গণিকাবৃত্তির আইন প্রতিরোধ ও নির্যাতন শিশু গণিকাবৃত্তি ও পাচারের উপর বিশেষ মনোযোগ নিবেশ করেছে থাইল্যান্ড সরকার। ধারা ৮ বলছে, ১৫ বছরের কম বয়সি যৌনকর্মীদের যৌন-সম্পর্ক স্থাপন করলে ২ থেকে ৬ বছরের কারাদণ্ড এবং ১,২০,০০০ টাকা জরিমানা করে ক্লায়েন্টদের শাস্তি দেয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সের যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে কারাগারের মেয়াদ ১ থেকে ৩ বছর, এবং জরিমানা ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা যায়। পাচারের বিষয়ে ধারা ৯-এর বিধান অনুসারে, যে ব্যক্তি বা কোনো ব্যক্তি যিনি তাঁর বা তাঁর সম্মতি মোতাবেক, এমনকি সেই ব্যক্তির গণিকাবৃত্তির জন্য কোনো ব্যক্তিকে কিনে নেয়, উচ্ছেদ করে এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত বিভিন্ন কাজ কি না তা নির্বিশেষে, রাজ্যের অভ্যন্তরে বা বাইরে যা করা হয়, তাহলে ১ থেকে ১০ বছর মেয়াদে কারাগারবাস এবং ২৫ হাজার থেকে ২ হাজার বাহাত জরিমানা করা হবে। উপরন্তু ধারা ৯ এর অধীনে যে-কোনো অপরাধ প্রতারণা, হুমকি, সহিংসতা, অযৌক্তিক প্রভাব বা জোরপূর্বক অনুশীলনের মাধ্যমে যদি সংঘটিত হয়, তার ফলে এক-তৃতীয়াংশ গুরুতর শাস্তি হয়।
দণ্ডবিধির সংশোধনী আইন (নং ১৪), বিই ২৫৪০ (১৯৯৭) আর্টিকেলে স্পষ্টভাবে বলেনি যে, থাইল্যান্ডে গণিকাবৃত্তি অবৈধ। কিন্তু দণ্ডবিধির ২৮৬ ধারা অনুসারে—যে ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সি একজন গণিকাবৃত্তির উপার্জনের উপর নির্ভর করে, এমনকি যদি তাঁর আয়ের কিছু অংশের উপর নির্ভর করে, তবে তাঁকে ৭ থেকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং ৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার বাহাত জরিমানা করা হবে বা যাবজ্জীবন দণ্ডিত করা হবে। জরিমানা নির্দিষ্ট করা না হলেও, আইনের ধারায় একই কোনো ব্যক্তি যিনি (i) কোনো গণিকার সঙ্গে বসবাস করেন বা বাস্তবসম্মতভাবে সংযুক্ত হন, তাঁকে শাস্তি দেন (i) কোনো গণিকা দ্বারা পরিচালিত বোর্ডিং, অর্থ বা অন্যান্য সুবিধা পান অথবা (iii) কোনো গ্রাহকের সঙ্গে ঝগড়া করতে সহায়তা করে। আইনটি শিশু গণিকাবৃত্তি মোকাবিলার জন্যও লিখিত ছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার অভাব ছিল, কারণ এটি একটি পর্নো কাজ’ কি না তা সংজ্ঞায়িত করে না।
১৯৬৬ সালের বিনোদন স্থান আইনটি (Entertainment Places Act of 1966) বিনোদনের চৌহদ্দিতে গণিকাবৃত্তি ঘটালে নির্দিষ্ট ধরনের বিনোদন প্রতিষ্ঠানের মালিকের উপর অপরাধ সাব্যস্ত হয়ে থাকে। যার ফলে তাঁরা অপরাধমূলকভাবে দায়বদ্ধ হয়ে পড়ে। গণিকালয় পরিচালনা করা, অনুরোধ এবং অন্যদের গণিকাবৃত্তি থেকে লাভজনক সম্পর্কিত কার্যক্রম অবৈধ। থাই আইন অনুযায়ী গণিকাবৃত্তি নিষিদ্ধ। তবে কারাওকে বার (Karaoke bars) এবং ম্যাসেজ পার্লারগুলিকে স্বাভাবিক, বৈধ ব্যবসা হিসাবে নথিভুক্ত করা যেতে পারে। যৌনকর্মীদের গ্রেফতার করা হয় তখনই, যখন এই ধরনের কাজ চৌহদ্দির মধ্যে সংঘটিত হবে। তখন পুলিশ সাধারণত যৌনকর্মী এবং ক্লায়েন্টের মধ্যে বিনিময় হিসাবে গণিকাবৃত্তির আচরণকে বিনিময় হিসাবে মেনে নেয়।
