৪
ও মন আপনায় চিনলে পাবে মালেক রব্বানা
আমি আমি বলছো সবে কোথায় আমার ঠিকানা।
ফরমাইল ও আলী অজহু
মান আরাফা নফ সাহু
ফাকাদ আরাফা রব্বাহু
চিনে আমি বল না॥
কেবা আমি কেবা তুমি
দুয়ে সেরেক করো না
আপনাকে চিনলে তারে
কোন চিন্তা রবে না॥
অচিনে করিয়া চিন কর ভজন সাধনা
আন্দাজিতে ডাকলে পরে
বন্দেগী তার হবে না॥
সকল দুনিয়ার মজার সাতে
নিশ্বাস বিশ্বাস করো না
মত্তান্নেসের সেগা ছেড়ে
মজাক্করে হও দানা॥
যে জন চিনেছে আপে
সেই জন বলায় দেও না
আয়নাল হক ফুকারে মনসুর
পেয়ে খোদে আপনা॥
ফকির শাহ দয়া করে
দিলেন কিছু নিশানা
মহম্মদ শা মিলে থাক বলে
ধরা পড়ে না।
৫
জাহের নামাজ পড়ো বাতুনি আদায় করো
বুঝে সুজে না পড়িলে মুছবে নাকো অন্ধকারে।
জাহেরেতে নামাজ ভাই
পাঁচওয়াক্ত পড়া যে চাই
মুরশিদ ধরে জেনে নিয়ে
নামাজ পড়া আপনারে॥
কোন হরফে কিয়াম কর
কাহার সাথে ফেরাত পড়ো
কোন হরফে হয় রুকু দিতে
সেজদাতে কোন হরফ ধরো॥
আত্তাহিয়াতো পড়ো কখন
কোন হরফ হয় হে তখন
সালাম ফিরো কেবা কোন জন
দরুদ পড়ায় কোন রূপ ধরে॥
সেজদা কেবা করে রে মন
সেজদা সেই বা লয় কোনজন
জেনে চিনে পড় আপন
নইলে সেরেক হবে আরো॥
না করিলে হুজুর দেলে
দূর হতে সেজদা দিলে
মাটি সেজদা মিশে গেলে
শয়তানের হয় তাবেদারো॥
মহম্মদ শা মুরশিদ ধর
জাহের বাতুন নামাজ পড়
লা এর ঘরে সেজদা কর
জাকাত হইয়া রাহে তারো॥
৬
আল্লা সেওয়া সেজদা হারাম কহেছেন রব কোরানেতে।
কোনখানে কোন নামে সেজদা করি মন কিরূপেতে।
আজাজিল ফেরেস্তা ছিল
সকল স্থানে সেজদা দিল
একজেরা তিল ফাঁক না ছিল
সত্তর হাজার কি জায়গাতে॥
দেখরে মন বিচার করে
মনে হাজের হাজের জানলে তোরে
সেজদা হবে কি প্রকারে
না দেখিয়া নজরেতে।
আজাজিলের জন্ম শুদ্ধা
না চিনে করিল সেজদা
জায়গা চিনে কর সেজদা
সকল ফতে হবে তাতে।
আদম সফি মকবুল হলো
চিনে আপন সেজদা দিলো
আজাজিল বান্দা গেল
বাহির হল দরগা হতে॥
ফকির শাহের ধরে পায়
জাকাত হয়ে মহম্মদ কয়
দয়া করে চেনাও আমায়
সেজদা দিবো সে রূপেতে ॥
৭
নামাজ পড়বি যদি নিরবধি খুদি ছাড় মন
খুদির সাথে সাথে পড়লে নামাজ সফল অকারণ।
আল্লায় হাজের নাজের
সেজদা কর পরোয়ারে
আন্দাজীতে করলে পরে
কবুল না করবে নিরঞ্জন॥
আপনায় চিনে আদম সেজদা
মকবুল করলেন আপেখোদা
না চিনে করলে সেজদা
হবি আজাজিল মতন॥
এই জন্য নবী বলে
নামাজ পড় হুজুর দেলে
দেল হুজুরী না পড়িলে
নামাজি কেমন॥
ফকির শাহের চরণ ধরে
মহম্মদ শাহ আপনায় হেরে
