শুধু স্বপ্ন দেখছে নিজেকে, স্বপ্ন দেখছে তার নিজেকে কেমন দেখাবে পুরুষের চোখে; এখন এসে উপস্থিত হয়েছে সে-চোখ; প্রতারণা অসম্ভব, লড়াই অসম্ভব; সিদ্ধান্ত নেবে একটি রহস্যপূর্ণ স্বাধীন সত্তা এবং কোনো পুনর্বিচার নেই। অনেক তরুণী অস্বস্তি বোধ করে তাদের বেশি মোটা গুল্ফ নিয়ে, খুব কৃশ বা খুব বেশি বড়ো আকারের স্তন নিয়ে, সরু উরু নিয়ে, জড়ল নিয়ে; এবং প্রায়ই তারা ভয়ে থাকে কোনো গুপ্ত ত্রুটিপূর্ণ গঠন নিয়ে। স্টেকেলের মতে সব তরুণীই ভরাট থাকে হাস্যকর ভীতিতে, তারা মনে করে তারা হয়তো দৈহিকভাবে অস্বাভাবিক। উদাহরণস্বরূপ, একজন মনে করতো নাভি হচ্ছে যৌনাঙ্গ এবং এটা বন্ধ বলে সে খুবই কষ্টে ছিলো। আরেকজন মনে করতো যে সে উভলিঙ্গ।
তাকে কেউ একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখছে, এটা এক বিপদ, তাকে কেউ প্রহার করছে, সেটা আরেক বিপদ। সাধারণভাবে নারীরা হিংস্রতার সাথে অপরিচিত, তারা পুরুষদের মতো শৈশব বা যৌবনের ধস্তাধস্তির ভেতর দিয়ে যায় না এবং এখন মেয়েটি বাহুতে আটকা পড়ে ভেসে গেছে এক শারীরিক লড়াইয়ে, যাতে পুরুষটি। অধিকতর শক্তিশালী। তার এখন আর স্বপ্ন দেখার, দেরি করার, কৌশল গ্রহণ করার স্বাধীনতা নেই : তরুণী এখন পুরুষের দখলে, তার নিয়ন্ত্রণে। এসব আলিঙ্গন, যা অনেকটা হাতে-হাতে ধস্তাধস্তির মতো, তাকে সন্ত্রস্ত করে, কেননা সে কখনো ধস্তাধস্তি করে নি। এটা বিরল ঘটনা নয় যে তরুণীর প্রথম অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে একটা প্রকৃত ধর্ষণ এবং পুরুষটি কাজ করে কদর্য বর্বরের মতো; পল্লী অঞ্চলে এবং যেখানেই আচারব্যবহার রুক্ষ, সেখানেই প্রায়ই ঘটে যে–আধা-রাজি আধা-বিদ্রোহী–চাষীকন্যা তার কুমারীত্ব হারায় কোনো খানাখন্দে, ভয়ে আর লজ্জায়। তা যা-ই হোক, সব সমাজে ও শ্রেণীতে যা প্রায়ই ঘটে, তা হচ্ছে কুমারী মেয়েটিকে হঠাৎ সম্ভোগ করে তার প্রেমিক, যে প্রধানত তার নিজের সুখের কথাই ভাবে, বা কোনো স্বামী, যে তার বৈবাহিক অধিকার সম্বন্ধে নিশ্চিত, যে তার স্ত্রীর প্রতিরোধে অপমান বোধ করে এবং সতীত্বমোচনের কাজটি কঠিন হলে ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে।
অধিকন্তু, পুরুষটি যতোই শ্রদ্ধাশীল ও ভদ্র হোক না কেনো, প্রথম বিদ্ধকরণ সব সময়ই বলাৎকার। কারণ তরুণী চায় ঠোটে ও স্তনে স্পর্শাদর, বা কামনা করে তার জ্ঞাত বা কল্পিত কোনো বিশেষ কামসুখ, কিন্তু যা ঘটে, তা হচ্ছে পুরুষটির যৌনাঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে তরুণীকে এবং অনুপ্রবেশ করে সে-অঞ্চলে, যেখানে সেটিকে কামনা করা হয় নি। বহু লেখক বর্ণনা করেছেন কুমারী মেয়ের বেদনার্ত বিস্ময়, প্রেমিক বা স্বামীর বাহুর মধ্যে মুগ্ধ হয়ে পড়ে থেকে যে বিশ্বাস করে অবশেষে সে পূরণ করছে তার ইন্দ্রিয়সুখাবহ স্বপ্ন এবং তার গোপন যৌনাঙ্গে বোধ করে অভাবিত যন্ত্রণা : তার স্বপ্ন অন্তর্হিত হয়, তার শিহরণ ধীরেধীরে বিলীন হয়ে যায়, এবং প্রেম রূপ নেয় এক ধরনের অস্ত্রোপচারের।
