চল যাই, শোনা গেল মেথুর গলা। এটা থাক এখানেই।
থাক, বলল ওয়েব। সকালে ফোন করব মক্কেলকে। বলব, কত চাই আমরা। আজ রাতটা একটু ভাবনা-চিন্তা করেই কাটাক।
কিন্তু কাল সকালেও তো পারা যাবে না, বলল মেথু। লং বীচে একটা কাজ করতে হবে, ভুলে গেছ?
তাই তো। ঠিক আছে, সকালে না পারলে বিকেলে ফোন করব। নত রাতে। দিনটাও দুশ্চিন্তা করেই কাটাক।
কত চাইব, বল তো? দ্বিগুণ নাকি তিন গুণ? জিনিসটা পাওয়ার জন্যে যেরকম উদ্বিগ্ন দেখলাম ওকে, আমার মনে হয় না করতে পারবে না। শেষ অবধি রাজি হয়ে যাবেই।
সে দেখা যাবে। চল, যাই এখন।
আবার দরজা খোলার শব্দ। স্টার্ট হল ইঞ্জিন। পিছিয়ে বেরিয়ে গেল ট্রাকটা।
উত্তেজনায় দুরুদুরু করছে মুসার বুকের ভেতর। ঠেলা দিয়ে দেখল কফিনের ডালায়। নড়াতে পারল না ঢাকনা। বড় বেশি শক্ত দড়ির বাঁধন।
.
১১.
হেডকোয়ার্টার। খটাখট টাইপ করছে রবিন। নোট লিখছে।
আজব বেড়ালটাকে কোলে নিয়ে তার চেয়ারে বসে আছে কিশোর। চিন্তিত। আলতো চাপড় দিচ্ছে বেড়ালের গায়ে। মৃদু ঘড়ঘড় করে আনন্দ প্রকাশ করছে। ওটা।
সেরেছে! টাইপরাইটার থেকে মুখ তুলেছে রবিন। দশটা বাজতে পাঁচ! মুসার কি হল?
হয়ত কোন সূত্র পেয়ে গেছে, বলল কিশোর। তদন্তের কাজে ব্যস্ত।
কিন্তু যেখানেই যাক, দশটার মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা তার। আমারও তাই। বেশি দেরি করলে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়ে যাবে বাড়িতে।
ফোন করে বলে দাও, ফিরতে আরও খানিক দেরি হবে। ইতিমধ্যে এসে যাবে মুসা।
ফোন ধরলেন রবিনের মা। আরও আধঘণ্টা থাকার অনুমতি দিলেন ছেলেকে।
বেড়ালটাকে ডেস্কের ওপর নামিয়ে রেখে উঠে দাঁড়াল কিশোর। গিয়ে চোখ রাখল পেরিস্কোপে। ইয়ার্ডের গেটে আলো। রাস্তায় ল্যাম্পপোস্ট থেকেও আলো এসে পড়ছে চতুরে। নীরব, নির্জন। মেরিচাচীর ঘরে আলো জ্বলল। টেলিভিশন দেখছেন চাচা-চাচী। বোরিস আর রোভারের কোয়ার্টার অন্ধকার। সিনেমা থেকে এখনও ফেরেনি ওরা।
আবার রাস্তার দিকে পেরিস্কোপ ঘোরাল কিশোর। একটা গাড়ি এগিয়ে আসছে। গেটের কাছে এসে গতি কমাল। একটা নীল স্পোর্টস কার। ড্রাইভারের আসনে বসে আছে লম্বা শুকানো এক কিশোর। মুখ ফিরিয়ে ইয়ার্ডের দিকে তাকাল ছেলেটা। তারপর আবার এ লি। দ্রুত গাড়ি চালিয়ে মোড় নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।
চেয়ারে ফিরে এল কিশোর। মুসার কোন চিহ্ন নেই, গম্ভীর কণ্ঠস্বর। কিন্তু শুটকো টেরি শহরে ফিরে এসেছে। জ্বালাবে।
তাই নাকি! প্রায় চেঁচিয়ে উঠল রবিন। তাহলে গেল আমাদের শান্তি!
