৫
প’ড়ে হতাশ প’ড়ে হতাশ হোস না মন রাই
ইনিল্লাহু মা সাবেরুন কোরানেতে লেখা রয়।
আলিফ হে মিম দালেতে এক আহম্মদ লেখা আছে
নু হরফকে নথি করে দেখ খোদা কারে কয়
প’ড়ে হতাশ—
কুলাবিল মমিন আরশ মহল কোরানেতে লেখা রয়
আদমের কালেবে আল্লার আরশ অন্য জায়গায় কি খুঁজলে হয়
প’ড়ে হতাশ—
দায়েম শা ফকিরে বলে বৃথা জীবন আমার যায়
আমি চিনব মানুষ হয় অচেনা মানুষ চেনা ভীষণ দায়।
৬
ও তুমি দেল হুজুর না চিনলে পরে তোমার নামাজ হবে কি করে
দেল হুজুরে পড়ো নামাজ আপনার মোকাম চিনে।
ওরে ভুলে যাবি ইস্কের জ্বালা উঠবে নুর তাজেল্লা
খ্যাপা সামনে দেখবি আল্লাতাল্লা ঠিক রাখো দুই নয়নে
ও তুমি—
খ্যাপা আপনার আপনি আসবি যাবি নামাজের ভেদ তবেই পাবি
ও তোর ছয় লতিফা হইবে জিকির খ্যাপা মারাকাবায় বসিলে
ও তুমি—
আগে নয় দরজা বন্ধ করো মুখে লা’ইলাহা জিকির ছাড়ো
খ্যাপা দম থাকিতে আগে মরো পড়ো নামাজ সমানে
ও তুমি—
বে আকারে সিজদা দিলে খ্যাপা সেই সিজদা কি হয় দলিলে
আকার ধরে দাও রে সিজদা বসে থাকো এক ধ্যানে
ও তুমি—
দায়েম শা ফকিরে বলে মারো সিজদা হরফ চিনে
মারো সিজদা হরফ চিনে নবীর মিম্বর আছে যেখানে।
৭
মন ঘোড়াকে বাগ ফিরাইতে নারলাম না ভাই দিনে রাতে
মন সেয়ানা বুটের দানা খায় না ঘোড়া কোনমতে।
বিসমিল্লাতে দিয়ে লাগাম, একশো ত্রিশ কর ভাই পালান
হাদিসের কসনি কসে লারলাম ভাই সওয়ার হতে।
মন ঘোড়াকে—
পাঁচ কলমা গোঁজ গাড়ি নামাজ রোজা কর ভাই দড়ি
খয়রাতের দিলাম পিছাড়ী, ছিড়লো দড়া আচম্বিতে
মন ঘোড়াকে—
দায়েম শা কয় সহিস হয়ে ঘোড়সওয়ার দিন গেল বয়ে
পুল পেরোবে কিবা লয়ে সে দিন দিবে কোঁড়া ঝাঁটা হাতে।
৮
রমণীর ছয় পিরীতে মজায় না মন তাই বলি শোন
পিরীত করতে হয় কেমন।
পিরীতে মজ মজ কুলমান ত্যাজিয়া
শততম মন মানের গোড়ায় ছাই দিয়া
ও তুমি কুল হারালে দেখতে পাবে
দেখবে তুমি ধ্যানের ছবি
পেছনে বেজাই ভেনী বাজে ঘন ঘন, তাই বলি শোন
রমণীর ছয় পিরীতে—
প্রিয়ার পবিত্র বাণী লিখেছেন সাঁই কোরানে
সে জন প্রেমিক হবে দেখা হবে নির্জনে
সুজন দেখে ভজ তুমি গুরুজীর চরণ তাই বলি শোন
রমণীর ছয় পিরীতে—
দায়েম শা কয় কাতর হালে যে জনা প্রেমিক হবে
যে জনা প্রেমিক হবে দেখিবে চন্দ্রানন তাই বলি শোন।
৯
আমি যার কাছে যাই কেউ নাহি কয়
কী করে নামাজ আদায় হয়।
একশো তিরিশ ফরজ মশলা বিচে
লিখেছেন সাঁই কোরানে শুনে
আমার ভাবনা হয়।
আবার কোন্ ফরজে আল্লা আছে।
আল্লার দিদার হয় গো কীসে
শুনতে আমার ইচ্ছা হয়।
ওরে সাতজনাতে জামাত হল