এ-ক্ষেত্রে চ্ছদছিন্নকরণ ছিলো এক ধরনের ধর্ষণ। তবে স্বেচ্ছায় ঘটলেও এটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। আইসাডোরা ডাংকান আমার জীবন-এ বর্ণনা করেছেন তিনি। কতোটা উত্তেজনাগ্রস্ত হয়েছিলেন। একটি সুদর্শন অভিনেতার সাথে তার দেখা হয়, প্রথম দর্শনেই তিনি তার প্রেমে পড়েন এবং লাভ করেন আকুল প্রেমনিবেদন।
আমিও কামোত্তেজিত এবং বিহ্বল ছিলাম, যখন তাকে কাছে থেকে আরো কাছে চেপে ধরার অপ্রতিরোধ্য ব্যাকুলতা উদ্বেলিত হয়ে ওঠে আমার মধ্যে, তারপর একরাতে সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ও অসংযত আবেগে সে আমাকে সোফায় নিয়ে যায়। সন্ত্রস্ত তবে পরমানন্দিত এবং যন্ত্রণায় আর্তনাদের মধ্যে আমি দীক্ষিত হয়েছিলাম প্রেমের ক্রিয়ায়। স্বীকার করি যে আমার প্রথম অনুভূতি ছিলো ভয়াবহ বিভীষিকার ও অসহ্য ব্যথার, যেনো কেউ হঠাৎ তুলে নিয়েছে আমার কয়েকটি দাত; কিন্তু সে অত্যন্ত দরদ বোধ করছিলো দেখে আমি দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারি নি তা থেকে, যা প্রথমত ছিলো নিতান্তই অঙ্গচ্ছেদন ও পীড়ন… পরদিনও আমার শহিদ হওয়ার আর্তনাদ ও চোখের জলের মধ্যে তা চলতে থাকে, যা তখন আমার কাছে একটা যন্ত্রণাকর অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কিছু ছিলো না। আমার মনে হয় যেনো আমাকে কেটে ছিঁড়ে ফেড়ে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।
অচিরেই তিনি উপভোগ করতে থাকেন, প্রথমে এ-প্রেমিকটির, পরে অন্যদের সাথে, সেই ভূরীয় আনন্দ, যা তিনি গীতিময়ভাবে বর্ণনা করেছেন।
তবে আগে যেমন ছিলো কুমারীর স্বপ্নঘোরের মধ্যে, তেমনি বাস্তবিক অভিজ্ঞতায় যন্ত্রণাটিই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নয় : বিদ্ধকরণের ঘটনাটি অনেক বেশি গুরুতর। সঙ্গমে পুরুষ ব্যবহার করে শুধু একটি বাহ্যিক প্রত্যঙ্গ, আর নারী তখন আক্রান্ত হয় তার গভীর মর্মমূলে। সন্দেহ নেই যে বহু যুবক নারীর গোপন আঁধারে উদ্বেগহীনভাবে প্রবেশ করতে পারে না, পুনরায় সে বোধ করে গুহা বা সমাধির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানোর বাল্যের ত্রাস, তার চোয়ালের, কাস্তে দিয়ে কাটার, ফাঁদের ভয়; তারা ভাবে স্ফীত শিশ্নটি আটকে যাবে শ্লেষ্মল খাপে। নারীর আর, একবার বিদ্ধ হওয়ার পর, এমন ভীতিবোধ থাকে না; তবে সে বোধ করে তার দেহে কেউ অনধিকার প্রবেশ করেছে।
