নারীর কাম আরো অনেক বেশি জটিল, এবং এটা প্রতিফলিত করে নারীর পরিস্থিতির জটিলতা। আমরা দেখেছি ব্যক্তিগত জীবনে প্রজাতির শক্তিশালী প্রবর্তনাগুলো সুসমঞ্জস করার বদলে নারী হচ্ছে তার প্রজাতির শিকার, এবং প্রজাতির স্বার্থগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়া হয়েছে ব্যক্তি হিশেবে নারীর স্বার্থগুলো থেকে। এবিপরীতার্থকতা চূড়ান্তে পৌছে মনুষ্য নারীর মধ্যে; এর অভিব্যক্তি ঘটে, একদিকে, দুটি প্রত্যঙ্গের : ভগাঙ্কুর ও যোনির বৈপরীত্যের মধ্যে। শৈশবে আগেরটি হচ্ছে নারীর কামানুভূতির কেন্দ্র। যদিও কিছু মনোচিকিৎসক মনে করেন যে কিছু কিছু ছোটো মেয়েও যোনীয় স্পর্শকাতরতা অনুভব করে, তবে এটা বিতর্কের বিষয়, তা যা-ই হোক, এর গুরুত্ব নিতান্তই গৌণ। ভগাঙ্কুরীয় সংশ্রয় অপরিবর্তিত থাকে প্রাপ্তবয়স্ক নারীতে, এবং নারী সারাজীবন রক্ষা করে তার এ-কামস্বাধীনতা; ভগাঙ্কুরীয় পুলক, পুরুষের পুলকের মতোই, এক ধরনের স্ফীতিহ্রাসকরণ, যা অর্জিত হয় কিছুটা যান্ত্রিকভাবে; তবে এটা স্বাভাবিক সঙ্গমের সাথে নিতান্তই পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত, এবং সন্তান জন্মদানে এর কোনো ভূমিকা নেই।
নারীকে বিদ্ধ ও উর্বর করা হয় যোনি দিয়ে, আর পুরুষের মধ্যবর্তিতায়ই যোনি হয়ে ওঠে একটি কামকেন্দ্র, এবং এটা সব সময়ই এক ধরনের বলাকার। আগের দিনে একটা বাস্তবিক বা ছদ্মধর্ষণেরমাধ্যমে শিশুকে ছিনিয়ে নেয়া হতো তার শৈশবের জগত থেকে এবং ছুঁড়ে দেয়া হতো স্ত্রীর জীবনে একটা হিংস্র কাজের মধ্য দিয়েই বালিকাকে পরিণত করা হয় নারীতে : আমরা আজো বলি বালিকার কুমারীত্ব নেয়ার কথা, তার ফুল ‘ছিড়ে নেয়া’র কথা, বা তার কুমারীত্ব ‘ভাঙা’র কথা। এ-সতীত্বমোচন কোনো ধারাবাহিক বিবর্তনের ফলে ধীরেধীরে অর্জিত পরিণতি নয়, এটা হচ্ছে অতীতের সাথে হঠাৎ সম্পর্কচ্ছেদন, একটি নতুন চক্রের সূচনা। এরপর থেকে কামসুখ লাভ ঘটে যোনির দেয়ালের সংকোচনের ফলে; এ-সংকোচন কি কোনো যথাযথ ও নির্দিষ্ট কামপুলক ঘটায়? এটা এখনো বিতর্কিত বিষয়। শরীরসংস্থানগত উপাত্তগুলো অস্পষ্ট। কিন্সে রিপোর্টে ব্যাপারটি নিম্নরূপে বর্ণিত হয়েছে :
বিপুল পরিমাণে শরীরসংস্থানগত ও নিদানিক প্রমাণ রয়েছে যে যোনির অভ্যন্তর ভাগের বেশি অংশই স্নায়ুহীন। যোনির অভ্যন্তর ভাগে বেশ পরিমাণে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব অনুভূতিনাশক ছাড়াই। যোনির ভেতরে শুধু অগ্ৰদেয়ালের এক এলাকায়, ভগাঙ্কুরের মূলের সন্নিকটস্থলে স্নায়ু দেখা যায়।
তবে, ওই স্নায়ুরহিত অঞ্চলে উদ্দীপনার অতিরিক্ত,
নারী যোনিতে কোনো বস্তুর প্রবেশ টের পেতে পারে, বিশেষ করে যদি যোনির পেশিগুলো কষানো হয়; তবে এতে যে-তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা সম্ভবত যতোখানি যৌনস্নায়ুর উদ্দীপনার সঙ্গে জড়িত তার থেকে বেশি সম্পর্কিত পেশির আততির সঙ্গে
