সামাজিকভাবে অনুমোদিত এই প্রথার উৎস নিয়ে অনেক তত্ত্ব আছে। তাঁদের মধ্যে একজন জানায়, কীভাবে নরমেডিক উপজাতিদের বাহিরাগত হিসাবে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। পরে তাঁরা এই যৌনপেশাকে দারিদ্রতা কাটিয়ে ওঠার উপায় বলে মনে করতে থাকে। এই সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৩,০০০ সদস্য আছে, যাঁর মধ্যে অন্তত ৬৫% নারী। বেশি সংখ্যক নারী হওয়ার একটি কারণ হল এই অঞ্চলে অল্প বয়সি মেয়েদের অবৈধভাবে পাচার করা হয়। মধ্যপ্রদেশের যেখানে এই সম্প্রদায় বসবাস করে, সম্প্রতি একটি আইন পাস করে, সেখানে ১২ বছরের কম বয়সি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক কেউ ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়ের সঙ্গে যৌন-সম্পর্ক করলে তাঁদের কারাদণ্ডও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতি পরিবর্তন আনতে পারেনি।
বাচ্ছা সম্প্রদায়ের এই গণিকাবৃত্তির প্রথা পরিহারের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালে একটি প্রকল্প চালু করা হয়। কিন্তু এটি এখনও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হয়নি। নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তা রাজেন্দ্র মহাজন বলেন, “প্রতি বছর আমরা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার জন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের মানদণ্ডগুলো পূরণ করতে পারেনি।”
(৮) থাইল্যান্ড : শতাব্দী ব্যাপী থাইল্যান্ডের গণিকাবৃত্তি আধুনিক থাইল্যান্ড। Ayutthaya রাজত্বের (১৩৫১ ১৭৬৭) সময়, গণিকা বৈধ এবং রাজস্বও নেওয়া হয়। ১৯৬০ সাল থেকে থাইল্যান্ডে গণিকাবৃত্তি অবৈধ হল। যাই হোক, এটি জাতীয় জিডিপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসাবে (২০১৫) বছরে আনুমানিক ৬.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রাজস্ব অর্জন করেছিল।
থাইল্যান্ডে সব গণিকারা কি নারী? না, তা হতে পারে না। কারণ প্রতি দশজনের একজন পুরুষ যৌনকর্মী। এখানকার ক্লায়েন্ট বেশিরভাগই বিদেশি। এদের পোশাকে আর ব্যাবসায় নিজেদের সংস্কৃতি বজায় রাখার এক বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা আছে। তবে এই গণিকাবৃত্তি শিল্প এক নির্দিষ্ট স্থান, অর্থাৎ ব্যাংককের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। এই শহরে রেস্তোরাঁগুলি যৌনপেশার জন্যে উর্বর জায়গা। এখানকার শ্রমিকেরাও যৌনতা বিক্রি করে।
পরিসংখ্যান বলছে, থাইল্যান্ড ৬০ লাখ (আনুমানিক) মানুষ বসবাসকারী একটি দেশ। দেশটি প্রধানত বৌদ্ধ (৯৫%) অধ্যুষিত দেশ। অন্যান্য ধর্মের মধ্যে রয়েছে মুসলিম (৩.৮%), খ্রিস্টান (০.৫%), হিন্দুধর্ম (০.১%) এবং অন্যান্য (০.৬%)। থাইল্যান্ডের তিন-চতুর্থাংশ আদিবাসী ১৪% চিনা এবং ১১% বিভিন্ন জাতি। যদিও কৃষি হল দেশটির নেতৃস্থানীয় পেশা (৫৪%), পরিসেবা শিল্প, যা যৌন-ব্যাবসা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যাবসাগুলির ৩১% এবং শিল্প ১৫% অনুসরণ করে। (সিআইএ ওয়েবসাইট : থাইল্যান্ড)
বলতে দ্বিধা নেই যে, থাইল্যান্ড যৌন-ব্যাবসার শ্রেষ্ট কেন্দ্র। ১৯৬০ সালে এই ব্যাবসা এখানে অবৈধ ছিল। তা সত্ত্বেও এই ব্যাবসা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। এই গণিকাবৃত্তিতে প্রতি বছর ২,০০,০০০ মানুষকে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই পেশায় নারীরা সর্বাধিক যুক্ত। যদিও-বা শিশু ও পুরুষ আছে। বেশিরভাগ চাকরির টোপে পড়ে নিজেদের আত্মীয়দের সাহচর্যে এই পেশায় যুক্ত হয়েছে। কেউ আবার সামাজিক অপমান ভুলতে এবং সেখান থেকে অব্যাহতি পেতে এখানে এসেছেন। এছাড়া হোটেল, রেস্টুরেন্ট, নাচ ক্লাব ছেড়ে বর্তমানে এই উন্মুক্ত পথে, এমনকি যৌন পর্যটনে এর বহুল প্রভাব চোখে পড়ে। এখানে যৌন-ব্যাবসা জাপান, জার্মানি, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতোই সাবলীল হয়ে উঠেছে। ভিয়েতনামের যুদ্ধের পর যৌন-ব্যাবসা মার্কিনি সামরিক বাহিনীদের জন্যই ভোলা হয়। ব্যাংককের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বাজার এই যৌন পর্যটনের জন্যে আজও টিকে আছে। আজ এখানে বিজ্ঞাপনে মার্কিনিদের জন্য যৌন প্যাকেজ ট্যুর দেওয়া হয়। হোটেলগুলিতে থাকা, খাওয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের নারী অতিথিও ভাড়া দেওয়া হয়। আখেরে হোটেলগুলি যৌনক্রীড়ার কর্মক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
থাইল্যান্ডে প্রজনন আইন ও প্রতিরোধের আইন, বিই ২৫৩৯ (১৯৯৬) আর্টিকেলে সরাসরি গণিকাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ। এই আইনের অধীনে, গণিকাবৃত্তির সংজ্ঞা হল—“যৌন-সংযম বা অন্য কোনো কাজ, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির কমিশন অর্থের বিনিময়ে অন্য কোনো ব্যক্তির যৌন-বাসনা বা অন্য কোনো উপকারে ফিরে আসার জন্য, যে ব্যক্তিটি পরিসেবা গ্রহণ করে এবং যে ব্যক্তি কাজ সম্পাদন করে, সেটি একই লিঙ্গের বা হোক না-কেন।”, তা অপরাধ। গণিকাবৃত্তির উদ্দেশ্যে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে গণিকাবৃত্তির প্রতিষ্ঠানে জড়িত ব্যক্তিরাও কারাগারের মেয়াদ বা জরিমানা বা উভয়ের মুখোমুখি হয়। শিশু গণিকাবৃত্তির ক্ষেত্রে গুরুতর জরিমানা (যার মধ্যে গণিকা ১৫ বছরের কম বয়সি হলে ৬ বছর পর্যন্ত কারাবাস) হয়। অন্যথায় আইন। সাধারণত ব্যক্তিগত জায়গায় গণিকাবৃত্তির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয় না। এই আইনটি গণিকাবৃত্তি ব্যাবসা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানা ধার্য করে। এছাড়াও ফৌজদারি কোড গণিকবৃত্তি থেকে অর্জিত অর্থ সংগ্রহ বা ব্যবহার করার জন্য জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
