প্রমাণ করতে পারছি না, নাক কুঁচকালো রবিন, সেটাই হলো মুশকিল।
আমরা সাক্ষি দিতে পারি অবশ্য। তাতে কতোটা কাজ হবে জানি না। তবে সত্যিকারের কোনো প্রমাণ নেই আমাদের হাতে। সুতরাং প্রমাণ জোগাড় করতে হবে। জানতে হবে হ্যাটটা কিভাবে ক্যাম্পফায়ারে কাছে গিয়ে পড়েছিলো।
কি করে, কিশোর? মুসার প্রশ্ন।
প্রথমে রিগোর সঙ্গে দেখা করে জিজ্ঞেস করবো, হ্যাটটা শেষ কখন মাথায় ছিলো, কিংবা কখন খুলেছিলো মনে করতে পারে কিনা। একই সঙ্গে করটেজ সোর্ড খোঁজাও চালিয়ে যাবো। আমরা যে খুঁজছি এটা জানে টেরি আর ডরি। তলোয়ার খুঁজছি কি না জানলেও এটা বুঝতে পেরেছে, দামী কিছু খুঁজছি আমরা, যেটা বিক্রি করে আলভারেজ র্যাঞ্চ বাঁচানো যাবে। সেজন্যেই হয়তো রিগোকে অ্যারেস্ট করিয়েহে আমাদের ঠেকানোর জন্যে।
আবার তাহলে হিসটোরিক্যাল সোসাইটিতে যেতে হবে আমাদের, রবিন বললো, নতুন সূত্র খুঁজতে।
পাবো না, নিরাশ ভঙ্গিতে এপাশ ওপাশ মাথা দোলালো মুসা। সারা জিন্দেগী খুঁজেও বের করতে পারবো না।
কাজটা সহজ হলে তো অনেক আগেই বের করে ফেলতো কেউ, কিশোর বললো। তবে ঠিকমতো চেষ্টা করলে বের করা যাবেই। দুটো দিনের ওপর জোর দিতে হবে আমাদের। পনেরো আর মোল সেপ্টেম্বর, আঠারোশো ছেচল্লিশ সালের। পনেরো তারিখে পালিয়েছেন ডন পিউটো, তার আগে পর্যন্ত বন্দি ছিলেন, এবং তার পরে তার কি হয়েছে কেউ জানে না। দেখেওনি কেউ। তারপর, ঠিক পরের দিনই, ষোল তারিখে আর্মি থেকে পালিয়েছে তিনজন সৈনিক। তাদেরকেও আর দেখা যায়নি।
আচ্ছা, টেবিলে কনুই রেখে সামনে ঝুঁকলো রবিন, কনডর ক্যাসলকে নিজের ঠিকানা বোঝাতে চাননি তো ডন?
মাথা নাড়লো কিশোর। না, তার ঠিকানা ছিলো ক্যারিলো হাউস।
একটা গল্প বলি। ডন পিউটোর মতোই বিপদে পড়েছিলো একজন লোক, স্কটসম্যান, নাম ক্লানি ম্যাকফারসন। সতেরোশো পঁয়তাল্লিশ সালে ইংরেজরা স্কটিশ হাইল্যাণ্ড দখল করে বসলো, কালোডেনের যুদ্ধে স্কটদেরকে পরাজিত করে। ম্যাকফারসনকে খুঁজে বেড়াতে লাগলো তারা, খুন করার জন্যে। কারণ ম্যাকফারসন ছিলো হাইল্যাণ্ডের একজন চীফ। বেশি ভাগ চীফই তখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু ম্যাকফারসন পালায়নি।
কি করলো? কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো পিনটু।
ঠিক তার বাড়ির কাছেই গুহায় গিয়ে ঢুকলো। পুরো এগারোটা বছর বাস করেছিলো ওখানে। তার অনেক বন্ধু ছিলো, তারা তাকে সাহায্য করেছে। খাবার দিয়েছে, পানি দিয়েছে, কাপড় দিয়েছে। ইংরেজরা বুঝতেই পারেনি কিছু। বিপদ কেটে গেল একদিন, আবার বেরিয়ে এলো ম্যাকফারসন।