হুজুর দেলে নামাজ পড়
সদা সর্বক্ষণ॥
৮
মানুষ মানুষ বল সবে মানুষ ধর মানুষ পাবে
মনের মানুষ আছে খামুস হৃদয় মাঝে গোপনভাবে।
মানুষ ধরে দেখ নিজে
পাবে মানুষ হৃদয় মাঝে
থেকো না মন মিছে কাজে
মানুষ আছে ধরতে হবে॥
মানুষ আছে রংমহলে
মানুষ মেলে কলমার কলে
নইলে জনম হায় বিফলে
আখেরাতে পস্তাইবে॥
আলেফ দাল মিম হল যখন
হুকুম দিলেন সাঁই নিরঞ্জন
সেজদা করলেন ফেরেস্তাগণ
সেই মানুষ আসিল যবে॥
ফকির শাহের চরণতলে
মহম্মদ কয় কাতর হালে
মানুষের হুঁসের বলে
সাবেদ পেয়ে দেখলাম ভবে॥
৯
দিন থাকতে দমের কর ঠিকানা ও মন দম ফুরালে হবে না
আদমের দম বহে চব্বিশ হাজার দম
অরুজ নজুল জানলে পরে হবে তার সাধনা।
দমের ভিতর সাতটি দম
চিনে দম কর সাধন
না চিনিলে দম বৃথা জীবন
সেথা হেথা ররে কানা॥
সমস কমর আছে দুই দম
ইংলা পেংহা বলে দুই দম
খাতরাহা দম সেই বা কেমন
শুকমন দম খোঁজে না।
আদমের দম এহি দমে
আহম্মদের দম এই আদমে
আল্লার দম চিনলে মহম্মদ
অযুদ ধ্বংস হবে না॥
১০
মুখে কেবল আল্লাহ বলা হয়
আল্লাহ কোথা আমি কেবা হল না তার পরিচয়—
আপন কাছে না দেখিয়া দেখে বেড়াও জগৎময়।
বেলগায়েবে ডাকলে পরে
শেরেকেতে ধরা যায়
পাক নাম আল্লাহ হামদোলিল্লাহ
কোনখানেতে কিরূপ হয়॥
হক্কেল একিন হলে পরে
এলমেল একিনে লিল্লয় হয়
কোন মোকামে কিরূপেতে
আল্লার নামটি দেখাও ময়॥
এলমেল একিন জানলে পরে
আইনল একিন সাবেদ হয়।
হেজে করে নামটি দেখাও
ওহে গুরু দয়াময়॥
হুয়াল একিন করে দেহ
মহম্মদ শাহের অভিপ্রায়॥
১১
চড়ো মন নুহুর কিস্তিতে
সে নৌকা ভাসছে সদায় ভবেতে।
সে নৌকায় চাপে যে জনা
ঘোর তুফানে ছয় রিপুতে ঠেকতে হবে না।
আবার কিস্তি ছাড়া হবে যারা
মরতে ডুবে পানিতে॥
মনরে অবোধ বলি তোরে
চেপে বস কিস্তি পরে
না চড়িলে গৌরব করে
কঁদতে হবে শেষেতে ॥
বাঁচব আমি পাথার পরে
যে বুঝে সে পড়বে ফেরে
নবী আপে আঁটতে নেরে
বাদাম তোলে নৌকাতে॥
সেই দিনের বড়ই তুফান
জোয়ার এসে নদী কেঁপে হবে কানেকান
আবার কিস্তি চড়ে রও মহম্মদ
বাদামের নীচেতে ॥
১২
ওয়া দাহু মুখে বললে হবে না
লা শরিক সাঁহু ওয়াদহু চোখে সকল দেখ না।
একা আল্লা জোড়া নাহি তার
কিসে প্রমাণ পাই গো তাহার
সাহাদত কলমা সাক্ষী দাও যার
মুখের কথায় চলবে না॥
না দেখিয়া সাক্ষী দিলে
মুখে ওয়াদাহু বলিলে
বিচার আপনা না করিলে
রবে সদাই দিন কানা॥
মুখে এক বল যেমন
চোখে এক দেখ তেমন
মহম্মদ ধাঁধা ঘুচিয়ে আপন
ওয়াদাহুকে দেখ না॥
