আবার সেই হিসটোরিক্যাল সোসাইটি! গুঙিয়ে উঠলো মুসা। পুরানো কাগজ ঘটতে আর ভাল্লাগে না!
হেসে উঠলো রবিন। তোমার অসুবিধে হবে না। ওসব দলিলের বেশির ভাগই স্প্যানিশে লেখা। পড়ার কষ্ট করতে হবে না তোমাকে। আজ যাচ্ছি না আর আমরা, কাল কিশোরকে নিয়ে যাবো। এ-হপ্তার হোমওয়ার্ক করেছো?
আবার গুঙিয়ে উঠলো মুসা। সর্বনাশ! তাই তো! মনেই ছিলো না! আমারও না। আজ সারতে হবে। সাইকেলগুলোর কাছে ফিরে চললো ওরা।
ডান দিকে চোখ পড়তে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো মুসা। সরে বাঁধের ওপর থেকে নেমেছে ওরা। পিনটু, বললো সে, তোমাদের র্যাঞ্চের কারো কুকুর আছে? চারটে, বড় বড় কালো কুত্তা?
কুকুর? না তো…
আমিও দেখেছি, রবিনের কণ্ঠে অস্বস্তি।
দীঘির ওপারে আলভারেজদের সীমানার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে চারটে বিরাট কুকুর। লাল টকটকে জিভ বের করা, জ্বলন্ত চোখ।
বিকট চেহারা… কথা শেষ করতে পারলো না রবিন। তার আগেই শোনা গেল তীক্ষ্ণ হুইসেল। পাই করে ঘুরলো মুসা। সংকেত! জলদি দৌড় দাও!।
দাঁত বের করে লাফিয়ে উঠে বাঁধের দিকে দৌড় দিলো কুকুরগুলো।
পড়িমড়ি করে আবার বাঁধের ওপর উঠে পড়লো ছেলেরা। প্রাণপণে ছুটলো সামনে পঞ্চাশ গজ দূরের কতগুলো ওক গাছের দিকে।
অনেক…দূর..! হাঁপাচ্ছে রবিন।
পারবো না…! পিনটুরও কথা আটকে গেল।
জলদি করো! আরো জোরে! তাগাদা দিলো মুসা।
মুসাআ! পেছনে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠলো পিনটু। দেখো, সাঁতরাচ্ছে!
দীঘির পাশ দিয়ে ঘুরে না এসে তাড়াতাড়ি আসার জন্যে পানিতেই লাফিয়ে পড়েছে কুকুরগুলো। দ্রুত সঁতরে আসছে। শিগগিরই উঠে আসবে এপাশে। ধরে ফেলবে ছেলেদের।
তবে ভুল করেছে কুকুরগুলো। পানিতে না নেমে যদি ঘুরে আসতো তাহলে আরও তাড়াতাড়ি করতে পারতো। কিছুটা সময় পেয়ে গেল ছেলেরা। এবং সেটা কাজে লাগালো।
পৌঁছে গেল গাছগুলোর কাছে। কোনোদিকে না তাকিয়ে গাছে উঠতে শুরু করলো। উঠে বসলো ওপরের ডালে, কুকুরের নাগালের বাইরে।
পৌঁছে গেল জানোয়ারগুলো। শিকার হাতছাড়া হয়েছে দেখে খেপে গেল ভীষণ। তুমুল ঘেউ ঘেউ করে লাফালাফি শুরু করলো। ধরতে পারলে ছিঁড়ে ফেলবে এমন ভাব।
গাছের ওপর আটকা পড়লো তিন কিশোর।
৯
আবার বেজে উঠলো হুইসেল। শান্ত হয়ে গেল কুকুরগুলো, শুয়ে পড়লো গাছের গোড়ায়।
দেখো। হত তললো রবিন। ভটকি আর তার মানেজার!
লাফিয়ে লাফিয়ে বাঁধের ওপর দিয়ে দৌড়ে আসহে তালপাতার সেপাই ছেলেটা। পেছনে তার হোল্কা ম্যানেজার। গাহের ওপরে ছেলেদের দেখে দাঁত বের করে হাসলো টেরিয়ার। আমাদের এলাকায় ঢুকেছো কেন? হাসতে হাসতে বললো সে। চুরি করতে?
তোমার কুত্তাগুলো তাড়িয়ে এনেছে আমাদের! রাগ করে জবাব দিলো পিনটু।
আলভারেজদের এলাকায় তোমরা কি করছিলে? ধমক দিয়ে জিজ্ঞেস করলো মুসা।
হেসে উঠলো ডরি। ঢুকেছিলাম সেটা প্রমাণ করতে পারবে?