তারমানে, উত্তেজিত হয়ে উঠেছে মুসা, তুমি বলতে চাইছে, কনডর ক্যাসলের কাছাকাছি কোনো গুহায় লুকিয়েছিলেন ডন পিউটো?।
মাথা ঝাঁকালো রবিন। অসত্ব কি? লুকিয়ে ছিলেন বলেই হয়তো কেউ তাঁকে আর দেখতে পায়নি।
কেউ দেখতে পায়নি, একথাটা তাহলে ঠিক না, শুধরে দিলো কিশোর। ম্যাকফারসনের মতোই তাঁর বন্ধুরা তাঁর সাথে দেখা করেছে, খাবার-কাপড়-পানি দিয়েছে। এদিকটা তুমি ভালোই ভেবেছে, রবিন, আমার খেয়াল হয়নি। তাহলে আমাদের খোঁজার সময়টা আরও বাড়িয়ে দিতে হবে। আঠারোশো হেচল্লিশের শুধু ষোল সেপ্টেম্বরে হবে না, পরের দিনগুলোরও খাবার নিতে হবে।
খাইছে! আতঙ্ক ফুটলো মুসার চোখে। কয়েকটা কমপিউটর লাগবে! নইলে অসম্ভব।
গোয়েন্দাগিরি অতো সহজ না, নির্বিকার ভঙ্গিতে বললো কিশোর। রহস্য জটিলতর হচ্ছে বলে মজাই পাচ্ছে সে। খোঁজার দরকার হলে খুঁজবে। তবে তোমার তেমন ভয় নেই। তুমি স্প্যানিশ জানো না। কাজটা করতে হবে আমাকে আর নিটুকেই।
আমি আর মুসা তাহলে কি করবো? রনি জানতে চাইলো।
জেলে যাবে।
জেলে! চমকে গেল মূস।
আরে না না, মুচকি হাসলো কিশোর, আসামী হয়ে যাবার কথা বলছি না। যাবে রিগোর সঙ্গে কথা বলতে।
১১
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ওপরের একটা তলায় রকি বীচ জেলখানা। তালাবদ্ধ গরাদের সামনে ডেস্কে বসে আছে একজন ডিউটিরত পুলিশ্যান। দ্বিধাজড়িত পায়ে তার দিকে এগিয়ে গেল দুই গোয়েন্দা। রিগো আলভারেজের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইলো।
সরি, বয়েজ, লোকটা বললো, লাঞ্চের পরে ভিজিটিং আওয়ার। তবে আসামীর উকিল যখন খুশি তার সঙ্গে দেখা করতে পারে। একটা বিমল হাসি উপহার দিলো পুলিশম্যান।
কেউকেটা গোছের মানুষ ওরা, এমন ভাব দেখিয়ে রবিন বললো, সে আমাদের মক্কেল।
অনেকটা উকিলের মতোই ধরতে পারেন আমাদেরকে, মুসা বললো।
দেখো, আমি বস্ত। অহেতুক বকবক করার সময়…
অহেতুক করছি না, তাড়াতাড়ি বললো রবিন। আমরা প্রাইভেট ডিটেকটিভ। রিগো আমাদের মক্কেল। এই কেসের ব্যাপারে তার সাথে কথা বলতে চাই। খুব জরুরী। আমরা
হাসি হাসি ভাব দূর হয়ে গেছে লোকটার। পুরোপুরি গভীর এখন। ভ্রুকুটি করে বললো, যাও, বেরোও এখন! বেরোও।
ঢোক গিললো রবিন। মুসাকে নিয়ে বেরোতে যাবে, এই সময় পেছনে কথা বলে উঠলো একটা কণ্ঠ, ওকে তোমাদের কার্ডটা দেখাও না, তাহলেই তো হয়।
চরকির মতো পাক খেয়ে ঘুরলো রবিন আর মুসা। হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রকি বীচের পুলিশ চীফ ক্যাপ্টেন ইয়ান ফ্লেচার।
কার্ড বের করে কর্তব্যরত পুলিশম্যানকে দেখালো রবিন। ইয়ান ফ্লেচারের দেয়া সার্টিফিকেটের একটা ফটোকপিও দেখালো।
