প্রতিবাদ করার জন্যে মুখ খুলতে যাচ্ছিলো পিনট আর মুসা। তাদের থামিয়ে দিয়ে রবিন বললো, ঠিক আছে, মনে থাকবে আপনার কথা। তারপর যেন নিতান্ত কথার কথা বলছে, এমনুভাবে জিজ্ঞেস করলো, ব্যাগে কি, স্যার?
সেটা তোমাদের জানার দরকার নেই। গম্ভীর হয়ে বললেন শেরিফ। এখন ভাগো এখান থেকে।
বাঁধের ওপর দিয়ে আবার সাইকেলের দিকে রওনা হলো ওরা। আলভারেজদের এলাকার কাঁচা রাস্তা দিয়ে যখন পোড়া খসিয়েনার দিকে চললো, জোর বৃষ্টি শুরু হলো আবার।
ধ্বংসস্তুপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রিগোর সঙ্গে দেখা। পোড়া হাইয়ের মধ্যে কিছু খুঁজছে যেন। পুড়ে নষ্ট হয়নি এমন কিছু এখনও আছে কিনা দেখছে হয়তো। ওদেরকে দেখতে পেলো না।
কিছু পেলেন? ডেকে জিজ্ঞেস করলো মুসা।
চমকে মুখ তুললো রিগো। কাঁচুমাচু হয়ে গেল, লজ্জা পেয়েছে। ইয়ে, কটেজ সোর্ডটাই খুঁজছি। আমার মনে হলো, ডন পিউটো যদি কোথাও লুকিয়ে থাকেন সেটা, হাসিয়েনডার ভেতরেই লুকিয়েছেন। বাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে। ভাবলাম এখন বেরোতে পারে। পড়ে থাকা কয়েকটা টালিতে লাথি মারলো রাগ করে। পেলাম না। কোনো চিহ্নই নেই!
কনডর ক্যাসল খুঁজে পেয়েছি আমরা, ভাইয়া, পিনটু জানালো।
সংক্ষেপে সব জানালো ওরা।
কনডর ক্যাসল খুঁজে পেয়েছে শুনে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলো রিগোর চোখ, ওখানেও কিছু পাওয়া যায়নি শুনে আবার নিষ্প্রভ হয়ে গেল ধীরে ধীরে। তাহলে আর পেয়েই কি লাভ হলো?
তলোয়ারটা পাইনি বটে, তবে একেবারেই লাভ হয়নি একথাও বলা যাবে না, রবিন কললো।
কি লাভ?
হেলের জন্যে তলোয়ারটা লুকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন ডন পিউটো। কনডর ক্যাসলের নির্দেশ রয়েছে অনেক পুরানো ম্যাপে। যেখানে বন্দি করা হয়েছিলো ডনকে, সেই জায়গা আর তার বাড়ির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই জায়গাটার। অথচ সেটার কথা লেখা হয়েছে চিঠিতে। এটা সূত্র না হলে কিছুতেই লিখতেন না।
যুক্তিতে তাই বলে, রিগো কললো। কিন্তু লাভটা…।
এঞ্জিনের শব্দে থেমে গেল সে। দুটো গাড়ি এসে ঢুকলো হাসিয়েনডার চত্বরে। একটা ডয়েলদের ওয়াগন, আরেকটা শেরিফের গাড়ি। ওয়াগন থেকে লাফিয়ে নামলো টেরি আর ডরি।
ওই তো! চেঁচিয়ে উঠলো ডরি।
ছাড়বেন না! ছাড়বেন না। ম্যানেজারের চেয়ে জোরে চেঁচালো টেরি। গাড়ি থেকে নামলেন শেরিফ। চুপ করো। অতো চেঁচিও না! বলেছি না, যা করার আমি করবো। তাঁর হাতে তখনও বাদামী ব্যাগটা রয়েছে। রিগোর সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি। রিগো, যেদিন আগুন লেগেছিলো সেদিন কোথায় ছিলে?
কোথায় ছিলাম? ভুরু কোঁচকালো রিগো। কেন, আর সবার সঙ্গে আগুন নেভাতে গিয়েছিলাম। আপনি জানেনই তো। তার আগে ছিলাম রকি বীচের সেন্ট্রাল ইস্কুলে, পিনটুর সঙ্গে।
হ্যাঁ, ছিলে। তখন বিকেল তিনটে। তার আগে কোথায় ছিলে?
