১৩
নিরাকার পরওয়ার আকার ধরেছে রে
ওমন দেখলি নারে নজর করে দেলের জাঙ্গারে।
হামদো সানা সিফাতে হয়
আল্লা রসুল সকলে কয়
তৈয়ব কলমায় কয় দয়াময়
রবে নিরাকার রে॥
হাম মিম সেজদা বীজে।
সা নুরেহিম আয়াতে আছে
সৃষ্টি সকল জগৎ বীজে
আমার নিশান দেখায় রে॥
আদম আল্লা সুরাতেহি
না ফাকতোহি হেমির রুহি
আকার ধরে এলাহি
দম আপনার ফুকে রে॥
মহম্মদ আপন খুদি ছাড়ো
দেশ বিদেশে নাহি ঘোর
বুলে বারো বসে তেরো
পুজো তার চরণ ধরে॥
১৪
নমাজ রোজা কলমা পড়বো না
তাতে তোমার কিসের ভাবনা
আমি কেবল মাত্র চাইব দিদার
হর গুলেমাল চাহি না॥
নামাজের মধ্যে রে আকার
দেখা ভীষণ গুনগার
ঐ জন্য আমারই ভাই
হয়ে ওঠা ভার।
তুমি পার যদি খুবই কর
আমায় কিছু বল না॥
কলমা পড়লে হয় না মুখে
কলমা দেখতে হয় চোখে
ঐ জন্যে আমি রে ভাই রয়েছি ঠেকে
আবার না দেখে পড়লে কলমা
কুফরি তো ঘুচবে না॥
রোজা রাখার যে ঠেলা
দিন গিয়ে সন্ধ্যাবেলা
খাবার হয় পালা।
আবার তাহার মাঝে একটু ত্রুটি হলে
রোজা হবে না॥
মহম্মদ জানের এই মনের বাসনা
তা কেন বলব না
হক গুরুজি মোর আলমের পানা
আমি নিজের বেহেস্ত করব তৈরী
কারো বেহেস্তে যাবো না।
১৫
দেখবি যদি অধর চাঁদে একদম ভুলো না
হুশ দরদম নজর কর কদম সাফাদের ওতনে হবে মিলনা।
ঘৃণা লজ্জা ভয় ছাড়ো বিচার করে
নাম রং জাত মা বাপ হামকে ছেড়ে
জপ জোয়ান ধিয়ান করে
আপনায় পাবি আয়না ॥
সেওয়াই মিনতি অধীনতা
জানেতে তখন সে আছে কোথা
খুঁজো কেন হেথা সেথা
হয়ে তুমি দিন কানা॥
দেল আগার সাফকুনি
হামচু আয়না বেরকুনি
চিন্তাতে রয় চিন্তামণি
পীরের কাছে বোঝ না ॥
কিনা কেবর আদাওত ছেড়ে
থাকো রে মন জ্যান্ত মরে
সাহত লালচ দূর করে
হও রে মন দেওয়ানা॥
হেরেশ বগজ গুস্যা ছাড়ো
ঝুট বখিলে নেকি কর
মহম্মদ শাহর সঙ্গ ধর
কোন চিন্তা রবে না।
কম খানা কম শোনা
কম বল না কম চল না
তুমি দয়াল দয়া করে
পুরাও মনের বাসনা ॥
১৬
বলব বলব মনে করি সে কথা বলব কি করে
তিনটি নামের একটি মানুষ একটি ঘরে বাস করে।
তাহার ঠিকানা বলি
জেলা হুগলী শহর দিল্লী
আবার জীবনপুরে ইস্টিশনে
দমকলে দম চলে ফিরে ॥
হক জামালের জমিদারী
দম দমাতে হয় কাছারী
চারটি থানার খবরদারী
চার দারোয়ান চারধারে ॥
জবরূত নাসুত লাহুত মালকুত
শুনে ফকির হয়েছে বহুত
ফকির বলে হয় না ফকির
হয় মনের মানুষ ধরে ॥
১৭
প্রেমের খেলা ইস্কের মামলা সবে জানে না
ইস্কেবাজী করে দেখ মালেক রব্বানা।
আপন নুরে আপনি আশক
হলেন দেখ আল্লাজী পাক
করে কত জাঁকজমক