একজন তার ইমাম হল—
বাকি দুই রেকাত নামাজ পড়িল
তিন বেকাতে ইমাম মারা যায়
কী করে নামাজ আদায় হয়।
মুক্তারিগণ ভাবছে বসে
বাকি নামাজ পড়বে না মাটি দেবে
মাটি দেবে না গঙ্গায় দেবে—
ওরে দায়েম শা ফকিরে কয়
কী করে নামাজ আদায় হয়।
১০
জন্মিলে মরণ লেখা যায় সাধের দুনিয়ায়।
দীন দুনিয়ার ধ্যানের ছবি।
পয়দা হলেন দীনের নবী
যার তুলনা এ জগতে নাই।
মরণ তোমার বাঁধছে বাসা সোনার মদিনায়।
হুকুমে এসেছে ভবে
তলব হলে যেতে হবে—
চিরদিন না রবে হেথায়।
ভাইবন্ধু সব ছাড়িয়া
নির্জনে যাও বাসর লইয়া
সঙ্গের সাথী আর তো কেহ নাই।
দায়েম শা ফকিরে বলে
দয়াল নবীর চরণ তলে—
যার তুলনা এ জগতে নাই
মা জননী কাঁদছে বসে সোনার দুনিয়ায়।
মহম্মদ শাহ-র গান
১
আওল আলেফেতে আল্লা গনি আপে করতার
মিম রূপে দুজাহান বিচে হয়েছেন প্রচার।
মিমে পাগল হয়ে বিধি
বেহেস্ত দোজখ জমিন আদি
বখসে আপে রত্ন আদি
আলমগড়ে হিজদে হাজার॥
মিম রূপ না হতো যদি
না করত সাত হরিয়াদি
ছেড়ে দেই আপন খুদি
মিমে ফানা পরোয়ার॥
যত দেখ মিমের কারণ
মিম চিনে তার কর সাধন
নইলে যাবে বৃথা ভজন
মিম বিনা নাই পারাপার॥
আলেফ হে দাল ছিল যখন
কিছু পয়দা হয় নাই তখন
মিমের চাদর উড়িয়ে আপন
খেলছে সদাই জাহান পর॥
আহাদ আহম্মদ চিনো আপন
আদম জিনে হবে ধরম
গুরু পদে হের আপন
মহম্মদ দেখ একাকার॥
২
কি কল পেতেছ কলন্দার সকল ঘুরছে লা’এ ত্রিসংসার।
লাম আলেফে জবর দিলে
লামেতে আলেফ লুকাইলে
এলাহা কাহাকে বলে
এল্লরে ভেদ কি তার॥
আলেকে তিন হরক আছে
লাম আলেফ লা হয়েছে
এলাহায় কেবা আছে
এলাল্লার ভেদ কি তার॥
কেবল কলমা পড়ছ মুখে
কেন নাই দেখ চক্ষে
কেবা তোমায় করবে রক্ষে
হাসরের দিন মাঝার॥
এলাল্লাহ সাবেদ করে
পড় সবে বরজোখ ধরে
নিস্তার পাবে মলে পরে
মহম্মদ বলেরো হাসর॥
৩
আপনে সুরাতসে আদম বানাইয়াছেন খোদায়
সেইজন্য মালা একে সেজদা করতে হয়।
জনাবে করি মিনতি
খানাকুল্লাহ আদম
আলাসুরাতি॥
ফরমাইলেন জগৎপতি
ইবলিস খাড়া তথায় রয়।
আদম সিজদার হুকুম দিলে
আল্লা কি সেরেক করালে
সেরেক গোনা থাকে বলে
এ দিন দুনিয়ায়॥
ফুকে দম মকরুল্লা
আলাস তারা বলে আল্লা
আদম কয় কালুবালা
মিশাক সময়॥
কহুতুরেতে মুশা নবী
ইবলিসের হাল পুছে সবি
খবর শুনে মনে ভাবি
গোরে সিজদা দিতে কয়॥
মালা একে পুরা করে
ইবলিস সেথা ইনকার করে
লানতের তক গলায় পরে
মরদুদ হয়ে যায়॥
গোরে সিজদার হুকুম দিল
ইহার কি ভেদ বল
আল্লার হুকুম ফরজ হল
কি হল তায়॥
আদমে কি ভেদ আছে
আল ইনসান ফরমাইয়াছে
মহম্মদ শাহ গুরুর কাছে
বুঝে ইশারায়॥