গেটের কাছে থেমেছিল। জানা কথা, আমাদেরকে খুঁজছে।
বেশি বাড়াবাড়ি করলে এবার ধরে পেটাব। ব্যাটা জন্মের শয়তান! আবার টাইপে মন দিল রবিন।
সময় যাচ্ছে। মুসার জন্যে ভাবনা বাড়ছে দুজনের।
আর আধঘণ্টা অপেক্ষা করব, অবশেষে বলল কিশোর। তারপর কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে।
টাইপ থামিয়ে দিয়েছে রবিন। কিশোর, কোন বিপদে পড়েনি তো মুসা? একটা টেলিফোনও তো করতে পারত!…কিশোর, ওয়াকি-টকিতে যোগাযোগের চেষ্টা করছে না তো!।
তাই তো! প্রায় লাফিয়ে উঠল কিশোর। টেবিলে রাখা লাউডস্পীকারের সঙ্গে ওয়াকি-টকির যোগাযোগ করে দিয়ে সুইচ টিপল। হেডকোয়ার্টার ডাকছে। সহকারীকে! সেকেণ্ড, শুনতে পাচ্ছ আমার কথা? সেকেণ্ড!
স্পীকারের মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।
আবার চেষ্টা করল কিশোর। বৃথা। নাহ্, মাথা নাড়ল সে। চেষ্টা করছে না মুসা। কিংবা রেঞ্জের বাইরে রয়েছে। রবিন, রাত অনেক হয়ে গেছে। তুমি বাড়ি চলে যাও। আমি থাকছি এখানেই।
অনিচ্ছুক ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়াল রবিন। দুই সুড়ঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে সাইকেলটা নিয়ে চলে গেল ইয়ার্ড থেকে।
বাড়িতে ঢুকল রবিন। গভীর চিন্তায় মগ্ন। বাবার ডাক শুনতেই পেল না।
রবিন? আবার ডাকলেন মিস্টার মিলফোর্ড। এত কি ভাবছিস রে? স্কুল তো ছুটি। পরীক্ষা-টরীক্ষা নেই।
মুখ তুলে তাকাল রবিন। বাবার দিকে এগোল। বাবা, একটা সমস্যায় পড়েছি! একটা রহস্য।
বলবি নাকি আমাকে?
বাবা, একটা বেড়াল, দুটো চোখ দুই রঙের। একটা সোফায় বসে পড়ল রবিন। নীল আর কমলা।
হুম! আস্তে মাথা নাড়লেন মিস্টার মিলফোর্ড। পাইপে তামাক ঠেসে আগুন ধরালেন।
কিন্তু, বাবা, আসল সমস্যা বেড়ালটা নয়। একটা মমি। তিন হাজার বছরের পুরানো। ওটা কথা বলে!
তাই নাকি? পাইপে টান দিলেন মিস্টার মিলফোর্ড। হাসলেন। এটা একটা সমস্যা হল? মমিকে কথা বলানো সহজ। পুতুল নাচ দেখিসনি? পুতুলকে কি করে কথা বলায় ওরা?
চোখ বড় বড় করে চেয়ে রইল রবিন প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে।
বুঝলি না? আবার পাইপে টান দিলেন মিস্টার মিলফোর্ড। ভেন্ট্রিলোকুইজম। যুক্তির ভেতরে আয়। মমি হল মরা শুকনো লাশ, ওটার কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না। তার মানে, মমিটার হয়ে কোন একজন মানুষ কথা বলে। সুতরাং, রহস্যের সমাধান করতে হলে আশপাশে এমন একজন প্রতিবেশীর খোঁজ কর গিয়ে, যে ভেন্ট্রিলোকুইজম জানে।
তড়াক করে লাফিয়ে উঠল রবিন। ফোনের দিকে ছুটল। কিশোরকে জানাতে হবে। পেছনে চাইলে দেখতে পেত, হাসিতে ভরে গেছে বাবার মুখ। ছেলেবেলায়। তিনিও রবিনের মতই চল ছিলেন। ছেলের মতিগতি তাই খুব ভাল করেই বোঝেন।
দ্রুতহাতে ডায়াল করল রবিন। প্রথম রিঙের সঙ্গে সঙ্গেই ওপাশ থেকে রিসিভার তুলল কিশোর। রবিনের সাড়া পেয়ে হতাশ মনে হল তাকে। আমি ভেবেছিলাম, মুসা! তো, কি খবর, রবিন? মুসার খবর জানতে চাইছ তো?
