বিন লাদেনের পর্নো দেখা নিয়ে আমার কোন সমস্যা ছিল না। মুক্তমনায় প্রকাশিত প্রবন্ধে আমি সেটা পরিষ্কার করে বলেছিলাম যে, আমি পর্নোবিরোধী কেউ না। কে নিশিরাত জেগে পর্নোগ্রাফি দেখছে আর না দেখছে সেটা আমার বিবেচ্য ছিল না কখনোই, এই লেখার মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির বিলুপ্তির কোনো পিটিশনও হাজির করছি না আমি, যার ইচ্ছে হয় দেখুক, আমার কী বলার আছে! কিন্তু আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুটি হলো–যে বিন লাদেন পাশ্চাত্যে অশ্লীলতা, পর্নোগ্রাফি, হোমোসেক্সয়ালিটি আর পতিতাবৃত্তিসহ বহুকিছুতে সোচ্চার, সকল ধরনের পশ্চিমা বেলেল্লাপনার বিরুদ্ধেই তার নিরঙ্কুষ জিহাদ, সেই নীতি নৈতিকতার চূড়ামণি বিধ্বংসী জিহাদি নেতা লাদেন বসে বসে পর্নোগ্রাফি দেখতেন—ব্যাপারটা অভিনব না? সর্ষের মধ্যেই যখন ভুত থাকে, তখন আর কী বা বেশি বলার থাকে।
শুধু পর্নোগ্রাফি নয়, বিন লাদেনের দূর্গ থেকে এভেনার মতো বিভিন্ন ‘সেক্সুয়াল স্টিমুলেটরও পাওয়া গেছে। তার চেয়েও মজার ব্যাপার হলো, নিজে আয়েশ করে বাহারি ধরনের পর্নো দেখলেও তার মৃত্যুর পরে তার স্ত্রীরা যেন কোনোক্রমেই পুনর্বার বিয়ে না করতে পারেন–এ নিয়ে একটি উইল করে গেছেন ‘মহানুভব লাদেন’। অবশ্য এগুলো কোনোটাই আমার কাছে খুব একটা বিস্ময়কর কিছু মনে হয়নি। কাগজে কলমে মৌলানারা তোতাপাখির মতো ‘ইসলামে পর্নোগ্রাফি হারাম’ জাতীয় বুলি আউরালেও কিংবা বোরখা আর হিজাবের জয়গান গাইলেও আরব বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোই সবচেয়ে ‘সেক্স স্টার্ভড’ জাতি সেটা অনেক আগে থেকেই মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। হিন্দি নাচ গানের সেক্সুয়াল ভিডিওর জমজমাট ব্যবসা নাকি আরবেই। মধ্যপ্রাচ্যের ‘বেলি ড্যান্সিং কিংবা পাকিস্তানের মুজরার কথাও কমবেশি সবাই জানে। শুধু তাই নয়, সৌদি বাদশাহদের হারেম পোষা থেকে শুরু করে, দেশ বিদেশ থেকে সুন্দরী নারী ভাড়া করে নিয়ে এসে শেখদের পার্থিব লালসায় ব্যবহারের খবর প্রায়ই পত্রপত্রিকায় পাওয়া যায়[১৭৩]। আর এর মধ্যে পাওয়া গেছে আরও এককাঠি সরেস খবর। সম্প্রতি গুগলের বদৌলতে পর্নোওয়েবসাইট কারা বেশি পরিভ্রমণ করে এ সংক্রান্ত জরিপ চালানো হয়েছে, আর এ থেকে বেরিয়ে এসেছে এক মজাদার তথ্য। ২০০৬ সালে করা এ জরিপে পাওয়া ফলাফলে যে তথ্য উঠে এসেছে তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। সবচেয়ে বেশি পর্নসাইট ভ্রমণ করেন ইসলামি শরিয়া সমদ্ধ পাকিস্তানিরা[১৭৪]। শুধু ২০০৬ সালের পর থেকেই পাকিস্তানিরা এ ব্যাপারে শীর্ষে, এবং গত বছরের জরিপেও একই ফলাফল বেরিয়ে এসেছে[১৭৫]। জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানিরা কেবল হিউম্যান সেক্সেই আগ্রহী নয়, সেই সাথে ‘horse sex’, ‘donkey sex’, ‘camel sex’ প্রভৃতি সার্চেও তালিকার প্রথমে। শুধু পশুমেহনে পাকিদের আসক্তি থাকলেও না হয় কথা ছিল, সেই সাথে তারা আগ্রহী ‘rape sex’, ‘child sex এবং ‘rape video’ দর্শনেও (সাধু সাবধান)। পর্নোগ্রাফির প্রতি এই ইসলামি রাষ্ট্রটির প্রবল আসক্তি দেখে অনেকেই বলছেন, এই দেশটাকে পাকিস্তান না ডেকে পনিস্তান ডাকলে কেমন হয়?