ছোটো বালিকার ভাগ্য এর থেকে অনেক ভিন্ন। মায়েরা ও ধাত্রীরা তার যৌনাঙ্গের প্রতি কোনো ভক্তি বা স্নেহ দেখায় না; তারা তার ওই গোপন প্রত্যঙ্গটি, ঢাকনাটি ছাড়া যেটি অদৃশ্য, এবং যেটিকে হাত দিয়ে ধরা যায় না, সেটির প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে না; এক অর্থে তার কোনো যৌনাঙ্গই নেই। এটির এ-অনুপস্থিতি তার কাছে কোনো অভাব বলে মনে হয় না; তার কাছে স্পষ্টতই তার দেহ সুসম্পূর্ণ; কিন্তু সে দেখতে পায় বিশ্বে সে আছে ছেলের থেকে ভিন্ন অবস্থানে; একরাশ ব্যাপার এপার্থক্যকে, তার চোখে, রূপান্তরিত করতে পারে নিকৃষ্টতায়।
নারীদের প্রসিদ্ধ ‘খোজা গূঢ়ৈষা’র থেকে কম প্রশ্নই অধিক ব্যাপকভাবে আলোচনা করেছেন মনোবিশ্লেষকেরা। আজকাল অধিকাংশই স্বীকার করবেন যে শিশ্নাসূয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় বিচিত্ররূপে। শুরুর পর্যায়ে, বহু ছোটো মেয়েই কিছু বছর অজ্ঞ থাকে পুরুষের দেহসংস্থান সম্পর্কে। আছে পুরুষ ও নারী, এটা স্বাভাবিক বলে মনে হয় এমন মেয়ের কাছে, যেমন সূর্য ও চাঁদ থাকা তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয় : সে বিশ্বাস করে শব্দের নিহিত সারার্থে এবং প্রথমে তার ঔৎসুক্য বিশ্লেষণধর্মী নয়। অন্য অনেক মেয়ের কাছে ছেলেদের দু-পায়ের মাঝখানে ঝুলন্ত এ-ছোটো মাংসখণ্ডটিকে গুরুত্বহীন বা এমনকি হাস্যকর মনে হয়; এটা এমন এক বিশেষত্ব, যা মিলেমিশে যায় পোশাক বা চুলের ছাঁটের সাথে। প্রায়ই এটা চোখে পড়ে নবজাতক ছোট্ট ভাইয়ের দেহে এবং, যেমন বলেন হেলেন ডয়েটশ, ‘ছোটো বালিকা যখন খুবইছোটো থাকে, তখন ছোটো ভাইয়ের শিশ্ন তার মনে দাগ কাটে না’। এমনও ঘটতে পারে যে শিশ্নটি গণ্য হতে পারে একটা অস্বাভাবিক বস্তু বলে। একটা উপবৃদ্ধি, একটা অস্পষ্ট জিনিশ, যা ঝুলে থাকে ব্যাধিত মাংসপিণ্ড, স্তন, বা আঁচিলের মতো; এটা জাগিয়ে তুলতে পারে বিরক্তি। পরিশেষে, বহু উদাহরণ পাওয়া যায় যাতে ছোটো মেয়ে আগ্রহ বোধ করে ভাইয়ের বা খেলার সাথীর শিশ্নের প্রতি; তবে তা বোঝায় না যে সে বাস্তবিকভাবে যৌন ধরনে এটির প্রতি ঈর্ষা বোধ করে, এবং এ-প্রত্যঙ্গটির অনুপস্থিতি দিয়ে সে আক্রান্ত হয় আরো অনেক কম; সে যেমন প্রতিটি ও সব জিনিশই চায়, তেমনি এটাও চাইতে পারে, তবে এ-বাসনা খুবই অগভীর।
সন্দেহ নেই যে নিঃসরণের কাজগুলো, বিশেষভাবে প্রস্রাবের কাজটি, শিশুদের কাছে সংরক্ত আগ্রহের ব্যাপার; বিছানায় প্রস্রাব করা, আসলে, অনেক সময়ই অন্য সন্তানের প্রতি পিতামাতার সুস্পষ্ট পছন্দের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ। অনেক দেশে পুরুষেরা বসে প্রস্রাব করে, এবং অনেক ক্ষেত্রে নারীরা প্রস্রাব করে দাঁড়িয়ে, যেমন প্রচলিত অনেক কৃষকদের মধ্যে; তবে সমকালীন পাশ্চাত্য সমাজে চাওয়া হয় যে। নারীরা বসে বা নত হয়ে পেশাব করবে, আর দাঁড়ানো অবস্থাটি নির্ধারিত পুরুষদের জন্যে। ছোটো মেয়ের কাছে এ-পার্থক্যকে মনে হয় অত্যন্ত লক্ষণীয় লৈঙ্গিক পার্থক্য বলে। পেশাব করার জন্যে তাকে নত হতে হয়, নিজেকে ন্যাংটো করতে হয়, তাই লুকোতে হয় নিজেকে : এটা এক লজ্জাজনক ও অসুবিধাজনক পদ্ধতি। এ-লজ্জা প্রায়ই বৃদ্ধি পায়, যখন মেয়েটির ভেতর থেকে তার অনিচ্ছায় বেরিয়ে আসে প্রস্রাব, উদাহরণস্বরূপ যখন সে প্রচণ্ডভাবে হাসে; সাধারণভাবে তার নিয়ন্ত্রণ ছেলেদের মতো ততোটা ভালো নয়।