সোয়া ম্যাসেজ ইনস্টিটিউটস, জাপানি সোপল্যান্ডগুলির মতো, সাধারণত ওয়েল ম্যাসেজ, নগ্ন শরীরের ম্যাসেজ বা স্নান চিকিৎসা যা যৌন পরিসেবাগুলিও অন্তর্ভুক্ত করে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে পুরুষ ক্লায়েন্ট নারী গণিকাদের সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে ব্যস্ত হতে পারে। ব্যাংককের কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণে সোপ ম্যাসেজ ব্যাবসার জড়িত আছে।
থাইল্যান্ডের থাই-ম্যাসেজের জন্য পরিচিত হলেও এটি ‘নুয়েট ফেন বোয়ার’ নামে পরিচিত ম্যাসেজের যৌনতাহীনতা (Non-sexual), ঐতিহ্যগত কায়দায় ম্যাসেজের চালু আছে। কিছু ম্যাসেজ পার্লারে হাত দিয়ে লিঙ্গমৈথুন (handjobs), ওরাল সেক্স এবং যৌনসঙ্গম (Sexual Intercourse) সহ অতিরিক্ত খরচ করলেই পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে ‘Federation of Thai Spa Associations’ (FTSPA) কর্তৃপক্ষ কিছু ম্যাসেজ পার্লারে দেওয়া যৌন-পরিসেবাদি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। FTSPA বজায় রাখে যে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ‘চমৎকার স্বাস’ (pretty spas) বা ম্যাসেজ পার্লারগুলি থেকে পর্যটকরা যৌন-পরিসেবাদি কিনতে পারে।
১৯০৫ সালে যখন রামা ভি দাসত্ব (slavery) নিশ্চিহ্ন করেন। তখন মহিলারা নিজেদের ছাড়া কিছু খুঁজে পেলেন না। তাই তাঁরা বেঁচে থাকার জন্য তাঁদের শরীর বিক্রি করতে শুরু করে। সেই সময় প্রায় লক্ষ লক্ষ চিনা পুরুষ নির্মাণ কাজ (Construction Work) করতে এসেছিল, যাঁরা যৌন-সম্পর্কের দাবি করেছিল। ১৯০৮ সালে তৎকালীন রাজা গণিকাবৃত্তি বৈধকরণ এবং যৌনকর্মীদের চিকিৎসা সেবা পেতে আইন পাস করেন। থাইল্যান্ডের প্রাচীন গ্রন্থগুলির একটি প্রাচীন, ধারাবাহিক ঐতিহ্য, যা সাধারণত ধম্মসাৎ (Dhammasattha) সাহিত্যের শিরোনামে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে গণিকাবৃত্তি বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত এবং সর্বজনীনভাবে নিষিদ্ধ করে। বিংশ শতাব্দীতে যৌনশিল্প (Sex Industry) সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন পাস করা হয়, যার মধ্যে ১৯০৮ সালের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন এবং বিনোদন স্থান আইন, ১৯৬৬ (Entertainment Places Act of 1966) অন্তর্ভুক্ত। ১৯৫০-এর দশকে থাই প্রধানমন্ত্রী ফিল্ড মার্শাল সরিত থানতারাত (Sarit Thanarat) নৈতিকতা নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন, যার মধ্যে আছে জরিমানা ও কারাদণ্ড আরোপের মাধ্যমে গণিকাবৃত্তিকে অপরাধে পরিণত করা। থাইল্যান্ডের যৌনকর্মীরা যৌনবৃত্তি করেন আর্থিক চাপের জন্য নয়, প্রমাণ রয়েছে যে বেশিরভাগ মেয়েরা গণিকাবৃত্তি পছন্দ করেন।
