বহু কারণে একটি পুরুষাঙ্গের অধিকারী হওয়া যে বহু মেয়ের কাছে কাম্য বলে মনে হয়, এটা এমন এক সত্য যা প্রমাণিত হয়েছে অসংখ্য অনুসন্ধানে এবং মনোবিজ্ঞানীদের কাছে ব্যক্ত গোপন কথায়। হ্যাভলক এলিস উদ্ধৃত করেছেন ডঃ এস ই জেলিফের কাছে জিনিয়া নামে তার এক রোগিণীর উক্তি : ‘ফোয়ারা বা ছিটোনোর মতো জলের তীব্র উদগীরণ, বিশেষ করে বাগানের দীর্ঘ নমনীয় নল থেকে, সব সময়ই আমার কাছে মনে হয়েছে ইঙ্গিতপূর্ণ, যা আমার মনে জাগিয়ে তোলে বাল্যকালে দেখা আমার ভাইদের, এমনকি অন্য ছেলেদের প্রস্রাব করার দৃশ্যের স্মৃতি’। এক পত্ৰলেখিকা, মিসেস আর এস, এলিসকে জানিয়েছে যে শৈশবে সে খুবই চাইতো ছেলেদের শিশ্ন নাড়তে এবং কল্পনা করতে প্রস্রাবের সময় এমন আচরণ; একদিন তাকে বাগানের নল ধরতে দেয় হয়। ‘একে একটি শিশ্ন ধরার মতো আনন্দদায়ক বলে মনে হয়’। সে জোর দিয়ে বলেছে যে তার কাছে শিশ্নের কোনো যৌন তাৎপর্য ছিলো না; সে জানতো শুধু প্রস্রাবের কাজের কথা।
যে-মনোবিশ্লেষকেরা, ফ্রয়েডের অনুসরণে, মনে করেন যে শুধু শিশ্ন আবিষ্কারই ছোটো মেয়ের স্নায়ুরোগ সৃষ্টির জন্যে যথেষ্ট, তাঁরা সুগভীরভাবে ভুল বোঝেন শিশুর মানসিকতাকে; তাঁরা যতোটা মনে করেন বলে মনে হয়, তার থেকে অনেক কম যুক্তিধর্মী এ-মানসিকতা। ছোটো মেয়ে যখন শিশ্ন দেখতে পায় এবং ঘোষণা করে : ‘আমারও একটি ছিলো, বা আমিও একটি নেবো,’ অথবা এমনকি ‘আমারও একটি আছে,’ তখন এটা এক আন্তরিকতাহীন আত্ম-যাথার্থপ্রতিপাদন নয়; উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি পারস্পরিকভাবে একচেটে নয়। সোস্যুর চার বছরের একটি মেয়ের কথা বলেছেন, যে ছেলেদের মতো দরোজার শিকের ফাঁক দিয়ে প্রস্রাব করতে গিয়ে বলে, যদি তার থাকতো ‘একটা লম্বা ছোটো জিনিশ, যার ভেতর থেকে ধারা বেরোয়’। সে তখন জ্ঞাপন করছিলো যে তার একটি শিশ্ন ছিলো এবং একটি শিশ্ন ছিলো না, যা। পিয়াজের বর্ণিত শিশুদের ‘অংশগ্রহণ’-এর মাধ্যমে চিন্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ছোটো মেয়ে অবলীলায় বিশ্বাস করে যে সব শিশুই একটি শিশ্ন নিয়ে জন্মে, পরে মা-বাবারা মেয়ে বানানোর জন্যে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটির শিশ্ন কেটে ফেলে; এ-ভাবনা পরিতৃপ্ত করে শিশুর সে-কৃত্রিমতাবাদ, যে-শিশু, পিতামাতাকে অমান্য করে, ‘ওগুলোকে মনে করে তার সমস্ত কিছুর উৎস’, যেমন বলেছেন পিয়াজে; শিশু প্রথমে খোজা করাকে একটা শাস্তি হিশেবে দেখে না।
তার অবস্থার একটি হতাশাগ্রস্ত রূপ নেয়ার জন্যেও বালিকার, কোনো-না-কোনো কারণে, ইতিমধ্যেই হতাশা বোধ করা দরকার হয় তার অবস্থান সম্পর্কে; যেমন হেলেন ডয়েটশ ঠিকই মন্তব্য করেছেন যে শিশ্নের মতো একটা বাহ্যিক ঘটনার পক্ষে একটা আভ্যন্তর পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হতো না : ‘পুরুষাঙ্গ দেখার ঘটনা ফেলতে পারে অবিস্মরণীয় দুঃখজনক প্রভাব,’ তিনি বলেন, ‘তবে এ-শর্তে যে এর আগে থাকতে হবে এমন অভিজ্ঞতার দীর্ঘপরম্পরা, যা ফেলতে পারে এমন প্রভাব’। যদি ছোটো বালিকা হস্তমৈথুন বা নিজেকে প্রদর্শন করে তার কামনা মেটাতে না পারে, যদি তার মা-বাবা বাধা দেয় তার আত্মমেহনে, যদি তার মনে হয় তাকে সবাই কম ভালোবাসে, কম আদর করে তার ভাইদের থেকে, তবে