হ্যাঁ স্যার। উনি তাই যান। তারপর সব আমার জিম্মায় থাকে।
মালিক থাকেন না কোনও সময়?
থাকেন। কিন্তু তার কোন ঠিক নেই। ওঁর আরও সব ব্যবসাপত্তর আছে।
আর সব লোকেরা বারোটা অব্দি থাকে কি?
থাকে স্যার। কাল বৃষ্টি হচ্ছিল–লোক হবে না ভেবে তাদের যেতে বলেছিলুম।
কাল রাতে যে মেয়ে দুটি ছিল, তারা কটায় তোমাদের রেস্তোরাঁয় এসে ঢোকে?
বৃষ্টি শুরু হবার একটু আগে।
আন্দাজ কতক্ষণ আগে?
তা মিনিট পনের হবে–ঠিক কাঁটায় কাঁটায় বলতে পারব না স্যার।
তাদের একজন খুন হয়ে ওখানে পড়ে রয়েছে বলছ। তোমার চিনতে ভুল হচ্ছে না তো?
না স্যার, কী বলছেন! অতক্ষণ অব্দি বসেছিল শার্কে–আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল চেহারা।
তুমি একেবারে, নিশ্চিত হয়ে বলছ?
একেবারে, স্যার। ভুল হয়নি।
তাদের হাতে কোনও ব্যাগ-ফ্যাগ ছিল না?
না।
তোমরা কি খাওয়ার পর দাম নাও?
মদের দামটা আগে নিই, অন্য কিছু খেলে পরে নিই।
প্রথমবার হাফ-পেগ করে জিন নিয়েছিল বলেছ, তার দাম কে দিল?
ফরসা লম্বা মেয়েটি। সে বেলবটম প্যান্টের পিছনের পকেট থেকে টাকা বের করেছিল।
তার ঠোঁটে লিপস্টিক ছিল?
নব একটু ভেবে বলল, বোধ হয়, না স্যার।..না, ছিল না। কারণ, ওর ঠোঁট দুট কীরকম মোটা-সেটা চোখে না পড়ে পারে না।
কীরকম সেটা, মানে?
মানে ইয়ে…স্যার, ওরকম ঠোঁট মেয়েদের মুখে মানায় না। কেমন যেন পুরুষালি।
তার গায়ে গেঞ্জি ছিল বলেছ। চুল লম্বা ছিল, তাও বলেছ। কতটা লম্বা?
নব তার ঘাড়ের অনেকটা নিচে হাত দিয়ে দেখাল।…এতটা লম্বা হবে।
ঘাড় থেকে ছসাত ইঞ্চি?
হ্যাঁ স্যার।
চুল খোলা ঝুলছিল?
হ্যাঁ স্যার।
নব, তুমি হিপি দেখেছ?
অনেক দেখেছি, স্যার। বিস্তর।
তার বুকে ব্রেসিয়ার ছিল না কিভাবে বুঝলে?
নব সলজ্জ স্বরে বলল, বুকটা উঁচু ছিল স্যার।
নব, এতে লজ্জা পাবার কিছু নেই। মেয়েরা, ব্রেসিয়ার না পরে থাকলে নড়াচড়ার সময় স্তনদুটো দোলে। তুমি তেমন কিছু নিশ্চয় লক্ষ করে থাকবে?
অতটা লক্ষ করিনি। তবে বুক উঁচু ছিল, তাতে কোনও ভুল নেই।
এই সময় পুলিশ ইন্সপেক্টর আচার্য হাসতে হাসতে মন্তব্য করলেন, আজকাল ছেলেরাও মেয়ে সেজে থাকতে পছন্দ করে। মোহনপুরে একদল ইভ-টিজার ধরলুম গতকাল, দুজনকে দেখে তো বুঝতেও পারিনি যে আসলে ওরা ছেলে।
কর্নেল সায় দিয়ে বললেন, ঠিকই। আচ্ছা নব, ওদের মধ্যে কথাবার্তা নিশ্চয় হচ্ছিল?
হচ্ছিল। তবে এত চাপা গলায় যে কিছু শুনতে পাইনি।
অর্ডার দিচ্ছিল কে?
ফরসা মেয়েটিই। তবে স্যার, টেবিল ঠুকে ইশারায় অর্ডার দিচ্ছিল। আরও একদিন–না, আগের দিন তারও আগের দিন ওরা এসেছিল। রাত নটা অব্দি ছিল দুজনে। হাফ করে খেয়ে আসছিল প্রতিদিনই। শুধু গত রাতে আরেকটা হাফ পেগের অর্ডার দেয়।
দুজনকে গম্ভীর দেখাচ্ছিল, না হাসি-খুশি?
