(৯) ফিলিপাইন : ফিলিপাইনের গণিকাবৃত্তি অবৈধ, যদিও যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারীরা খুব কমই বিরল। পাচারের ক্ষেত্রে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য জরিমানা করা হয় বটে, যা ২০০৩ সালের ‘Anti-Trafficking in Persons Act of 2003’ দ্বারা সুরক্ষিত। গণিকাবৃত্তি প্রায়শই বার, কারওকে বার (কেটিভি হিসাবেও পরিচিত), ম্যাসেজ পার্লারস, ব্রথেলস (এটি কাসা নামে পরিচিত), রাস্তায় চলমান গণিকাবৃত্তি এবং এসকর্ট সেবা দিতে দেখা যায়। ফিলিপাইনের ‘Population Institute and Demographic Research and Development Foundation’ কর্তৃক ২০০২ সালে ‘তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক উর্বরতা ও যৌনতা চর্চা’ পরিচালিত হয়েছিল যে, ১৯% তরুণ পুরুষ যৌনতার জন্য অর্থ প্রদান করেছিল এবং ১১% যৌন অনুগ্রহের জন্য অর্থ প্রদান পেয়েছিল। ২০১৩ সালে আনুমানিক ৯৭.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ফিলিপাইনে ৫,০০,০০০ গণিকাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিল। ২০০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সিনেটর পিয়া এস (Pia S. Cayetano) তার অ্যান্টি-গণিকাবৃত্তি আইন’ (সেনেট বিল নং ২৩৪১, ২০১০)-এ বলেছিলেন যে, ফিলিপাইনে গণিকাবৃত্তিতে শোষিত মানুষের সংখ্যা ৮,০০,০০০ এর চেয়ে বেশি হতে পারে।
ফিলিপাইনে গণিকারা স্থানীয় গ্রাহকদের এবং বিদেশিদের যৌন-পরিসেবা দিয়ে থাকে। এখানকার গণিকাবৃত্তি এক উচ্চতর ঘটনা। অলিঙ্গাপো সিটি, এঞ্জেলস সিটি, আলবেয়ের লিগাজিপ সিটি, পাসে সিটি এবং জাম্বলেস শহরগুলির সাধারণত পূর্ব এশীয় ও পশ্চিমা দেশগুলির বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে গণিকাবৃত্তি চলে। অলিঙ্গাপো সিটি এবং এঞ্জেলস সিটিতে গণিকাবৃত্তি যথাক্রমে সাবিক বে ন্যাভাল বেস এবং ক্লার্ক এয়ারবেসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ১৯৯১ সালে যখন পিনাতুবো পর্বতমালার একটি আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎগার হয়, এটি ক্লার্ক এয়ারবেসের বেশিরভাগ অংশই ধ্বংস হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালে বেসটি বন্ধ করে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত কিছু গণিকাবৃত্তি বাণিজ্যও বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ম্যানিলার মেয়র আলফ্রেডো লিম যখন ১৯৯২ সালে শুরু হওয়া ম্যানিলার আর্মি এলাকার যৌনশিল্প এলাকাগুলি বন্ধ করে দেন, তখন বেশিরভাগ গণিকারা নতুন গ্রাহক খুঁজতে এঞ্জেলসে চলে যায়। যৌন পর্যটকদের এটা যেন তীর্থক্ষেত্র। সিবুর মতো অন্যান্য পর্যটন এলাকাগুলিও একটি উচ্চ-প্রোফাইল গণিকাবৃত্তি শিল্পের বিকাশ হয়েছে। অনলাইন ডেটিং সাইট এই প্রবণতা উৎসাহিত করতে একটি বড় ভূমিকা নিয়েছে।
ফিলিপাইনের একক অবাঞ্ছিত মা হওয়ার পরে কিছু নারীও গণিকাবৃত্তি শিল্পে যোগ দেয়। গণিকাবৃত্তি গ্রহণের বিভিন্ন কারণের মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইনের কৃত্রিম গর্ভনিরোধের অসম্পূর্ণতা, অপর্যাপ্ত যৌনশিক্ষা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বহু ফিলিপিনো পুরুষের মধ্যে একটি টেকিক্যাল মনোভাব। ফিলিপাইনে প্রতি বছর জন্মগ্রহণকারী শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি অবৈধ এবং অবৈধ শিশু বছরে প্রায় ২ শতাংশ হারে বেড়েছে।
মেসেজেস হিসাবে কাজ করা মহিলাদের জরিপের মাধ্যমে জানা যায়, ৩৪ শতাংশ তাঁদের দরিদ্র বাবা-মাকে সাহায্য সমর্থন করার জন্য তাঁদের এই কাজ পছন্দ, ভাইবোনদের সাহায্য করার জন্য ৪ শতাংশ এবং স্বামী বা ছেলেবন্ধুদের সহায়তায় ২৪ শতাংশ। ২০ শতাংশের বেশি কাজটি স্রেফ ভালো লাগে বলেই করেন। কিন্তু মাত্র ২ শতাংশ বলেছিলেন এটি সহজ কাজ এবং মাত্র ২ শতাংশ কাজটি উপভোগ করার দাবি করেছে। এক তৃতীয়াংশেরও বেশি রিপোর্ট করেছে যে, তাঁরা হিংস্রতা বা হয়রানির শিকার হয়েছে, বিশেষ করে পুলিশের কাছ থেকে।
International Labour Organization’ কর্তৃক পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ফিলিপাইনের ম্যাসেজ পার্লারের ৫০ শতাংশ নারী “with a heavy heart” নিয়ে তাঁদের কাজ করেছে এবং ২০ শতাংশ বলেছে যে, তাঁরা ‘Conscience-stricken’। কারণ তাঁরা এখনও গ্রাহকদের সঙ্গে যৌন-সম্পর্ক করেন। ফিলিপাইনের বারগার্লদের সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে যে, তাঁদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি গ্রাহক যখন ক্লায়েন্টের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক লিপ্ত হয়, তখন ‘কিছুই’ অনুভব করেননি এবং বাকিরা বলেছিলেন যে এই পেশায় লেনদেনগুলি তাঁদের দুঃখ দেয়।
ফিলিপিন্স একটি উৎস দেশ এবং অল্প পরিমাণে, নারী ও শিশুদের যৌন পাচারের শিকার একটি ডেসটিনেশন এবং যোগাযোগের দেশ। আনুমানিক ১০ মিলিয়ন ফিলিপিনো বিদেশে বসবাস করে বা বিদেশে কাজ করে এবং ফিলিপিনস প্রতি বছর বিদেশে কাজ করার জন্য সরকার প্রায় ২.৩ মিলিয়ন নতুন বা পুনর্নবীকরণ চুক্তি প্রক্রিয়া করে। এই অভিবাসী কর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা যৌন পাচারের শিকার, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও।
গনসাল (Gonzales) বলেন, “এমন সময় ছিল যখন তাদের খাবার কিনতে কোনো টাকা ছিল না। যখন আপনার সন্তানদের খাওয়ানোর কোনো কিছুই না থাকে, তখন দ্রুত অর্থের জন্য গণিকাবৃত্তিতে পরিণত হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে, সেই হাতছানি কিছুতেই এড়ানো যায় না।” গনসাল যৌনকর্মীদের আহ্বান করে। গনসাল বলেন–“আমরা তাঁদের ‘গণিকা নারী’ বলে ডাকি, কারণ গণিকাবৃত্তি কোনো চাকরি নয় বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন।” গনসাল বলেন, তবে তাঁর গ্রুপ নারীকে তাঁদের ব্যাবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য করে না।”
