কিন্তু আছে কোথায় মেসেজটা? ইতিমধ্যেই খুঁজতে আরম্ভ করে দিয়েছে মুসা।
জখমী মানুষ, কিশোর বললো, বেশি দূর যেতে পারার কথা নয়। গর্তটাতেই আগে দেখা যাক।
গর্তের দেয়ালে কোনো লেখা দেখা গেল না।
কঙ্কালটার কাছে, পাথরের পেছন থেকে হোট একটা জিনিস কুড়িয়ে নিলো পিনটু। ইনডিয়ানদের তৈরি মাটির একটা জগ। উল্টেপাল্টে দেখে বললো, কি যেন আছে।
জগটা হাতে নিলো কিশোর। শুকনো রঙের মতো লাগছে।
কালো রঙ? দেখার জন্যে ঝুঁকে এলো রবিন।
হুঁ, করলো শুধু মুসা।
গুহার দেয়ালে আরেকবার খোঁজা দরকার, কিশোর বললো। ধুলো লেগে আছে। পুরু হয়ে। ঢেকে থাকতে পারে লেখাটা। পকেট থেকে রুমাল বের করে সাবধানে বাড়ি দিয়ে ধুলো ঝাড়তে শুরু করলো সে।
অন্যেরাও রুমাল রে করলো।
বেশ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মুসা বলে উঠলো, রবিন, আলোটা ধরো তো এদিকে?
কঙ্কালের পাশে পাথরের দেয়ালে সত্যিই লেখা রয়েছে চারটে শব্দঃ হাই…ধুলো—বৃষ্টি…সাগর। কালচে রঙে লেখা।
চেয়ে রয়েছে চারজনেই। কিছু বুঝতে পারছে না।
পরের দুটো শব্দ বেশ কাছাকাছি, পিনটু বললো। লিখলেন কি দিয়ে? রক্ত?
ছাই আর ধুলোর কথা লিখেছেন কেন? মুসার প্রশ্ন। কোনো ফায়ারপ্লেসে লুকিয়েছেন?
নাকি সাগরের ধারে কোথাও? রবিন যোগ করলো।
কিন্তু এর সাথে বৃষ্টির সম্পর্ক কোথায়? ভুরু নাচালো পিনটু।
নাহ, অর্থহীন! মাথামুণ্ডু কিছুই বোঝা যায় না, মাথা নাড়লো মুসা।
কিন্তু অর্থহীন কথা কেন লিখবেন একজন মানুষ, যিনি মরতে চলেছেন?
লেখেননি, পিনটুর সঙ্গে একমত হলো কিশোর। ঘন ঘন চিমটি কাটছে নিচের ঠোঁটে। অর্থ একটা নিশ্চয়ই আছে।
অন্য কেউ লিখে থাকতে পারে, রবিন বললো। ডন পিউটোর আগেই।
আমার মনে হয় না, কিশোর কললো। ডনই লিখেছেন, ছেরে জন্যে মেসেজ। তিনি মারা যাওয়ার পর অন্য কেউ এসে লিখেছে, তা-ও হতে পারে না। তাহলে বেরিয়ে গিয়ে চারটে লাশের কথা বলতেই সেই লোক।
এমনও হতে পারে, তখন মাথার ঠিক ছিলো না তাঁর, কি লিখতে কি লিখেছেন, রবিন বললো।
এটাও বিশ্বাস কতে ইচ্ছে করছে না…
কিশোর! হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলো পিনটু। ও কিসের শব্দ?
গুহার হাতের ওপরে হচ্ছে শব্দটা।
পায়ের শব্দ! রবিন বললো। বুট পরা। কনডর ক্যাসলের ওপরে উঠেছে কেউ।
কাউবয়গুলো হবে, পিনটু বললো।
কাদায় জুতোর ছাপ পড়েছে আমাদের! শঙ্কিত হয়ে উঠলো মুসা। গুহামুখের কাছেই যদি পড়ে থাকে তাহলে দেখে ফেলবে ওরা। তাহলে আর বাঁচতে পারবো না!
