সত্য হচ্ছে কুমারীর কামনা কোনো যথাযথ প্রয়োজন হিশেবে প্রকাশিত হয় না : কুমারী ঠিকমতো জানে না সে কী চায়। শৈশবের আক্রমণাত্মক কাম আজো টিকে আছে তার মধ্যে, তার প্রথম প্রণোদনাগুলো ছিলো পরিগ্রাহী, এবং সে এখনো চায় জড়িয়ে ধরতে, অধিকার করতে। কাম যেহেতু কোনো বিচ্ছিন্ন এলাকা নয়, এর ভেতরে চলতে থাকে প্রথম বয়সে ইন্দ্রিয়ানুভূতির স্বপ্ন ও আনন্দগুলো; উভয়লিঙ্গের শিশুকিশোেররাই পছন্দ করে মসৃণ, মাখনের মতে, সাটিনের মতে, রসালো, নমনীয় স্থিতিস্থাপক জিনিশ : ভেঙে না পড়ে বা বদলে না গিয়ে চাপে যা নমিত হয়, চোখের সামনে বা আঙুলে নিয়ে যা গলে পড়ে। পুরুষের মতো নারীও সুখ পায় বালিয়াড়ির কোমল উষ্ণতায়, যা কখনো কখনো দেখায় স্তনের মতে, সুখ পায় রেশমের কোমল স্পর্শে, তুলতুলে পালকভরা লেপের কমনীয়তায়, ফুল বা ফলের ওপরের শ্বেতচূর্ণে; তরুণী সাধারণত ভালোবাসে অনুজ্জ্বল প্যাস্টল রঙ, টুল ও মসলিনের অস্বচ্ছতা। সে পছন্দ করে না কর্কশ বস্ত্র, কাঁকর, শিলাকর্ম, তিক্ত স্বাদ, এসিডের গন্ধ; তার ভাইয়ের মতোই যা সে প্রথম আদর করেছে, তা হচ্ছে তার। মায়ের শরীর। তার আত্মরতির মধ্যে, তার সমকামী অভিজ্ঞতার ভেতরে, স্পষ্ট হোক অস্পষ্ট হোক, সে কাজ করে কর্তারূপে এবং অধিকার করতে চায় কোনো নারীর দেহ। সে যখন মুখোমুখি হয় পুরুষের, তার হাতে ও তার ঠোটে সে কামনা বোধ করে একটি শিকারকে সক্রিয়ভাবে স্পর্শ করার। কিন্তু স্কুল পুরুষ, যার পেশি শক্ত, যার ত্বক প্রায়ই কর্কশ ও লোমশ, যার গন্ধ কটু, যার গঠনমোটা, তার কাছে কাম্য মনে হয় না, তার মনে আবেদন জাগায় না; তাকে এমনকি ঘৃণ্য মনে হয়।
যদি পরিগ্রাহী, অধিকারপ্রবণ, প্রবণতা বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে টিকে থাকে নারীর মধ্যে, তাহলে রেনি ভিভিয়ের মতো সে এগোবে সমকামের দিকে। বা সে শুধু সে-পুরুষদেরই বেছে নেবে, যাদের সে নারীদের মতো ব্যবহার করতে পারে : এটাই ঘটে রাশিলদের মশিয় ভিনাস-এর নায়িকার ক্ষেত্রে, যে নিজের জন্যে কেনে এক যুবককে; সে সংরক্তভাবে আদর করে যুবকটিকে, কিন্তু তার সতীত্বমোচন করতে দেয় যুবকটিকে। অনেক নারী আছে, যারা তেরো-চোদ্দো বছরের বালকদের, এমনকি শিশুদের, গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করতে পছন্দ করে, এবং এড়িয়ে চলে বয়স্ক পুরুষদের। তবে আমরা দেখেছি যে অধিকাংশ নারীর মধ্যেই শৈশব থেকেই বিকশিত হয় অক্রিয় কাম : নারী পছন্দ করে আলিঙ্গনাবদ্ধ হতে, স্পর্শাদর পেতে, এবং বিশেষ করে বয়ঃসন্ধির পর সে মাংস হতে চায় পুরুষের বাহুবন্ধনে; কর্তার ভূমিকা সাধারণত দেয়া হয় পুরুষকে; নারী তা জানে; তাকে বারবার বলা হয়েছে পুরুষের সুদর্শন হওয়ার কোনো দরকার নেই; পুরুষের মধ্যে বস্তুর জড় গুণাবলি খুঁজতে হবে, খুঁজতে হবে শক্তি ও পৌরুষ।
