তাল/দাদরা
সংগীতাচার্য রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত স্বরলিপি
যদি ডাকার মত

মন চলো যাই ভ্রমণে
কৃষ্ণ অনুরাগের বাগানে
সেথা যাবি প্রাণ জুড়াবি
আনন্দে সমীরণে।
সে বা গানে তিন জন মালী
একজন উড়ে একজন সাহেব একজন বাঙালী
তারা সেচ করে লাড়ে চারে
গাছ-বাড়ে অতি যতনে।
সে বাগানে নিত্য ফোটে পাঁচ রকমের ফুল
সৌরভে প্রাণ আকুল করে গৌরবে আকুল
ওরে আত্মারামের আত্মা ব্যাকুল
করেছে তার আঘ্রাণে।
তাল: দাদরা
মন চলো যাই ভ্রমণে
স্থায়ী
প্রথম অন্তরা
দ্বিতীয় অন্তরা
চল্ গুরু চ্ল দুজন যাই পারে
আমার একলা যেতে ভয় করে।
পার ঘাটাতে মাল্লা ছয় জনা
সঙ্গী বিনে তারা আমায়
পার করে দেয়না
মাঝি বলে পার করে-দি
মাল্লারা নিষেধ করে।
আমার দেহ ছিলো শ্মশানের সমান
গুরু তুমি মন্ত্র দিয়ে
করলে ফুল বাগান
আবার সেই বাগানে ফুল ফুটেছে
গোঁসাই অধর চাঁদ বিরাজ করে।
তাল: দাদরা
চল্ গুরু চল্
স্থায়ী
চল্ গুরু… দুজন যাই পারে অবধি।
প্রথম অন্তারা
চল্ গুরু… দুজন যাই পারে অবধি।
দ্বিতীয় অন্তরা
চল গুরু… দুজন যাই পারে অবধি।
আমার ঐ নিতাই চাঁদের দরবারে
একমন হ’লে সে-ই যেতে পারে
দুমন হ’লে পড়বি ফেরে
পারবি না যেতে পারে।
চারদশে হয় চল্লিশ সেরে মন
রতি মাসা কমি হ’লে লয়না মহাজন
আবার সদর হুকুম আছে ব্রজে
রাধারানী পার করে।
কাঠুরেতে মাণিক চেনে না
ময়রার বলদ চিনি বয় তার স্বাদ জানে না
আবার সোনার বেনে সোনা চেনে
পরখ করে লয় তারে।
সদর আমিন শ্রীরূপ গোঁসাই সনাতন
আনন্দ বাজারে তারা প্রেমের মহাজন
ও-প্রেম দাঁড়ি ধরে ওজন করে
ঘ’ষে মেজে লয় তারে।
তাল: দাদরা
আমার ঐ নিতাইচাঁদের
স্থায়ী
প্রথম অন্তরা
দ্বিতীয় অন্তরা
তৃতীয় অন্তরা
ফকিরি (দাদরা)
লাইলাহা ইল্লালার নকশা আছে যার দিলে
খুদা পাক্ রসুরুল্লাহ সঙ্গেতে ফিরে ॥
ছয়তলাতে তালা দিলে অধরাকে ধরা যায়
হু-হু শব্দে বীণা বাজে তোমার দিল দরিয়ায়
হু-হু শব্দর কর ঠিকানা পাইবি রে সোনার মদিনা
পাইলে পাইতে পার আত্মায় আত্মায় মিশিলে॥
একুশ হাজার ছয়শোটিকার নাসিকাতে আসে যার
এই কথাটি মুর্শীদ ধরে তোমরা সবে জান ভাই
আড়ি পেতে আল্লা আছে মিমে মহম্মদ আছে
এই কথা বলতে মানা লিখা আছে পাক্ পুরাণে॥
রত্না কূলের আব্দুল ফকির বলে দিল এই সভায়
বেহেস্তে যাবার পথ পরিষ্কার করনা ভাই
বেহেস্তে যাবার কালে লয়ে যাবে কোলে করে
নইলে দোজখ যেতে হবে তাতে কিছু বাধা নাই॥
লাইলাহা ইল্লালার নকশা আছে যার দিলে
ফকিরি (কাহারবা)
ঐ মনের মানুষ আছে
