বাধা দিয়ে কর্নেল বললেন, বুঝলুম। তাছাড়া এটা নিশ্চয় রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট নেতা হিসেবে আপনার নৈতিক কর্তব্যও বটে।
পানিগ্রাহী সোৎসাহে বললেন, একজ্যাক্টলি, একজ্যাক্টলি!
তাহলে ভারতবাবুর ওপর চোখ রাখবার জন্যে আপনি মিস তন্দ্রা ভাদুড়ী নামে একটি সেক্সি চেহারার মেয়েকে চাকরি দিলেন এবং ভারতবাবুর হোটেলে সুইট ভাড়া করে থাকতে নির্দেশ দিলেন। মিঃ পানিগ্রাহী, ২১ জুলাই তারিখটি তন্দ্রা আসার এবং সেইসঙ্গে আপনারও আসার জন্যে কেন বেছে নিলেন? কেন ২০, ১৯, ১৮, ১৭ কিংবা অন্য কোনও তারিখ নয়?
ঠিকই ধরেছেন কর্নেল সরকার! ওই তারিখে আসতে বলার উদ্দেশ্য ছিল। আমি কোনও সুত্রে জানতে পেরেছিলুম যে ২২ তারিখ রাত্রেই ভারতবাবু একটা মোটারকমের লেনদেন করবে। কিন্তু কীভাবে শয়তানটা আমার সব প্ল্যান টের পেয়ে ভাড়াকরা খুনী লাগাল তন্দ্রার পিছনে। মুখোশ পরে খুনী ফলো করল তন্দ্রা আর সুমন্তকে। তারপর…।
কিন্তু ওটা স্রেফ ফার্স মিঃ পানিগ্রাহী!
ফার্স? তার মানে?
কর্নেল রাঙতার ছুরির তথ্য জানালেন। পানিগ্রাহী হতভম্ব হয়ে বসে রইলেন কয়েক মুহূর্ত। তারপর বললেন, তাহলে তো ব্যাপারটা ভারি রহস্যময়! আচ্ছা এমনও তো হতে পারে, তাকে ওইরকম ভয় দেখিয়ে ভারতবাবু তাড়াতে চেয়েছিল এখান থেকে?
এও হতে পারে। আই এগ্রি। কিন্তু তন্দ্রা খুন হলো সত্যি সত্যি।
হ্যাঁ–খুন হলো?
মিঃ পানিগ্রাহী, এবার আমি ফের কিছু প্রশ্ন করি।
বলুন কর্নেল?
এই ছেলেটি–সুমন্ত, একে কোথায় পেলেন?
সুমন্ত আমার অনেকদিনের চেনা ছেলে। আমি ওকে আসতে বলে এসেছিলুম কলকাতা গিয়ে। তখনই ও বিজ্ঞাপন দেবার পরামর্শ দেয়। যাই হোক, আফটার অল তন্দ্রা মেয়ে, তার একটা রিস্কের ব্যাপার ছিল। তাই ভাবলুম, তার বয়ফ্রেণ্ড হিসেবে ও যদি নিছক বেড়াতে এসে তার সঙ্গে এখানে দেখা হয়ে গেছে–এভাবে তার কাছাকাছি থাকে, তাহলে সুবিধে হয়। তন্দ্রা আর আমার মধ্যে গোপন যোগাযোগের মাধ্যম হবে সুমন্ত। আজকাল তরুণ-তরুণীদের মেলামেশার রীতি ভারতবাবু তো চোখের ওপর দেখছে। তাই সন্দেহ হবে না!