[১৭৬] ঘটনা অবশ্য এখানেই শেষ নয়, আরও আছে ২০০৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী যৌনতাসন্ধানী বুভুক্ষু প্রথম দশটি দেশের ছয়টিই ইসলামি দেশগুলোর দখলে। সেগুলো হচ্ছে: মিসর (দ্বিতীয়), ইরান (চতুর্থ), মরক্কো (পঞ্চম), সৌদি আরব (সপ্তম) এবং তুরস্ক (অষ্টম)। অমুসলিম দেশ চারটে হচ্ছে: ভিয়েতনাম (তৃতীয়), ভারত (ছয়), ফিলিপাইন (নবম) এবং পোল্যান্ড (দশম)। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, প্রথম আটটি দেশের ছ’টিই মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। দ্য ডেইলি বিস্টের Panifest 017 Catania ‘Osama’s Dirty Mind : Bin Laden’s porn and Muslim hypocrisy on sex’ শীর্ষক প্রবন্ধে এজন্যই লিখেছেন[১৭৭]–
Some of the Muslim societies that are the most repressive toward women…also have some of the highest rates of pornography usage in the world.
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেরোরিজম বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিন ফেয়ার বলেছেন, ‘লাদেনের বাসায় পর্নো পাওয়ায় অবাক হইনি মোটেই। জিহাদিরা পর্নো ভালোবাসবে এটা তো জানা কথাই। সাধে কী তাদের জন্য পরকালে বাহাত্তরটা হুর পরির লোভ দেখানো হয়েছে নাকি!’। রজার সিম্পসনের উদ্ধৃতি দিয়েই বলতে হয়—- the greater the repression the greater the revolution’, আমি মুক্তমনায় প্রকাশিত আমার ঐ প্রবন্ধে সেজন্যই কৌতুক করে বলেছিলাম, “আগামী বিশ্বের সেক্সুয়াল রিভলুশন সম্ভবত ইসলামি বিশ্বেই শুরু হবে, আর মরহুম বিন লাদেন হলেন সেই বিপ্লবের পথিকৃৎ। আমার তো তাই মনে হচ্ছে’।
অথচ পর্নোগ্রাফি নাকি হারাম ইসলামে[১৭৮]! এক মুখে পর্নোকে হারাম বলা হয়, অথচ ইসলামের জিহাদিদের নেতাই বসে বসে সোৎসাহে পর্নো দেখেন। হারামের কথাই যখন এল, কী হারাম আর কী হারাম নয় তা বলা সত্যই মুশকিল। ধর্মকারী নামে একটা সাইট আছে নেটে। সেই সাইটের প্রকৃতি সম্বন্ধে সাইটটিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তিমনস্কদের নির্মল বিনোদনের ব্লগ। বিতর্ক বা বাকবিতণ্ডার স্থান নেই এখানে। এই ব্লগে ধর্মের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করা হবে, ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে, অপদস্থ করা হবে, ব্যঙ্গ করা হবে। যেমন করা হয়ে থাকে সাহিত্য, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা বা অন্যান্য যাবতীয় বিষয়কে।