দুজনেই গম্ভীর। আগের দিনও তাই দেখেছি।
ফরসা মেয়েটির আর তেমন কোনও বিশেষ চিহ্ন বা কোনও ভঙ্গি তোমার মনে পড়ছে?
নব একটু ভেবে ঈষৎ উদ্দীপ্ত হয়ে বলল, স্যার, ফরসা মেয়েটির হাতে উল্কি ছিল।
আর কিছু?
আর কিছু…মনে পড়ে না স্যার।
কোন হাতে উল্কি ছিল?
সেটা…হ্যাঁ, হ্যাঁ–বাঁ হাতে গেলাস ধরছিল। বাঁহাতে উল্কি ছিল এখানটায়। বলে নব তার বাঁহাতের তালু চিৎ করে কবজি থেকে ছইঞ্চি দূরে একটা জায়গা দেখাল। তারপর ফের উদ্দীপ্ত মুখে বলে উঠল, স্যার! মেয়েটি বেঁয়ে। বাঁহাতে সিগারেট খাচ্ছিল, বাঁহাতে দাম দিচ্ছিল.
তার মানে লেফট হ্যাণ্ডার?
কী বলো?
হ্যাঁ।
দুজনেই সিগারেট খাচ্ছিল?
হ্যাঁ।
সিগ্রেটের টুকরোগুলো কোথায় ফেলছিল?
অ্যাশট্রেতে।
অ্যাশট্রে কি সাফ করে ফেলেছ?
হ্যাঁ, স্যার। ভোরে সুইপার এসে সাফ করে প্রতিদিন।
আচ্ছা নব, দেশলাই জ্বালছিল কে?
খুন হওয়া বেঁটে মেয়েটি, স্যার। সে ধরিয়ে দিচ্ছিল–একবার লক্ষ করেছি।
ফরসা মেয়েটি বেশি সিগারেট খাচ্ছিল, না বেঁটে মেয়েটি? নাকি দুজনেই একসঙ্গে সমান খাচ্ছিল?
নব একটু ভেবে বলল, বেঁটে মেয়েটি দুএকবার–তবে ফরসা মেয়েটি বেশি।
কর্নেল কথা কেড়ে বললেন, সে নিশ্চয় নিজের সিগারেটের পোড়া টুকরো থেকে সিগারেট ধরাচ্ছিল?
হ্যাঁ, স্যার। ঠিক বলেছেন।
সেনাপতি বললেন, তাহলে সে চেইন-স্মোকার দেখছি!.
কর্নেল বললেন, নব, এবার সেই ছোরা হাতে লোকটির কথা বলল। সে মাথায় তোমার চেয়ে ছোট, না উঁচু?
না স্যার, ছোট। রোগামতো টিঙটিঙে লোক। ময়লা রঙ। হাতে লোম ছিল।
চুল?
চুল…তখন খুঁটিয়ে দেখার মতো অবস্থা তো ছিল না স্যার। তার ওপর মুখে মুখোশ পড়া।
কোনও বিশেষ চিহ্ন বা ভঙ্গির কথা মনে পড়ছে?
না স্যার। সে আধ মিনিটেরও কম লম্ফঝম্ফ করে পালাল। তখন কিছু লক্ষ করার কথা মাথায় কারও আসা সম্ভব, স্যার?
পায়ে জুতো ছিল দেখেছ?
মনে পড়ছে না। বলছি তো–তখন যা অবস্থা চলেছে…
কিন্তু তুমি তো শক্ত-সমর্থ প্রায় পালোয়ান মানুষ, নব। বারে মাতালদের হাঙ্গামা নিশ্চয় হয়। তোমাকেও তা থামাতে হয়। কী বলো?
হয়, স্যার। আমাকে মাতাল বলে কথা নেই, আপনাদের আশীর্বাদে, ভদ্রলোক ছোটলোক সবাই বেশ ডরায়। আমি নিজেও কম মারামারি করিনি এ জীবনে। থানার স্যাররা সে-হিসট্রি সব জানেন।
অথচ নব, তুমি তখন ছোরা হাতে একটা লোককে দেখে হতভম্ভ হয়ে রইলে। কোনওরকম বাধাও দিলে না! ইচ্ছে করলে তো তুমি ওকে ছোরা কেড়ে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দিতে পারতে!