আমরাই রং প্রমাণ করে দিতে পারি চুরি করে আমাদের সীমানায় ঢুকেছে তোমরা, টেরি বললো।
শেরিফকে জানিয়েছি, এখানে চোরের উৎপাত হচ্ছে, হেসে ডরি বললো। ওই যে, এসে পড়েছে।
ডয়েলদের এলাকার ভেতর দিয়ে আসা কাঁচা রাস্তা ধরে একটা গাড়ি আসতে দেখা গেল।
গাড়িটা থামলো। নামলেন শেরিফ আর তার ডেপুটি। এগিয়ে এলেন গাছের কাছে। জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার?
কয়েকটা চোরকে আটক করেছি, শেরিফ, ডরি বললো। আলভারেজদের ছেলেটা, আর তার দুই দোস্ত। বলেছিলাম না, ছেলেগুলো প্রায়ই ঢোকে আমাদের এখানে। নিশ্চয়ই চুরি করার মতলব। আরও শয়তানী করে। ঘোড়া ঢুকিয়ে গাছপালা নষ্ট করে, বেড়া ভাঙে, বেআইনীভাবে ক্যাম্প করে আগুন জ্বালে। আমার তো মনে হয় সেদিন আগুনটা ওরাই লাগিয়েছিলো।
মুখ তুলে ছেলেদের দিকে তাকালেন শেরিফ। নেমে এসো। ডরি, কুকুরগুলো সরাও।
নেমে এলো তিন কিশোর। ওদের দিকে তাকিয়ে গরগর করে উঠলো কুকুরগুলো।
দুই গোয়েন্দার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকালেন শেরিফ। মুসা আর রবিন না তোমাদের নাম? ইয়ান ফ্লেচারের সঙ্গে দেখেছিলাম। তোমরা গোয়েন্দা। অনুমতি না নিয়ে অন্যের এলাকায় ঢাকা যে বেআইনী এটা তো তোমাদের জানা উচিত।
জানি, শান্ত কণ্ঠে বললো রবিন। ইচ্ছে করে ঢুকিনি আমরা। ওরাই বরং না বলে আলভারেজদের এলাকায় ঢুকেছিলো। আমাদের দেখে কুত্তা লেলিয়ে দিয়েছে। উপায় না দেখে এসে এই গাছে উঠেছি।
মিথ্যে কথা বলছে ওরা, শেরিফ! গর্জে উঠলো টেরিয়ার।
মিথ্যে কথা তো তুমি বলছো! পাল্টা জবাব দিলো মুসা।
শেরিফ, রবিন প্রমাণ করার চেষ্টা করলো, আমরা যদি আগে থেকেই ওদের সীমানায় থাকতাম, তাহলে কুত্তাগুলো কি করে ভিজলো? এখন তো বিষ্টি-টিষ্টি কিছু নেই?
ভিজেছে? কুকুরগুলোর দিকে তাকালেন শেরিফ। তাই তো?
আমাদের তাড়া করতে দীঘি সাঁতরে এসেছে বলেই ভিজেছে। ওটা আলভারেজদের এলাকা।
লাল হয়ে গেল ডরির গাল। বললো, ওদের কথা শুনবেন না, শেরিফ। কুকুরগুলোর গা আগেই ভেজা ছিলো।
তোমার কথা কিন্তু আর বিশ্বাস করতে পারছি না, কড়া চোখে ডরির দিকে তাকালেন শেরিফ। কুকুরগুলো কি করে ভিজেছে?
সেটা পরে বলছি। আরেকটা জিনিস দেখবেন, আসুন।
শেরিফকে নিয়ে চলে গেল ডরি।
কি দেখাবে, উটকি? রবিন জিজ্ঞেস করলো।
সেটা এখন বলতে যাবো কেন? দাঁত বের করে হাসলো টেরি। দেখতেই পাবে।
মিনিট পনেরো পরে ফিরে এলেন শেরিফ। হাতে বাদামী রঙের একটা ব্যাগ। দুই গোয়েন্দা আর পিনটুর দিকে চেয়ে গভীর ভঙ্গিতে মাথা আঁকালেন, যাও, ছেড়ে দিলাম। কে মিথ্যে বলেছে, বুঝলাম না। যা-ই হোক, ডরিকে সাবধান করে দিয়ে এসেছি যাতে অন্যের এলাকায় কুত্তা না ছাড়ে। আর তোমাদেরও হুঁশিয়ার করছি অন্যের এলাকায় ঢুকবে না।