আগে? আমাদের র্যাঞ্চে। ব্যাপারটা কি, শেরিফ?
আগুন কিভাবে লেগেছে জানা গেছে। ডয়েলদের এলাকায় কেউ একজন ক্যাম্পফায়ার জ্বেলেছিলো। তিনটের বেশ কিছুক্ষণ আগে। বছরের এই সময়ে এভাবে আগুন জ্বালানো বেআইনী। যা-ই হোক, আগুনটা ঠিকমতো নেভানো হয়নি। ডয়েলদের বেড়া ভেঙে…
ঘোড়ার পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে! শেরিফের কথা শেষ হওয়ার আগেই বলে উঠলো ডরি। তোমাদের ঘোড়া। ওগুলো ধরে আনতে গিয়েই আগুনটা জ্বেলেছিলে, টেরি বললো। তারমানে আগুনটা তুমিই লাগিয়েছে।
শীতল গলায় বললো রিগো, পাশাপাশি র্যাঞ্চ থাকলে গরু-ঘোড়ায় ওরকম বেড়া ভাঙেই। ওগুলো ধরে আনার জন্যে একে অন্যের এলাকায়ও ঢেকে র্যাঞ্চাররা। সেটা এমন কোনো ব্যাপার না। পড়শীদের মধ্যে একটা আণ্ডারস্ট্যাণ্ডিং থাকেই। তবে ঢুকলেও আগুন আমরা লাগাইনি।
ব্যাগ খুলে একটা কালো সমব্রেরো হ্যাট বের করলেন শেরিফ। এটা কার হ্যাট, রিগো?
আমার। আমি মনে করেছিলাম সেদিন আগুনে পুড়ে গেছে। পেয়েছেন ভালোই হয়েছে…
আগুনে পুড়ে গিয়েছিলো মনে করেছিলে? কর্কশ গলায় বলে উঠলো ডরি।
হ্যাঁ। তাতে কি? কঠিন দৃষ্টিতে ম্যানেজারের দিকে তাকালো রিগো।
রিগো, ডরি আর কিছু বলার আগেই বললেন শেরিফ, হ্যাটটা কখন হারিয়েছিলে?
কখন? মনে করার চেষ্টা করলো রিগো। বোধহয় আগুন নেভানোর সময়-…
না। আগুন নেভানোর সময় তোমার মাথায় হ্যাট ছিলো না। আমার ঠিক মনে আছে। কয়েকজন লোকের সাক্ষিও নিয়ে এসেছি। তারাও আমার সঙ্গে একমত।
কি জানি, মাথা চুলকালো রিগো। কখন হারিয়েছি সত্যিই মনে নেই আমার।
রিগো, এই হ্যাটটা পাওয়া গেহে একটা ক্যাম্পফায়ারের পাশে। যেটা থেকে আগুন ছড়িয়েছিলো।
তাহলে এটা পুড়লো না কেন?
কারণ, আগুনটা ক্যাম্পফায়ার সেকে শুধু একটা দিকে সরেছে। হ্যাটটা পড়ে ছিলো আরেক পাশে।
চুপ হয়ে গেল রিগো।
ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললেন শেরিফ। রিগো, তোমাকে অ্যারেস্ট করতে বাধ্য হচ্ছি আমি।
চিৎকার করে কিছু বলতে যাচ্ছিলো পিনটু, তাকে থামালো রিগো। শেরিফের দিকে ফিরে মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, আপনার ডিউটি আপনি করুন, শেরিফ। তারপর আবার ভাইয়ের দিকে ফিরে বললে, ডন হেরিয়ানোকে গিয়ে এখুনি খবর দাও।
টেরি আর তার ম্যানেজারের দিকে ফিরে শেরিফ বলেন, তোরাও এসে আমার সাথে। স্টেটমেন্ট দিতে হবে।
নিশ্চয়ই, ডরি বললো।
খুশি হয়েই দেবো, বলে ছেলেদের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপলো টেরি। মুখে মুচকি হাসি।
