এ-মেয়েরা অক্রিয়ভাবে দেহদান করলেও সতীচ্ছদছিন্নকরণের যন্ত্রণা তারা ঠিকই ভোগ করেছে, আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি; জানা বাঞ্ছনীয় এ-পাশব অভিজ্ঞতা। তাদের ভবিষ্যতের ওপর ফেলেছে কী মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব; তবে বেশ্যাদের মনোবিশ্লেষণ প্রথানুগ নয়, এবং আত্ম-বর্ণনায় তারা বিশেষ ভালো নয়, সাধারণত তারা আশ্রয় নিয়ে থাকে বাঁধাবুলির। কিছু ক্ষেত্রে প্রথম আগন্তুকের কাছেই তাদের দেহদানের আগ্রহকে ব্যাখ্যা করতে হবে আমার উল্লেখিত বেশ্যাবৃত্তি-ফ্যান্টাসির সাহায্যে, কেননা বহু অতি অল্পবয়স্ক মেয়ে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে, তাদের নবোদিত কামের বিভীষিকায়, বা প্রাপ্তবয়স্কের ভূমিকা নেয়ার বাসনায় অনুকরণ করে বেশ্যাদের। তারা উগ্র প্রসাধন করে, ছেলেদের সাথে চলাফেরা করে, ছেনালিপনাপূর্ণ ও প্ররোচনাদায়ক আচরণ করে। যারা এখনো শিশুসুলভ, অযৌন, শীতল, তারা মনে করে আগুন নিয়ে তারা খেলতে পারে নিরাপদে; একদিন কোনো পুরুষ তাদের কথা পুরোপুরি সত্য বলে গ্রহণ করে, এবং তারা স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠে বাস্তবে।
‘যখন কোনো দরোজা একবার ভেঙেচুরে খোলা হয়েছে, তখন সেটি বন্ধ রাখা কঠিন’, বলেছে চোদ্দো বছরের এক কিশোরী বেশ্যা, যা উদ্ধৃত করেছেন মারো। তবে অল্প বয়সের কোনো মেয়ে সতীত্বমোচনের সাথে সাথেই কদাচিৎ শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক সময় সে অনুরক্ত থাকে তার প্রথম প্রেমিকের প্রতি এবং তার সঙ্গে বসবাস করতে থাকে; সে একটা ‘নিয়মানুগ’ চাকুরি নেয়: প্রেমিক তাকে ছেড়ে গেলে সে আরেকটিকে ধরে নিজেকে সান্ত্বনা দেয়। এখন যেহেতু সে আর কোনো একটি পুরুষের সম্পত্তি নয়, সে বোধ করে সে সকলের কাছে দান করতে পারে নিজেকে; অনেক সময় তার প্রেমিকটিই—প্রথম বা দ্বিতীয়টি পরামর্শ দেয় এ-পথেঅর্থ উপার্জনের। বহু মেয়েকে বেশ্যাবৃত্তিতে লাগায় তাদের পিতামাতারা; কিছু পরিবারে–আমেরিকার বিখ্যাত জিইকদের মতো–সব নারীর নিয়তিই এ-ব্যবসা। তরুণী নারী-ভবঘুরের মধ্যে আছে বহু ছোটো বালিকা, যাদের ত্যাগ করেছে তাদের আত্মীয়রা; তারা ভিক্ষা করতে শুরু করে ঢুকে যায় বেশ্যাবৃত্তিতে। তার যে-সন্দর্ভের প্রতি ইতিমধ্যেই নির্দেশ করা হয়েছে, তাতে পারে-দুশাতেলে দেখিয়েছেন যে ৫,০০০ বেশ্যার মধ্যে ১,৪৪১ জন বেশ্যা হয়েছিলো দারিদ্র্যের কারণে, ১,৪২৫ জন হয়েছিলো ধর্ষিত ও পরিত্যক্ত, ১,২৫৫ জন ভরণপোষণের কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই পরিত্যক্ত হয়েছিলো পিতামাতাদের দিয়ে। এটা ঘটেছিলো ১৮৫৭ অব্দে, তবে সমসাময়িক সন্দৰ্ভগুলো নির্দেশ করে প্রায় একই ফলাফল। অসুস্থতা প্রায়ই সে-নারীদের ঠেলে দেয় বেশ্যাবৃত্তিতে, যারা দৈহিক কাজ করতে পারে না বা যারা চাকুরি হারিয়েছে; এটা বিপর্যস্ত করে দেয় নাজুকভাবে তৈরি সুষম বাজেট এবং নারীদের