এভাবে নারী বিভক্ত হয়ে পড়ে নিজের বিরুদ্ধে; সে কামনা করে দৃঢ় আলিঙ্গন, যা তাকে পরিণত করবে শিউরে-ওঠা বস্তুতে, তবে পুরুষতা ও বুল এমন অসহ্য। নিরোধক, যা ক্ষুন্ন করে নারীকে। তার ত্বক ও তার হাত উভয় স্থানেই থাকে তার অনুভূতি, এবং এক এলাকার চাহিদা আংশিকভাবে অন্যটির চাহিদার বিরোধী। যতোটা সম্ভব সে আপোষ করে; সে একটি পৌরুষসম্পন্ন পুরুষের কাছে নিজেকে দান করে, তবে কাম্য বস্তু হওয়ার জন্যে পুরুষটিকে হতে হয় তরুণ ও আকর্ষণীয়; একটি সুদর্শন যুবকের মধ্যে সে পেতে পারে তার কাম্য সব আবেদন। পরমগীতে স্ত্রী ও স্বামীর আনন্দভোগের মধ্যে একটা প্রতিসাম্য আছে : নারীটি পুরুষটির মধ্যে তাই পায় পুরুষটি যা খোঁজে নারীটির মধ্যে। পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল, মূল্যবান রত্নরাজি, স্রোতস্বিনীগুলো, নক্ষত্ররাজি। কিন্তু নারীটির এসব সম্পদ অধিকারের উপায় নেই; তার দেহসংস্থান তাকে বাধ্য করে খোজার মতো এলোমেলো ও নপুংসক থাকতে : একটি প্রত্যঙ্গ যাতে মূর্ত হয়ে ওঠে অধিকারের ইচ্ছে, সেটির অভাবে নিষ্ফল হয়ে ওঠে অধিকারের ইচ্ছে। যাই হোক না কেননা, পুরুষ অক্রিয় ভূমিকা নিতে অস্বীকার করে। প্রায়ই পরিস্থিতি এমন হয় যে তরুণী ধরা দেয় এমন কোনো পুরুষের কাছে, যার আদর র্তাকে আলোড়িত করে, যদিও সে পুরুষটির দিকে তাকিয়ে বা তাকে স্পর্শাদর করে কোনো সুখ পায় না। নারীকে কামসুখ পেতে হয় তার ইন্দ্রিয়ানুভূতির স্বতস্ফূর্ত উদ্বেলনের বিপক্ষে, আর সেখানে ছোঁয়া আর দেখার আনন্দের মধ্যেই পুরুষ পায় কামসুখ।
তবে এমনকি অক্রিয় কামের উপাদানগুলোও দ্ব্যর্থবোধক। স্পর্শের থেকে কিছুই বেশি দ্ব্যর্থবোধক নয়। বহু পুরুষ, যারা ঘৃণা না করেই নাড়াচাড়া করে সব ধরনের জিনিশ, তারাও উদ্ভিদ ও পশুর সংস্পর্শে আসতে ঘৃণা করে। নারীর শরীর রেশম বা মখমলের ছোঁয়ায় সুখে কেঁপে উঠতে পারে বা পারে ঘেন্নায় থরথর করে উঠতে : মনে পড়ছে আমার তরুণ বয়সের এক বান্ধবীর কথা, শুধু একটা পিচ দেখেই যার গায়ে। কাঁটা দিয়ে উঠতো। তার বিসঙ্গত পরিস্থিতির জন্যে এ-দ্ব্যর্থবোধ টিকে থাকে কুমারীর ভেতরে : যে-প্রত্যঙ্গে তার রূপান্তর ঘটবে, সেটি রুদ্ধ। যেখানে সঙ্গম ঘটবে, শুধু সেখানটিতে ছাড়া তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে তার মাংসের অস্পষ্ট ও উত্তপ্ত ডাক। কুমারীর সক্রিয় কামপরিতৃপ্তির জন্যে কোনো প্রত্যঙ্গ নেই; এবং তার কোনো বাস্তবিক অভিজ্ঞতা নেই সেটির সাথে, যেটি তাকে করে তোলে অক্রিয়।