আপনার তৃতীয় চিঠিতে তারই উল্লেখ আছে বটে। কলকাতা থেকে জনৈক এস. রায় দেখা করবে তাকে। তন্দ্রা যেন তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। তন্দ্রা সেই নির্দেশ পালন করেছিল জানতে পেরেছি। কিন্তু কেন সুমন্ত মেয়ে সাজল? বুকে এই বেলুনদুটো আটকে একেবারে মডগার্ল সেজে…
বাধা দিয়ে পানিগ্রাহী বললেন, পরে ভেবে দেখেছিলুম, সুমন্ত সঙ্গে থাকলে ভারতবাবুকে করতলগত করতে পারবে না তন্দ্রা। বয়ফ্রেণ্ডওয়ালা মেয়ের সঙ্গে সে। মিশতে সাবধানী হয়ে উঠবে। তার চেয়ে তার মেয়েবন্ধু হয়ে থাকাটা খুব সুবিধাজনক। সুমন্ত চৌকস ছেলে। রাজনৈতিক দলে কালচারাল সুখ্যাতি আছে কর্মী। হিসেবে। সে দরকার হলে মারামারি খুনোখুনিতেও সিদ্ধহস্ত।… বলে সস্নেহে সুমন্তর দিকে তাকালেন পাণিগ্রাহী। তারপর বললেন, যাই হোক–তখন আর হাতে সময় নেই। সুমন্তকে আগেই জানিয়ে রেখেছিলুম, আমি কী নামে কোথায় থাকব…
তন্দ্রাকেও কি জানিয়েছিলেন পরে–মানে, সুমন্তর মারফত?
হ্যাঁ। তা–এই গেস্ট হাউসের বেয়ারাকে দিয়ে চিঠি পাঠালুম। আপনি সেই বেয়ারাকে জিগ্যেস করলেই জানতে পারবেন।
থাক্, বলুন। সুমন্ত তখন কোথায় ছিল?
আমার বাংলোয়?
হুঁ–তাকে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়েছিলুম।
কিন্তু হাসিরাম তো একুশ তারিখ বিকেলে বাংলো সাফ করতে গিয়েছিল। সে তো কিছু বলল না।
হাসিরাম সুমন্তকে চেনে। সুমন্ত গত ইলেকশানে–এ বছর মার্চে আমার সঙ্গে বাংলোয় ছিল কয়েকদিন। তখন অবশ্য মাথায় লম্বা চুল ছিল না ওর। কিছুকাল আগে কলকাতায় ওর সঙ্গে দেখা হয়–তখন ওর মাথায় লম্বা চুল দেখেছিলুম। তাই আমার শেষ মুহূর্তে মতলব এসেছিল যে ওর যা মেয়েলি চেহারা, আনায়াসে মডগার্ল বলে চালানো যায়। অবশ্য বেয়ারার চিঠিতে আমি ওকে বুকে জলভরা বেলুন বাঁধতে লিখিনি।..হো-হো করে হাসলেন পাণিগ্রাহী। সুমও হাসল।
তাহলে হাসিরাম সুমন্তকে দেখেছিল বাংলোয়। সে আমার কাছে তাহলে কথাটা চেপে গেছে। আচ্ছা, মিঃ পানিগ্রাহী, এবার বলুন–২২ জুলাই রাত্রে আপনি কী কী করেছেন?
কথা ছিল–আমার সেই সোর্সের খবর সতি হলে সুমন্ত তক্ষুনি সোজা এখানে এসে আমাকে খবর দেবে। তাই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি রেনকোট পরে বেরোলুম। তখন রাত সাড়ে দশটা। এই গেস্ট হাউসের পিছনেই একটা জংলা পথ আছে–টিলার গা ঘেঁষে আমার বাংলোয় পৌঁছেছে। আমি বেরিয়ে দোটানায় পড়লুম। সী ভিউতে যাব না, আমার বাংলোয়। সুমন্ত যদি আমাকে জানাত যে সে একুশ তারিখ রাত্রে বাংলোয় না থেকে হোটেলে তার কাছেই ছিল এবং পরের রাতেও থাকবে–তাহলে আমি বাংলোয় যেতুম না। অন্য প্ল্যান করতুম। কিন্তু আজকালকার ছেলেমেয়েদের আমি সত্যি বুঝতে পারিনে। সুমন্ত তন্দ্রার সঙ্গে রাত কাটাবে আর তন্দ্রা সব জেনেও তাতে আপত্তি করবে না–আমি ভাবিনি।
সুমন্ত চাপা স্বরে বলল, তন্দ্রা বরাবর আমার গার্লফ্রেণ্ড ছিল।
পানিগ্রাহীর স্বরে রাগ ও ভর্ৎসনা প্রকাশ পাচ্ছিল। বললেন, দা হেল অফ ইট! যা গে–আমি তখন উদ্বিগ্ন। ভাবলুম, বৃষ্টির জন্যে নির্ঘাৎ ভারতবাবুর প্ল্যান ভেস্তে গেছে-তাই তখনও কোনও খবর পাচ্ছিনে সুমন্তদের কাছ থেকে। তাই
