স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দুটো গাড়িকে চলে যেতে দেখলো ছেলেরা। পিনটুর চোখে পানি টলমল করছে। দুই গোয়েন্দার দিকে ফিরলো সে। বিশ্বাস করো, আমার ভাই আগুন লাগায়নি!
জানি, রবিন বললো। নিশ্চয়ই কোথাও একটা ঘাপলা আছে। ওই হ্যাটটা আগেও একবার দেখেছি, কিন্তু কোথায়, কখন, মনে করতে পারছি না। ইস্, এখন কিশোর এখানে থাকলে কাজ হতো।
হতাশ ভঙ্গিতে হাত নাড়লো মুসা, যেন বাতাসে থাবা মারলো। সমস্যা ছিলো একটা, এখন হয়েছে দুটো। তলোয়ারটাও খুঁজে বের করতে হবে, রিগোকেও ছাড়িয়ে আনতে হবে।
১০
হেরিয়ানোকে খবর দিতে চললো পিনটু। রকি বীচে ফিরে চললো মুসা আর রবিন। তাড়াতাড়ি সাইকেল চালালো ওরা। বাড়ি ফিরে বার বার কিশোরকে ফোন করলে দুজনে, কিন্তু সাড়া পাওয়া গেল না স্যালভিজ ইয়ার্ড থেকে। বার্থডে পার্টি থেকে ফেরেনি বোধহয় কিশোররা। শুতে যাওয়ার আগে আরও একবার ফোন করলো দুজনে, সাড়া মিললো না ইয়ার্ড থেকে।
পরদিন সকালে নাস্তার জন্যে নিচে নেমে দেখে রবিন তার বাবা কাগজ পড়ছেন। ছেলের সাড়া পেয়ে মুখ তুললেন মিস্টার মিলফোর্ড। এই, রবিন, রিগোকে দেখি অ্যারেস্ট করেছে। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। রিগোর মতো অভিজ্ঞ র্যাঞ্চার ওরকম একটা কাঁচা কাজ করতেই পারে না।
ও লাগায়নি, বাবা। হয় শেরিফ ভুল করেছে, নয়তো কেউ ইচ্ছে করে রিগোকে ফাসিয়েছে। শয়তানী। সেটা প্রমাণ করে ছাড়বো আমরা।
তাই করো।
তাড়াহুড়ো করে নাস্তা সারলো রবিন। তারপর কিশোরকে ফোন করলো। সব শুনে কিশোর বললো, রিগো তো লাগায়নি। ওই হাটটাকেই প্রমাণ হিসেবে ধরেছে না? ইচ্ছে করলে তুমিই ঠেকাতে পারতে শেরিফকে। মনে নেই? ওই হ্যাট ওর মাথায় দেখেছি আমরা।
কখন? তোমার মতো তো ফটোগ্রাফিক মেমোরি না আমার। কোথায় দেখলাম?
ইস্কুলে এসো। বলবো।
কিশোরের এইসব তথ্য চেপে রেখে টেনশনে রাখার ব্যাপারটা ভালো লাগে না রবিনের। এখন ফোনে বললে কি অসুবিধে হতো? বিরক্তি চাপতে না পেরে রিসিভারটা আছড়ে ক্রেডলে ফেললো সে। ইস্কুলে পড়াশোনা আর ক্লাস নিয়ে এতো ব্যস্ত রইলো কথা বলার সুযোগ পেলো ছুটির পর। তবে সেদিন ছুটি হলো সকাল সকাল।
আজ পিনটুকে দেখেছো তোমরা? জোর বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালিয়ে ইয়ার্ডে ফেরার সময় জিজ্ঞেস করলো কিশোর।
খুঁজেছি, মুসা জবাব দিলো। দেখিনি। ইস্কুলে আসেনি মনে হয় আজ।
আসলেই আসেনি পিনটু। হেরিয়ানোর সঙ্গে কাটিয়েছে। একজন উকিল ঠিক করার চেষ্টা করেছে, ভাইকে ছাড়িয়ে আনার জন্যে। ইয়ার্ডে ঢুকে দেখলো তিন গোয়েন্দা, ওদের জন্যেই অপেক্ষা করছে পিনটু। হেডকোয়ার্টারে ঢুকলো চারজনে।