খামোশ হৃদয় মাঝে
গোপন ভাবে।
মানুষ মানুষ বলে সবে
মানুষ ধর মানুষ পাবে॥
মানুষ ধরে দেখ নিজে
পাবে মানুষ হৃদয় মাঝে
(ঐ) থেকে না আর মিছে কাজে
মানুষ আছে ধরতে হবে॥
মানুষ আছে রঙমহলে
মানুষ মিলে কলমার কলে
নইলে জনম যায় বিফলে
আখেরাতে পস্তাইবে॥
আলির ডালসিধ হইল যখন
হুকম দিল সাঁই নিরঞ্জন
তখন সেজ্দা করে ফেরেস্তাগণ
সেই মানুষ আসিল যবে॥
মহম্মদ কয় কাতর হালে
ফকির সাহার চরণ তলে
মানুষেরই হুঁশের বলে
সাবেদ পেয়ে দেখলাম ভবে॥
ঐ মনের মানুষ আছে
ফকিরি (কাহারবা)
বন্ধুর বাড়ী হ’তে রে মন
আইছি অনেকদিন গো আমি।
যাব কবে মরি ভেবে দেহ হ’ল হীন॥
বন্ধু যখন আসবে নিতে
তার সঙ্গে ভাই যাব চলে
থাকবে না আর এই মহলে
সবাই বাসে ঘিন্॥
রোজা নামাজ পঞ্চ বেলা
গলে লাগাও তিরিশমালা
বন্ধু দেখে হবে ভোলা
খেলবে কত রসের খেলা বয়সের নবীন॥
দায়েম শাহের রচনা
মিঠাই মণ্ডা ঘিয়ে বোনা
তেলে ছাঁকা তাও নেব না,
বুঝে মিঠাই কিন্॥
বন্ধুর বাড়ী হ’তে রে মন
ফকিরি (কাহারবা)
ঘরের মানুষ আছে ঘরে
তারেও চিনলাম না—
চিনে ভালোবাসলে পরে
বিচারের ভয় রবে না,
তোমার মবণের ভয় রবে না॥
দুশ’ছয়টি টুকরো কাঠের
বিনা পেরেকে সেই ঘর আঁটে
তিনশ’ ষাটটি তার লাগিয়ে
চালায় মালিক কারখানা॥
আট কুঠুরি ঘরের নয় দরজা
তিনজন উজির তিনজন রাজা
তিনতলা ঘর বড়ই মজার
পাঁচজনার ঐ বারামখানা॥
সাততলা ঘর সিংহাসনে
বসে আছে মালিক নিজের ধ্যানে
লালন বলে অন্যমনে
কর গুরুর সাধনা॥
ঘবের মানুষ আছে ঘরে
২.৬ বাউল-ফকিরি গানের সুর প্রসঙ্গে আলাপচারি
দিনেন্দ্র চৌধুরী গান পাগল মানুষ। নানা বর্গের সংগীত গায়নে তিনি দক্ষ এবং বড় মাপের পারফরমার। আধুনিক বাংলা গান সম্পর্কে তাঁর উৎসাহ প্রবল। নিজে গান লেখেন, সুর করেন। গান নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবনা উদ্রেককারী নিবন্ধ লেখেন। ভাল ট্রেনার এবং তাঁর পরিচালনায় অনেক রেকর্ড বেরিয়েছে। তাঁর বেশ ক’টি বই আছে, গবেষণা আছে, একথা দীর্ঘদিন জানি বলেই একদিন তাঁর সঙ্গে বসেছিলাম বাংলা বাউল গানের সুর ও সুরের গঠন সম্পর্কে আলোচনা করতে। জানতাম যে তাঁর বক্তব্য হবে মৌলিক ও প্রণিধানযোগ্য, তাই সঙ্গে ছিল টেপরেকর্ডার। আমার প্রশ্ন আর দিনেন্দ্র চৌধুরীর জবাব নিয়ে সেই আলাপচারি এখানে লিখিত আকারে ছেপে দেওয়া গেল গানবাজনায় উৎসাহীজনের জন্য। টেপরেকর্ডবদ্ধ এই আলাপচারির লিখিত রূপে তিনি পরে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ও সংযোজন করেছেন। নীচে সেটি অবিকল মুদ্রিত হল।