এসো! আদেশ দিলো গোয়েন্দাপ্রধান।
কোথায় যেতে বলছে, প্রশ্ন করলো না কেউ। কিশোরের সাথে চললো। সরু সড়ঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে এলো ছোট ওহাটায়। গুহামুখের দুপাশে ঘাপটি মেরে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো। বাইরে থেকে আসছে কথা বলার মৃদু আওয়াজ।
আসবেই! মুসা বললো ফিসফিসিয়ে।
জোরালো হচ্ছে কণ্ঠস্বর। তারপর শোনা গেল গুহামুখের কাছে পায়ের আওয়াজ।
দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে সেঁটে থাকো, নির্দেশ দিলো কিশোর। পাথরগুলো ঠেলে সরিয়ে নামতে হবে ওদেরকে। ঢুকেই প্রথমে আমাদের দেখতে পাবে না, অন্ধকারে পাথর-টাথরই ভাববে দেখলেও। আর না দেখলে সরে যাবে পেছন দিকে, এই সুযোগে বেরিয়ে দেবো দৌড়।
পাথরের গায়ে বুট দিয়ে লাথি মারার আওয়াজ হলো কয়েকবার। তর্ক শুরু করে দিলো তিনটে কণ্ঠ। তার পর পাথরের গায়ে পাথর বাড়ি লাগার শব্দ হলো।
কি বলছে? জিজ্ঞেস করলো রবিন। কিছুই তো বোঝা যায় না।
আমিও বুঝতে পারছি না, মুসা বললো।
কান খাড়া করে আছে চারজনেই।
পাথর দিয়ে গুহামুখ বন্ধ করে রাখার ফলে বাইরে থেকে আওয়াজ আসছে ঠিকই, তবে ছাঁকুনিতে আঁকা হয়ে যেন, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না কথা।
আসে না কেন এখনও? ফিসফিস করে বললো পিনটু।
গুহার অন্ধকারে বসে আছে চার কিশোর, টানটান উত্তেজনা।
সময় যেন স্থির হয়ে গেছে ওদের জন্যে।
প্রায় মিনিট পনেরো পর গুহার বাইরে বুটের শব্দ জোরালো হলো আবার। তার সরে যেতে লাগলো। মিলিয়ে গেল কণ্ঠস্বর। চলে যাচ্ছে বোধহয় লোকগুলো।
আরও পনেরো মিনিট অপেক্ষা করলো ছেলেরা। গুহামুখটা দেখেনি, পিনটু বললো।
না, দেখেনি, প্রতিধ্বনি করলো যেন রবিন।
কিন্তু, মুসার প্রশ্ন, আমাদের পায়ের ছাপ তো না দেখার কথা নয়। গুহামুখটা কেন চোখে পড়লো না ওদের?
গুহামুখের দিকে তাকিয়ে ভাবহে কিশোর। বিড়বিড় করে বললো, আমাদের কাছ থেকে বেশি দূরে ছিলো না ওরা। কথা বুঝলাম না কেন? কেন পরিষ্কার হলো না?
চলো, বেরোই, মুসা কললো। পাথর সরাতে হবে। টর্চ জ্বেলে ধরে রাখলো রবিন। পাথর সরাতে লাগলো অন্য তিনজন। একটা সরালো…দুটো…তিনটে…কিন্তু বাইরে থেকে আলো কিংবা তাজা বাতাস আসার কোনো লক্ষণ নেই।
যেকটা পাথর দিয়ে মুখ বন্ধ করেছিলো, সরিয়ে ফেললো ওরা। তার পরেও না এলো আলো, না বাতাস, না বৃষ্টির ছাঁট।
ব্যাপারটা কি? বুঝতে পারছে না পিনটু।
হামাগুড়ি দিয়ে গুহামুল্মে কাছে এগোলে মুসা। খাইছে! চিৎকার শোনা গেল তার। পাথর!
কি বলছো! পেছন থেকে চেঁচিয়ে বললো রবিন, শঙ্কিত হয়ে উঠেছে, বন্ধ করে দেয়নি তো!
ধীরে ধীরে ফিরে এলো মুসা। চোখে আতঙ্ক। না, ওরা বন্ধ করেনি। কাদার আরেকটা ধ্বস নেমেছিলো মনে হচ্ছে। বিরাট এক পাথর এসে পড়েছে গুহামুখে। সেজন্যেই ওর মুখটা দেখেনি, ওদের কথা স্পষ্ট কানে আসেনি আমাদের।
১৯
ঠিক দেখেছো তো মুসা? শান্তকণ্ঠে বললো কিশোর, হয়তো তেমন বড় নয়। চলো, দেখে আসি।