তার হতাশাবোধ সে প্রক্ষিপ্ত করে পুরুষাঙ্গের ওপর। ‘ছোটো মেয়ে যখন আবিষ্কার করে ছেলের থেকে তার শারীরসংস্থানগত ভিন্নতা, তখন এটা প্রতিষ্ঠিত করে আগে থেকেই অনুভূত তার একটি অভাবকে বলা যায় এ দিয়েই সে প্রতিষ্ঠা করে তার অভাবের যৌক্তিকতা’। অ্যাডলার এ-ঘটনার ওপর বিশেষ জোর দেন যে তার পিতামাতা ও তাদের বন্ধুদের মূল্যায়নই বালককে দেয় বিশেষ মর্যাদা, ছোটো বালিকার চোখে শিশ্নটি হয়ে ওঠে যার ব্যাখ্যা ও প্রতীক। লোকজন তার ভাইকে মনে করে শ্রেষ্ঠ; সে নিজে স্ফীত থাকে তার পুরুষত্বের গর্বে; তাই মেয়েটি তাকে ঈর্ষা করে এবং বোধ করে হতাশা। অনেক সময় এর জন্যে সে দায়ী করে তার মাকে, খুব কম সময়ই তার বাবাকে; বা অঙ্গচ্ছেদের জন্যে সে দোষ দিতে পারে নিজেকে, বা নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারে একথা ভেবে যে শিশ্নটি দেহের ভেতরে লুকিয়ে আছে এবং কোনো একদিন বেরিয়ে আসবে।
তরুণীর যদি তীব্র শিশ্নামূয়া নাও থাকে, তবু প্রত্যঙ্গটির অভাব তার নিয়তিতে পালন করে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তার যেহেতু আছে এমন একটি প্রত্যঙ্গ, যেটি দেখা যায় এবং ধরা যায়, তাই বালক এটির থেকে যে-প্রধান উপকার পায়, তা হচ্ছে অন্তত আংশিকভাবে হলেও সে নিজেকে এটির সাথে অভিন্ন বলে ভাবতে পারে। সে তার শরীরের রহস্যকে, এর হুমকিগুলোকে, প্রক্ষেপ করে নিজের বাইরে, তাকে সমর্থ করে নিজের থেকে ওগুলোকে দূরে রাখতে। এটা সত্য যে শিশ্নের ব্যাপারে সে ভয়ের আভাস পায়, সে ভয় পায় যে এটাকে কেটে নেয়া হতে পারে; কিন্তু ছোটো বালিকা তার ‘অভ্যন্তর’ সম্পর্কে বোধ করে যে-বিকীর্ণ আশঙ্কা, যা প্রায়ই থেকে যায় জীবনভর, তার তুলনায় বালকের ভীতি কাটানো সহজতর। তার অভ্যন্তরে যা-কিছু ঘটে, সে-সম্পর্কে বালিকা থাকে অতিশয় উদ্বিগ্ন, পুরুষের থেকে শুরু থেকেই সে।নিজের চোখেই অনেক বেশি অনচ্ছ, জীবনের অবোধ্য রহস্যে সে অনেক বেশি। গভীরভাবে নিমজ্জিত। বালকের যেহেতু আছে একটি বিকল্প সত্তা, যার মাঝে সে দেখে নিজেকে, তাই সে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারে মন্ময়তার মনোভঙ্গি; যেবস্তুটিতে সে প্রক্ষেপ করে নিজেকে, সেটি হয়ে ওঠে স্বায়ত্তশাসনের, সীমাতিক্ৰমণতার, ক্ষমতার প্রতীক; সে পরিমাপ করে শিশ্নের দৈর্ঘ্য; সে সঙ্গীদের সাথে তুলনা করে তার প্রস্রাবধারার; পরে, দাঁড়ানো ও বীর্যপাত হয়ে উঠবে পরিতৃপ্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিত্তি। কিন্তু ছোটো বালিকা তার নিজের কোনো অঙ্গে নিজেকে মৃত করতে পারে না। এর ক্ষতিপূরণের এবং তার বিকল্প সত্তারূপে কাজ করার জন্যে, তাকে দেয়া হয় একটা বাইরের জিনিশ : পুতুল। লক্ষণীয় যে ফরাশি ভাষায় পুপে (পুতুল) শব্দটি ক্ষতার্ত আঙুলে জড়ানো পাট বোঝানোর জন্যেও ব্যবহৃত হয়; একটি পটি-বাঁধা আঙুল, যেটি ভিন্ন অন্যগুলোর থেকে, সেটিকে দেখা হয় কৌতুকের চোখে এবং এক ধরনের গর্বরূপে, শিশু এর সাথে কথা বলে এর সাথে অভিন্ন বোধের লক্ষণ দেখাতে থাকে। কিন্তু এটি মানুষের মুখাবয়বসম্পন্ন একটি ক্ষুদ্রমূর্তি–অথবা, তার অভাবে, একটা একটা শস্যের শিষ, বা এক টুকরো কাঠ–যা বালিকার কাছে সন্তোষজনকভাবেই কাজ করে সে-ডবলের, সে-স্বাভাবিক খেলনার : শিশ্নের।
