(১১) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে করাতের ব্যবহার : এই পদ্ধতি আগে চালু ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলিতে। এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে উল্টো করে দুই পা দুই দিকে ফাঁক করে বেঁধে রাখা হত। এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির যৌনাঙ্গ বরাবর করাত রেখে দেহকে মাঝ বরাবর কেটে ফেলা হত। আর উল্টো করে ঝোলানোর কারণে ব্যক্তিটির মস্তিষ্ক যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত পেত, যাতে ব্যক্তিটি এই শরীরের মাঝ বরাবর কেটে ফেলায় ব্যথা সম্পূর্ণটাই অনুভব করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কাটার আগে পর্যন্ত তিনি বেঁচে থাকতেন।
(১২) রিপাবলিকান ম্যারেজ : রিপাবলিকান বিবাহ (Republican Marriage) হল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এক অভিনব পদ্ধতি। এই পদ্ধতি হল একজন পুরুষ এবং মহিলাকে নগ্ন করে এবং মুখোমুখি করে একসঙ্গে বেঁধে নদীর জলে ফেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। শুধুমাত্র ফ্রান্সে এই পদ্ধতি চালু ছিল।
(১৩) বেস্টিয়ারাই মৃত্যুদণ্ড : বেস্টিয়ারাই (Bestiari), আদি রোমান সাম্রাজ্যের একটা ক্রীড়া। যেখানে বীরেরা হিংস্র প্রাণীর মুখোমুখি হয়ে তাদের পরাস্ত করত। কিন্তু এই ক্রীড়াকেও ব্যাবহার করা হত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উপায় হিসাবে। যে সমস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত তাঁদের সম্পূর্ণ নগ্ন করে ছেড়ে দেওয়া হত হিংস্র প্রাণীদের মধ্যে এবং কোনোরূপ প্রতিরোধ ছাড়াই হিংস্র প্রাণীরা মেরে ফেলত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এবং অবশ্যই খেয়ে ফেলত। এই মৃত্যু দেখে এই ক্রীড়া দেখতে আসা দর্শকেরা উল্লাসে গলা ফাটাত। মৃত্যুও বিনোদন, ভাবা যায়!
(১৪) নিষ্পেষণে মৃত্যুদণ্ড : নিষ্পেষণ (Crushing) পদ্ধতি মূলত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার হত না, তবে যে সকল ব্যক্তির উপর ব্যবহার করা হত তাঁরা সকলেই মৃত্যুবরণ করত। এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল আমেরিকায়। আর সেখান থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটির প্রসার ঘটে। তৎকালীন সময়ে কোনো সাধারণ ব্যক্তি যদি কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিশেষ ব্যক্তিদের দ্বারা দোষী হিসাবে আখ্যা পেত, তাহলে তাঁদের দিয়ে দোষ স্বীকার করানোর কাজেই ব্যাবহার করা হত এই পদ্ধতি। এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিটিকে মাটিতে শুইয়ে তাঁর শরীরের উপর ভারী বস্তু রাখা হত এবং প্রতিবার তাঁকে তাঁর দোষ স্বীকার করার কথা বলা হত। স্বীকার না করা পর্যন্ত ওজন বাড়িয়ে যাওয়া হত, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে মারা যায়। তবে দোষ স্বীকার করলেও যে মুক্তি পেত তা নয়, সেই দোষের জন্য এবং সবাইকে মিথ্যা বলার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হত।
(১৫) সিমেন্টের জুতো পরিয়ে মৃত্যুদণ্ড : এই জুতো যেই-সেই জুতো নয়, সিমেন্টের তৈরি। এই পদ্ধতি অনেকটাই রিপাবলিকান ম্যারেজ’ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো, অর্থাৎ নদীর জলে ডুবিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। শুধু পার্থক্য হল এখানে বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে না বেঁধে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পায়ে পরিয়ে দেওয়া হবে সিমেন্টের জুতো, যাতে ব্যক্তিটি জলের মধ্যে ভেসে থাকতে না পারেন। এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সবচেয়ে বেশি প্রচলন ছিল আমেরিকার মাফিয়াদের মধ্যে।
(১৬) ব্লাড ঈগল : ফিনল্যান্ডে রক্তের ঈগল বা Blood Eagle পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রথা চালু ছিল। এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে টান টান করে বেঁধে তাঁর মেরুদণ্ড বরাবর কেটে তাঁরই বুকের পাঁজর ভেঙে ঈগলের পাখার মতো মেলে রাখা হত। এরপরে পিছন থেকে ফুসফুস বের করে রাখা হত। এখানেই শেষ না, এরপরে বাইরে ঝুলে থাকা ফুসফুস এবং ক্ষত জায়গায় লবণ মাখিয়ে দেওয়া হত। এই পদ্ধতিতে রক্তক্ষরণ কম হওয়ার কারণে ব্যক্তি অনেক সময় ধরে বেঁচে থাকত এবং মৃত্যুর তীব্রতাও বৃদ্ধি পেত।
(১৭) ন্যায়ের ঝাঁকি : ন্যায়ের ঝাঁকি বা Upright Jerker পদ্ধতি প্রথম চালু হয় আমেরিকাতে। কিন্তু আমেরিকাতে বর্তমানে এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ হলেও বর্তমানে ইরানে এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গলায় দড়ি পরিয়ে দড়িটি উপরে দিকে টেনে তোলা হয়। দড়িটি তোলার সময় ঝাঁকি দেওয়া হয়, যাতে আসামির ঘাড় ছিঁড়ে যায়। দড়িটি তুলতে সাধারণত ক্রেন ব্যবহার করা হত।
(১৮) মাজাটেল্লো : অত্যন্ত বীভৎস এই পদ্ধতি। মাজাটেল্লো বা Mazzatello হল এমনই একটি মৃত্যুদণ্ড প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতি হল শহরের মাঝে উঁচু মঞ্চে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আনা হত এবং তাঁর মাথায় কাঠের তৈরি এক হাতুড়ি দিয়ে জোরে আঘাত করা হত। তারপর আঘাতে আঘাতে মাথা থেঁতো করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হত। অষ্টাদশ দশকের দিকে ইউরোপের যে সমস্ত দেশে যেখানে পোপের আইন চালু ছিল, সেখানেই এই প্রক্রিয়া চালু ছিল।
(১৯) জাফরি : জাফরি বা Gridiron পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জ্বলন্ত কয়লার বিছানার উপর জোড় করে চেপে রাখা হত। যতক্ষণ-না মৃত্যু হত ততক্ষণ পর্যন্ত এইভাবে জ্বলন্ত কয়লার বিছানায় শুইয়ে রাখা হত। এই পদ্ধতি বহুক্ষণ ধরে চলত। মৃত্যুও আসত অনেক দেরিতে। তারপর শরীরের চামড়া পুড়ে সম্পূর্ণটাই কালো হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