তবু কোনো সন্দেহ নেই যে যোনীয় সুখের অস্তিত্ব আছে; এবং যোনীয় হস্তমৈথুন, সেদিক থেকে দেখতে গেলে প্রাপ্তবয়স্ক নারীতে–কিন্সে যা নির্দেশ করেছেন, তার থেকে অনেক বেশি ঘটে। তবে যা নিশ্চিত, তা হচ্ছে যোনীয় প্রতিক্রিয়া খুবই জটিল জিনিশ, যাকে বলা যেতে পারে মনোশারীরতাত্ত্বিক, কেননা এতে শুধু সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রই জড়িয়ে পড়ে না, এটা নির্ভর করে ব্যক্তিটির সমগ্র অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির ওপরও : এটা নারীর কাছে দাবি করে তার সর্বস্ব।
প্রথম সঙ্গমের ফলে সূচিত হয় যে-নতুন কামচক্র, সেটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যে দরকার পড়ে স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের মন্তাজ বা পুনর্বিন্যাস, এমন একটি বিন্যাস যার রূপরেখা আগে বিশদ করা হয় নি, যার ভেতরে ভগাঙ্কুরীয় দেহতন্ত্রও অন্তর্ভুক্ত; এটা ঘটতে কিছুটা সময় নেয়, এবং কিছু ক্ষেত্রে এটা কখনোই সফলভাবে সাধিত হয় না। এটা চমকপ্রদ যে নারীর ভেতরে আছে দুটি সংশ্রয়, এগুলোর একটি স্থায়িত্ব দেয় কৈশোরিক স্বাধীনতাকে, আরেকটি নারীকে অর্পণ করে পুরুষ ও সন্তানধারণের কাছে। স্বাভাবিক যৌনকর্ম তাই নারীকে করে তোলে পুরুষ ও তার প্রজাতির ওপর নির্ভরশীল। পুরুষই–যেমন ঘটে অধিকাংশ প্রাণীতে–নেয় আক্রমণাত্মক ভূমিকা, নারী ধরা দেয় তার আলিঙ্গনে। সাধারণত, নারীকে যে-কোন সময়ই পুরুষ সঙ্গমের জন্যে ব্যবহার করতে পারে, সেখানে পুরুষ নারীর সাথে শুধু তখনই সঙ্গম করতে পারে যখন তার লিঙ্গ থাকে দাঁড়ানো অবস্থায়। শুধু যোনিসংকোচনের বেলা ছাড়া, যখন নারী সতীচ্ছদের দ্বারা রুদ্ধ থাকার থেকেও দৃঢ়ভাবে রুদ্ধ থাকে, নারীর অনিচ্ছাকে পরাভূত করা যায়; এবং এমনকিযোনিসংকোচনের সময়ও এমন কিছু উপায় আছে, যা দিয়ে পুরুষ নিজের পেশিশক্তির বলে নারীর শরীরের ওপর নিজের কামের উপশম ঘটাতে পারে। যেহেতু সে বস্তু, তাই তার দিক থেকে কোনো জাড্য তার স্বাভাবিক ভূমিকাকে বিশেষ প্রভাবিত করে না : বহু পুরুষ ভাবেই না যে তারা যে-নারীদের সাথে শোয় তারা সঙ্গম করতে চায়, না কি নিতান্তই নিজেদের সঙ্গমে সমর্পণ করে। এমনকি শবের সাথেও সঙ্গম সম্ভব। পুরুষের সম্মতি ছাড়া সঙ্গম হতে পারে না, এবং পুরুষের পরিতৃপ্তিই এর স্বাভাবিক সমাপ্তি। নারী কোনো সুখ না পেয়েও গর্ভবতী হতে পারে। তবু তার পক্ষে গর্ভবতী হওয়া নির্দেশ করে কামপ্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি; এর বিপরীতে, প্রজাতির প্রতি তার দায়িত্ব পালন শুরু হয় এখানেই : এটা ধীরেধীরে ও যন্ত্রণাকরভাবে পূর্ণতা লাভ করে গর্ভধারণ, সন্তানপ্রসব, ও স্তন্যদানের মধ্যে।
