তবু, এ-অক্রিয়তা শুধু জাড্য নয়। নারীকে কামোত্তেজিত হওয়ার জন্যে কিছু সদর্থক প্রপঞ্চ উপস্থিত থাকা দরকার : উত্তেজিত হতে হবে তার কিছু কামস্পর্শাতুর এলাকা, স্ফীত হয়ে পারে খাড়া হতে পারে এমন কিছু কে উত্তেজিত হতে হবে, ঘটতে হবে নিঃসরণ, বাড়তে হবে দেহতাপ, এবং দ্রুততর হতে হবে নাড়ির স্পন্দন ও নিশ্বাস। কামনা ও কামসুখ পুরুষের মতোই নারীর মধ্যেও চায় যে এতে ব্যয় হবে কিছুটা জীবনশক্তি; যদিও স্বভাবে গ্রহণধর্মী, তবু নারীর কামক্ষুধা এক অর্থে সক্রিয়, এটা প্রকাশ পায় স্নায়ুতন্ত্রের ও পেশির উত্তেজনায়। উদাসীন ও হতোদ্যম নারীরা সব সময়ই শীতল।
যদি জীবনশক্তি ব্যয় হয়ে যায় খেলাধুলোর মতো স্বেচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ডে, তাহলে তা কামের দিকে চালিত হয় না : স্ক্যান্ডিনেভীয় নারীরা স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী, এবং শীতল। তারাই অতিশয় ব্যগ্র নারী, যারা অবসন্নতাকে মিশ্রিত করে অগ্নির সাথে, ইতালি ও স্পেনের নারীদের মতো–অর্থাৎ, যাদের ব্যগ্র জীবনশক্তি মুক্তিলাভ করে শুধু দৈহিকভাবে। নিজেকে বস্তু করে তোলা, নিজেকে অক্রিয় করে তোলা খুবই ভিন্ন জিনিশ অক্রিয় বস্তু হওয়ার থেকে : প্রেমে পড়া নারী নিদ্রিতও নয় মৃতও নয়; তার ভেতরে ধেয়ে চলে এমন তরঙ্গ, যার ঘটতে থাকে নিরন্তর ভাটা ও জোয়ার : ভাটা তৈরি করে এমন যাদুমন্ত্র, যা সজীব রাখে কামনাকে। তবে উৎসাহ এবং প্রবৃত্তির কাছে সমর্পিত বেপরোয়া স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করা সহজ। পুরুষের কামনা হচ্ছে উত্তেজনা; এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে সারা শরীর জুড়ে, যার স্নায়ু ও পেশিগুলোউত্তেজিত; যে-সব আসন ও অঙ্গসঞ্চালন তার দেহটিকে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণে উদ্যোগী করে তোলে, সেগুলো এর বিপক্ষে চলে না, বরং প্রায়ই বাড়িয়ে চলে এগুলো। এর বিপরীতে, সমস্ত স্বেচ্ছা প্রবৃত্ত উদ্যোগ নারীর দেহকে বাধা দেয় অধিগত হওয়া থেকে; এজন্যেই নারী স্বতস্ফূর্তভাবে বাধা দেয় সে-ধরনের সঙ্গমে, যেগুলোতে তাকে নিতে হয় উদ্যোগ, হতে হয় উত্তেজিত; আসনের আকস্মিক এবং খুব বেশি বদল, সচেতনভাবে কিছু করার জন্যে কোনো আহ্বান–ভাষায়ই হোক বা আচরণেই হোকনষ্ট করে দেয় যাদুমন্ত্র। বেপরোয়া আকুলতার চাপে সৃষ্টি হতে পারে দাহ, সংকোচন, কাঠিন্য : কিছু নারী খামচায় বা কামড়ায়, তাদের দেহ হয়ে ওঠে শক্ত এবং ভরে ওঠে অনাভ্যাসিক শক্তিতে; তবে এ-প্রপঞ্চ শুধু তখনই দেখা দেয় যখন পৌছোননা হয়। কোনো আকস্মিক বিস্ফোরণের অবস্থায়, এবং এতে তখনই পৌছোনো হয়যখনযেমন শারীরিক তেমনি নৈতিক–কোনো সংকোচের অনুপস্থিতির ফলে জীবনের সমস্ত শক্তি জড়ো হয় যৌনকর্মে। এটা বোঝায় যে তরুণীর জন্যে শুধু নিজেকে দান করাই যথেষ্ট নয়; বশীভূত, নিস্তেজ, অন্য কোথাও পড়ে আছে তার মন, এমন অবস্থায় সে নিজেকেও তৃপ্ত করে না সঙ্গীটিকেও করে না। একটি রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ডের জন্যে তার দরকার সক্রিয় অংশগ্রহণ, কিন্তু সেটা সদর্থকভাবে তার কুমারীশরীরও চায় না তার মনও চায় না, কেননা এটি পরিবৃত হয়ে আছে ট্যাবু, নিষেধ, সংস্কার, ও অতিরিক্ত দাবি দ্বারা।