ছেলেদের কাছে প্রস্রাবের কাজটিকে মনে হয় খেলা, সব খেলার আনন্দের মতোই এটি তাদের দেয় কর্মসাধনের স্বাধীনতা; শিশ্নকে নিপুণভাবে ব্যবহার করা যায়, এটা সুযোগ দেয় নানা ক্রিয়াকর্মের, যা শিশুর কাছে গভীরভাবে আকর্ষণীয়। একটি ছোটো মেয়ে একটি ছেলেকে প্রস্রাব করতে দেখে বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠেছিলো : ‘কী সুবিধা!’ প্রস্রাবের ধারাটি যে-দিকে ইচ্ছে সে-দিকে তাক করা যায় এবং বেশ দূরে ফেলা যায়, যা ছেলেকে দেয় সীমাহীন শক্তির বোধ। ফ্রয়েড বলেছেন যথাসময়ের আগে মূত্রবর্ধকতত্ত্বের তীব্র আকাঙ্খর কথা; স্টেকেল এ-সূত্রটি আলোচনা করেছেন কাণ্ডজ্ঞানের সাথে, তবে এটা সত্য, যেমন বলেছেন কারেন হোরনি, যে ‘সীমাহীন শক্তিবোধের উদ্ভট কল্পনা, যেগুলো বিশেষভাবে ধর্ষকামী ধরনের, প্রায়ই জড়িত থাকে পুরুষের মূত্রস্রাবের সাথে’; এ-উদ্ভট কল্পনাগুলো, যা দীর্ঘস্থায়ী কিছু পুরুষের মধ্যে, শিশুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। ‘নমনীয় নলের সাহায্যে বাগানে জল সিঞ্চন করে নারীরা যে অসামান্য আনন্দ পায়’, তার কথা বলেছেন আব্রাহাম; সার্ত্র ও বাখেলারের তত্ত্বের সাথে একমত হয়ে আমি বিশ্বাস করি যে নলটিকে শিশ্নের সাথে অভিন্ন বলে বোধ। করা আবশ্যিকভাবে এ-সুখের উৎস নয়–যদিও অনেক ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে তা-ই। বাতাসের মধ্যে প্রতিটি জলস্রোতকেই অলৌকিক ব্যাপার বলে অভিকর্ষকে অস্বীকার করা বলে মনে হয় : একে পরিচালিত করা, শাসন করা হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মের ওপর একটি ছোটো বিজয়; এবং তা যাই হোক ছোটো ছেলে এর মাঝে পায় একটি প্রাত্যহিক মজা, যা তার বোনেরা পায় না। এটা প্রস্রাবের ধারার মাধমে বহু কিছু, যেমন জল, মাটি, শ্যাওলা, তুষার প্রভৃতির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে দেয়। অনেক ছোটো মেয়ে আছে, যারা এ-অভিজ্ঞতার অংশী হওয়ার জন্যে চিৎ হয়ে শোয় এবং চেষ্টা করে ওপরের দিকে মুততে বা দাঁড়িয়ে পেশাব করার অনুশীলন করে। কারেন হোরনির মতে, ছেলেদের আছে প্রদর্শন করার সম্ভাবনা, তারা তাকেও ঈর্ষা করে। কারেন হোরনি জানিয়েছেন যে ‘একজন রোগী রাস্তায়একটি লোককে প্রস্রাব করতে দেখে হঠাৎ চিৎকার করে উঠেছিলো: “বিধাতার কাছে আমি যদি একটি বর চাইতে পারতাম, তাহলে চাইতাম যেন জীবনে অন্তত একবার আমি পুরুষের মতো প্রস্রাব করতে পারি।”’ বহু ছোটো মেয়ে মনে করে ছেলেরা যেহেতু তাদের শিশ্ন ছুঁতে পারে, তাই তাকে তারা খেলনা হিশেবেও ব্যবহার করতে পারে, আর সেখানে তাদের যৌনাঙ্গগুলো ট্যাবু।