বাধ্য করে দ্রুত নতুন অর্থসম্পদ সংগ্রহ করতে। অবৈধ সন্তান ধারণের ফলও একই। সাঁৎ-লাজার কারাগারে অর্ধেকেরও বেশি নারীর ছিলো একটি করে সন্তান, কমপক্ষে। অনেকের ছিলো তিন থেকে ছ-টি, অনেকের আরো বেশি। কমসংখ্যক নারীই ত্যাগ করে তাদের সন্তানদের; প্রকৃতপক্ষে, কিছু অবিবাহিত মা তাদের সন্তান লালনপালনের জন্যেই ঢোকে বেশ্যাবৃত্তিতে। এটা সুবিদিত যে যুদ্ধ ও পরবর্তী সামাজিক বিশৃঙ্খলার সময় বেশ্যাবৃত্তি বৃদ্ধি পায়।
মারি তেরেস ছদ্মনামে এক বেশ্যা তে মদার্নে সাময়িকীতে বর্ণনা করেছে তার জীবনকাহিনী; তার শুরুটা এমন :
ষোলো বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়েছিলো আমার থেকে তেরো বছরের বড়ো একটি লোকের সাথে। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্যে আমি এটা করেছিলাম। আমার স্বামীর একমাত্র চিন্তা ছিলো আমার পেট বানিয়েরাখা, ‘যাতে আমি বাড়িতে থাকি’, সে বলতো। সে ছিলো প্রসাধনের ও সিনেমার বিপক্ষে, এবং আমার শাশুড়ি সব সময়ই আমাকে বলতো আমার স্বামীই ঠিক। দু-বছরে আমার দুটো বাচ্চা হয়… আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি এবং সেবিকা হওয়ার শিক্ষা নিই, যা ছিলো আমার পছন্দ… হাসপাতালে এক বেহায়া তরুণী সেবিকা আমাকে এমন কিছু কথা বলে, যা আমি জানতাম না, কিন্তু ছ-মাস আমি পুরুষদের সাথে কিছু করি নি। একদিন একটা সুল, তবে সুদর্শন যুবক আমার ঘরে আসে এবং আমাকে বোঝায় যে আমি আমার জীবন বদলে দিতে পারি, তার সাথে প্যারিসে যেতে পারি, আমাকে আর কোনো কাজ করতে হবে না… মাসখানেক তার সাথে আমি সত্যিই সুখী ছিলাম। একদিন সে একটি ফিটফাট মহিলাকে নিয়ে আসে, সে বলে যে ওই মহিলা নিজেকে নিজেই চালাতে পারে। প্রথমে আমি রাজি হই নি। আমি রাস্তায় যাবো না এটা দেখানোর জন্যে এমনকি আমি একটি ক্লিনিকেও কাজ নিই। তবে আমি বেশি দিন বাধা দিতে পারি নি। সে বলে যে আমি তাকে ভালোবাসি, নইলে তার জন্যে আমি কাজ করতাম। আমি চিৎকার করতে থাকি; ক্লিনিকে আমি সব সময় বিষন্ন থাকতাম। শেষে আমি রাজি হই, সে আমাকে কেশবিন্যাসকারীর কাছে নিয়ে যায়… আমি সংক্ষিপ্ত কাজ করতে শুরু করি! জুলো আমাকে পিছে পিছে অনুসরণ করে, এটা দেখার জন্য আমি ঠিকঠাক কাজ করছি কি-না এবং পুলিশ এলে আমাকে সাবধান করে দেয়ার জন্যে।
এটি অনেকটা খাপ খায় সে-মেয়ের চিরায়ত গল্পের সাথে যাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে তার দালাল। কখনো কখনো স্বামীই পালন করে এ-ভূমিকা। কখনোবা পালন করে কোনো নারী। ৫১০জন তরুণী বেশ্যাসম্পর্কিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে তাদের মধ্যে ২৮৪জন থাকে একলা, ১৩২জন থাকে কোনো পুরুষ বন্ধুর সাথে, এবং ৯৪জন থাকে কোনো নারীর সাথে, যার সঙ্গে তারা সাধারণত সমকামী সম্পর্কে জড়িত। এ-মেয়েদের অনেকে বলেছে যে তারা চরিত্রভ্রষ্ট হয়েছে অন্য নারীদের দ্বারা, এবং তাদের কেউ কেউ বেশ্যাবৃত্তি করেছে নারীদের কাছে।