প্রাইভেট উকিলের খরচ দেয়ার সামর্থ্য নেই আমাদের, পিনটু জানালো, তাই পাবলিক ডিফেন্ডারস অফিসের সাহায্য চেয়েছি। ওরাও আশা দিতে পারলো না। কেসটা নাকি খারাপ।
সে তো জানিই,মুখ গোমড়া করে বললো রবিন। যদিও কাজটা করেনি সে।
কি করে প্রমাণ করবো, করেনি? চোখের কোণে পানি দেখা দিলো পিনটুর। আমাদের র্যাঞ্চই বা বাঁচাবো কি করে? ভাইয়া জেলে, কোনো সাহায্য করতে পারবে না। হাড়িয়ে আনতে যে জামিনের টাকা লাগবে, তা-ও দিতে পারবো না। এক মুহূর্ত থেমে কললো। পাঁচ হাজার ডলার জমা দিতে হয়।
পাঁচ হাজার! চোখ বড় বড় করে ফেললো মুসা তারমানে র্যাঞ্চটা তোমাদের বেচতেই হবে।
ওটা বেচেও তো লাভ হবে না। হেরিয়ানোর ধার শোধ করে আর খুব একটা থাকে না। প্রথমেই পাঁচ হাজার দেয়ার দরকার নেই অবশ্য। জজ বলেছে, দশ ভাগের একভাগ আপাতত দিলেই চলবে, বাকিটা কিস্তিতে। সেটাই বা পাবো কোথায়? ধারে চেষ্টা করছি।
আমার মনে হয়, গম্ভীর হয়ে বললো কিশোর, বুঝেশুনেই শয়তানীটা করেছে কেউ। আগুন লাগাটা দুর্ঘটনা ছিলো না। হ্যাটটা চুরি করে নিয়ে গিয়ে ক্যাম্পফায়ারের কাছে ফেলে রেখেছে। সেটা প্রমাণ করতে পারলেই হতো।
কিন্তু কিভাবে? করুণ হয়ে উঠেছে পিনটুর মুখ।
হ্যাটটা শেষ কখন রিগোর মাথায় ছিলো, তাই তো জানি না আমরা, বললো রবিন।
জানি, কিশোর বললো। গত বিষ্ণুত্বারে বেলা তিনটায় তার মাথায় ছিলো ওটা। যেদিন আগুন লেগেছিলো। মনে নেই? ইস্কুলের বাইরে যখন আমাদের সাথে দেখা হলো, তখন ছিলো।
ঠিক বলেছো, ঠিক! চেঁচিয়ে উঠে টেবিলে বাবা মারলো রবিন।
তারমানে ক্যাম্পফায়ারের কাছে হ্যাট ফেলে আসেনি রিগো, শান্তকণ্ঠে বললো কিশোর, তিনটের আগেও ছিলো মাথায়, পরেও। আমাদের সঙ্গে ছিলো তখন। তার পরে আগুন নেভাতে গিয়েছিলো। শেরিফ যদি তার মাথায় হ্যাট দেখে না থাকেন, তাহলে হ্যাটটা খোয়া গেছে ইস্কুল থেকে আমাদের রওনা হওয়া থেকে আগুন নেভাতে যাওয়ার সময়ের মাঝখানে, কোনো এক সময়।
কিশোর, রবিন বললো, আগুন নেভাতে যাওয়ার সময় ট্রাকের পেছনে ছিলো রিগো, আমাদের সঙ্গে। তখন বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে ফেলেনি তো? ক্যাম্পফায়ারের কাছে গিয়ে পড়ে থাকতে পারে।
অসম্ভব, পিনটু মাথা নাড়লো। ড্র-কর্ড দিয়ে চিবুকের নিচে আটকানো থাকে ওই হ্যাট। কোনো কিছুতে চড়ার সময় ওটা খুব শক্ত করে আটকে নেয় ভাইয়া।
তাছাড়া সেদিন তেমন বাতাসও ছিলো না, যোগ করলো মুসা। সেজন্যেই তো বেশি ছড়াতে পারেনি আগুন।
যাই হোক, কিশোর কললো, আগুনটা শুরু হয়েছিলো আমরা র্যাঞ্চে পৌঁছার আগেই। কাজেই ট্রাক থেকে হ্যাটটা উড়ে গিয়ে থাকলেও বুঝতে হবে আগুন লাগার পরে ক্যাম্পফায়ারের কাছে গিয়ে পড়েছিলো ওটা।