হয়ে দেওয়ানা ॥
আপন নূরে নবী পয়দা করে
দুনিয়ায় পাঠায় খোদা
দুই জনাতে জুদা হয়ে
থাকতে পারে না॥
মহম্মদকে আনিবারে
জিব্রিল পাঠায় মক্কর করে
মক্করউল্লার মক্করকে কয়
প্রেমের ছলনা ॥
আয়নকহক হক ফুকারে
মনসুর আপে চড়ে দ্বারে
প্রেমের খেলা কেমন করে
দ্বারের বাহানা ॥
খলিলুল্লার আতশেতে
মুশা নবী কহতুরেতে
ইনুষ নবী মাছের পেটে
করে মিলনা ॥
জোলেখা ইউসুফের তরে
শিরীর প্রেমে ফরেহাদ মরে
লাইলার প্রেমে কয়েশ আপে
হলেন দেওয়ানা ॥
গুরুজিকে মহম্মদ কয়
প্রেম পিয়ালা পিয়াও আমায়
মস্ত কর আপন দয়ায়
বানাও দিওয়ানা॥
ইমরান ফকিরের গান
ভেদের কথা ভেদির নিকট জানতে হবে রে
খোদার নুরে নবী হল ফেরেস্তা হয় কার নূরে।
ও দাদা মনের বিচার কর
কোন্ পর্দাতে আছে খোদা কোন্ দুয়ারী ঘর—
আরশে কুরশী আরশেয়ানা আছে বল কার পরে।
ও দাদা কোরান দেখে পড়
কোন্ হরফে রূহের খেলা কোন্ হরফে ধড়—
আবার মিম্বারের তিন ধাপ কেন হয় বল দেখি কার তরে।
ও দাদা খবর তিনের শোন্
আহাদ আহম্মদ কোথায় ছিল কিরূপে তার তন্
আবার আহাদ থেকে আহমদ হলে ভালো করে দেখ তারে।
ও দাদা আবার বলে যাই
লা পুরাতে আল্লা ছিল কলমা বলে তাই—
নবী সঙ্গে বলরে কথা সেই কথা হয় কোন্ সুরে।
ও দাদা ভেদের মর্ম বোঝ
মিমের পর্দা কোথায় ছিল ভালো করে খোঁজ—
আবার কোন্ কলেতে তৈরি হল গড়ল কোন্ কারিগরে।
ও দাদা বলছি কথা খাঁটি
কোন্ দরিয়ার পানি দিয়ে গড়ল কাদামাটি—
আবার ঐ মাটিতে পুতুল গড়ে আদম দিল নাম তারে।
ও দাদা ইমরান বলে তাই
ভেদের কথা জানতে পীরের দরবারেতে যাই—
আবার নোক্তার ভিতর কোরান গোপন রয়েছিল কী করে।
মিয়াজান ফকিরের গান
সরলে গরল মিশে না সরলভাবে আছে যে জনা।
সর্পের মাথায় ব্যাঙ নাচে
তবু সর্পে আহার করে না।
বুঝি সর্পের ওঝা আছে
তাই জন্যে মাথা তুলে না।
পদ্মপাতায় পানি ফুটি টলমল
পদ্ম ভিজে না—
তার সাক্ষী আছে দধিভাণ্ড
উপরে ভাসে ননী ছানা।
ফকির মিয়াজানে কয় সরল পথে থাকলে মানুষ
ধইরবা রে মনা।
সরলে গরল মিশে না সরল পথে রয় যে জনা
সহজ পথে রয় সে জনা।
আবদুল্লা ফকিরের গান
সাপ ধরিবার মন্ত্র আগে শিক্ষা লও রে ভাই
নামের মালা গলে দিয়ে কুঞ্জবনে যাই।
মাটির নীচে ধন আছে
সাপিনী তায় পাহারা দিছে
ছয়টা ইঁদুর ঘরের নীচে
পিড়ার মাটি নাই॥
ব্যাঙে নাচে সাপের কাছে
সাপ পলাইল ধনের নীচে
মনিব হইয়া ব্যাঙে নাচে
ধরবার পা নাই॥
নামের হলদি গায়ে দিলে
সরে যায় সাপ গন্ধ পাইলে
আবদুল্লা কয় পইড়া রইবা চরণতলে
মাথাটি লুকাই ॥
