহলে একটা মেসেজ রেখে যাবেন ছেলের জন্যে! বাক্যটা শেষ করে দিলো কিশোর। ঠিক বলেছো। এতোদিন পর এখন মেসেজটা নষ্ট না হয়ে গেলেই হয়।