দেহসংস্থানগতভাবে ও প্রথাগতভাবে দীক্ষাদাতার ভূমিকা নেয়া যুবকের কাজ। একথা সত্য যে কুমার যুবকের প্রথম দয়িতাও তাকে দেয় দীক্ষা; তা সত্ত্বেও তার আছে কামগত স্বাধীনতা, যা স্পষ্টভাবে দেখা দেয় তার লিঙ্গের দাঁড়ানোতে; তার দয়িতা বাস্তবে শুধু যোগায় তার কাম্য বস্তুটি : একটি নারীদেহ। তরুণীর দরকার হয় একটি পুরুষ, যে তার দেহ প্রকাশ করবে তার কাছে : তরুণী এর থেকেও অনেক গভীরভাবে নির্ভরশীল। তার আদি অভিজ্ঞতাগুলো থেকেই পুরুষ সাধারণত সক্রিয়, নিম্পত্তিকারক। প্রেমিক বা স্বামী যে-ই হোক, সে-ই নারীকে নিয়ে যায় বিছানায়, যেখানে নারীর কাজ শুধু নিজেকে দান করা এবং পুরুষের কথামতো কাজ করা। যদিও সে মানসিকভাবে এ-আধিপত্য মেনে নেয়, তবু যখন বাস্তবিকভাবেই আসে আত্মসমর্পণের মুহূর্ত, তখন সে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।
প্রথমত, সে পরিহার করে সে-স্থিরদৃষ্টি, যা তাকে ঢেকে ফেলতে পারে। তার শালীনতাবোধ এক আংশিকভাবে অগভীর অর্জন, তবে এরও শেকড় গভীর। পুরুষ ও নারী সবাই তাদের মাংস নিয়ে লজ্জিত। অনেক পুরুষ আছে যারা বলে যে শিশ্নের দাঁড়ানো অবস্থায় ছাড়া তারা কোনো নারীর সামনে নগ্ন হওয়া সহ্য করতে পারে না; সত্যিই দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে এ-মাংস হয়ে ওঠে সক্রিয়তা, বীর্যশীলতা, যৌনাঙ্গটি আর জড় বস্তু থাকে না, বরং হাত বা মুখের মতো হয়ে ওঠে কর্তার এক কর্তৃত্বব্যঞ্জক প্রকাশ। শালীনতাবোধ কেননা নারীদের থেকে অনেক কম বিহ্বল করে যুবকদের, এটা তার অন্যতম কারণ; তাদের আক্রমণাত্মক ভূমিকার জন্যে তাদের দিকে কেউ স্থিরদৃষ্টিতে থাকায় না; এবং তাকালেও, কেউ তাদের বিচার করছে এ-ভয় তাদের বিশেষ থাকে না, কেননা তাদের দয়িতাদের তাদের কাছে জড় গুণ কামনা করে না : তাদের গূঢ়ৈষাগুলো বরং নির্ভর করে তাদের আশ্লেষের ক্ষমতা এবং তাদের প্রমোদ দেয়ার দক্ষতার ওপর; অন্তত তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে, সংঘর্ষে জয়লাভের চেষ্টা করতে পারে। নারী ইচ্ছে করলেই তার মাংসকে বদলাতে পারে না : যখন সে আর এটিকে গোপন করে না, তখন সে বিনা প্রতিরোধে এটি সমর্পণ করে; এমনকি সে যদি স্পর্শাদরের জন্য ব্যাকুলতাও বোধ করে, তবুও কেউ তাকে দেখছে ও স্পর্শ করছে, এ-ভাবনা তারসনে জাগিয়ে তোলে ঘৃণাভীতির শিহরণ; বিশেষ করে তার স্তনযুগল ও পাছা যেহেতু বিশেষভাবে মাংসল এলাকা; অনেক বয়স্ক নারী পোশাকপরা অবস্থায়ও তাদের কেউ পেছন থেকে দেখছে, এটা ঘৃণা করে; এবং এ থেকেই ধারণা করা সম্ভব প্রেমে নবদীক্ষিত কোনো তরুণীকে কতোটা বাধা পেরোতে হয় তার দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকাতে দিতে। সন্দেহ নেই একজন ফ্রাইনের কোনো ভয় নেই পুরুষের স্থিরদৃষ্টির সামনে; সে নিজেকে নগ্ন করে উদ্ধত গর্বে–সে পরে আছে তার সৌন্দর্য। সে ফ্রাইনের সমতুল্য হলেও তরুণী মেয়ে কখনো এ-সম্পর্কে নিশ্চয়তা বোধ করে; সে তার দেহ নিয়ে উদ্ধত অহমিকাপোষণ করতে পারে না যদি না পুরুষের অনুমোদন দৃঢ়ভাবে প্রতিপন্ন করে তার যৌবনের অহমিকাকে। এবং এটাই তাকে ভরে দেয় ভয়ে; তার প্রেমিক স্থিরদৃষ্টির থেকেও অনেক বেশি দুর্ধর্ষ : সে একজন বিচারক। তার প্রেমিক তার কাছে তাকে প্রকাশ করবে সত্যিকারভাবে; যদিও তারা সংরক্তভাবে মোহিত থাকে তাদের প্রতিফলন দিয়ে, তবু প্রতিটি মেয়ে নিজের সম্বন্ধে পুরুষের রায়ের ব্যাপারে থাকে অনিশ্চিত; তাই সে চায় আলো নেভে যাওয়া, লুকোতে চায় বিছানার চাদরের নিচে। যখন সে আয়নায় দেখে প্রশংসা করে নিজের, তখন সে
