ঘটনা–৮
তারিখ : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
দিনে দুপুর জনবহুল এলাকায় মধুচক্র চালানোর অভিযোগ এক গৃহবধুর বিরুদ্ধে। প্রতিবেশীরা হাতেনাতে মধুচক্র ধরে তুলে দিল পুলিশের হাতে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের সাহেব কাছারি এলাকায়। জানা গেছে সাহেব কাছারি এলাকায় বাসিন্দা পূরবী সরকারের স্বামী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর পর থেকেই তিনি দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে মিলে বাড়িতে মধুচক্রের আসর বসাতেন। এর আগেও একই অভিযোগে তাঁদের জেলও হয় বলে জানা গেছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই তাঁরা আবার বালুরঘাট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার মহিলাদের নিয়ে মধুচক্রের আসর শুরু করেন। প্রতিবেশীরা বেশ কিছু দিন ওই বাড়িতে অপরিচিত নারী পুরুষের আনাগোনা লক্ষ করছিলেন এবং এই মধুচক্রের আসর হাতে নাতে ধরার লক্ষ্যে ছিলেন। আজ আবার কিছু অপরিচিত নারী পুরুষকে ওই বাড়িতে যেতে দেখলে তাঁরা হাতেনাতে তিনজন মহিলা ও দুই পুরুষকে ধরে ফেলে। এছাড়াও একজন পুরুষ পালিয়ে গেছে বলেও জানা গেছে। এরপর এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।
ঘটনা–৯
তারিখ : ৮ আগস্ট, ২০১৭
অভিযোগ আগেই ছিল। এবার একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ল। খোদ সিনেমা হলের ভিতরে দেহব্যাবসা চালানোর অভিযোগে ওই হলে ব্যাপক ভাঙচুর চালালেন স্থানীয় মানুষজন। ভরদুপুরে হঠাৎ ওই সিনেমা হলের দোতলার ঘর থেকে এক মহিলাকণ্ঠের আর্ত চিৎকারে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে যান। সেখানে গিয়ে ওই যুবতীর কাছ থেকেই তাঁরা মধুচক্রের কথা জানতে পারেন। ঘটনাস্থল থেকেই দুই যুবক ও এক যুবতীকে হাতেনাতে ধরে বেধড়ক মারধর করেন তাঁরা। এর পরই উত্তেজিত স্থানীয় মানুষ হামলা চালান ওই সিনেমা হলে। গুসকরা ফাঁড়ির পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুসকরা ২ নম্বর ওয়ার্ডের নদীপটি এলাকায় ওই হলে দিনের পর দিন সিনেমা দেখানোর নামে রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র। সিনেমা হলটির ভিতরে বেশ কয়েকটি ঘর আছে। সেগুলিকে দেহব্যাবসায় কাজে লাগিয়ে ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। ফলে এই সিনেমা হলে সকাল থেকেই গুসকরা শহর ও আশপাশের গ্রামগঞ্জের মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। সিনেমা হলে ছবি দেখানোর নামে মধুচক্রের অভিযোগ নিয়ে দিনের পর দিন বিভিন্ন মহলে জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিন দুপুর নাগাদ সিনেমা হলের ভিতরে এক যুবক এক যুবতীকে মারধর করলে সেই যুবতী আর্ত চিৎকার করে ছুটতে ছুটতে বাইরের দিকে আসছিল। সেই সময় স্থানীয় মানুষ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে দেহব্যাবসায় কথা জানায়। এর পরই সেখান থেকে দুই যুবককে টেনে বার করে মারধর দিয়ে স্থানীয়রা চড়াও হন সিনেমা হলে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এই সিনেমা হলে অনৈতিক কাজকারবারের পিছনে অদৃশ্য হাত রয়েছে। তাই হলের ভিতরে ঘর ভাড়া দিয়ে চলছে মধুচক্র। এতে এলাকার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তাঁরা লজ্জায় তাঁদের পাড়ার নাম কাউকে বলতে পারেন না। বিষয়টি তাঁরা পুলিস থেকে শুরু করে স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকেও বারবার জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ শেষ শো ভাঙার পরেও সারা রাত অনেককেই এই সিনেমা হল থেকে বেরতে দেখা যায়।
ঘটনা–১০
তারিখ : ৪ জুন, ২০১৮
বিভিন্ন রাজ্যের মেয়েদের নিয়ে এসে চেন্নাইতে মধুচক্র চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হল জনপ্রিয় তামিল অভিনেত্রী সঙ্গীতা বালানকে। অভিযোগ, সিনেমা বা টিভিতে সুযোগ করে দেওয়ার টোপ দিয়ে অভিনয়কে পেশা হিসাবে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তরুণীদের চেন্নাই ডেকে আনত সঙ্গীতা ও তাঁর সহযোগী সতীশ। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে চেন্নাই হাজির হওয়া সেসব তরুণীদের অবশেষে স্থান হত সঙ্গীতার রমরমা মধুচক্রে। তাঁদের গণিকাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ। পুলিশ সঙ্গীতা বালানকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তার সাগরেদ সতীশকেও গ্রেফতার করেছে। মধুচক্র থেকে তরুণীদের উদ্ধার করে তাঁদের চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তামিল ছবি ‘কারুঞ্জু রোজা’-য় অভিনয় দিয়ে তামিল চলচ্চিত্র জগতে পা দেয় সঙ্গীতা বালান। তারপরও অনেক জনপ্রিয় সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করেছে সে।
স্কুল-কলেজ থেকে গৃহবধূ–অবাধ যৌনতার জন্য এবং মোটা অর্থ রোজগারের মধুচক্রই বেশি পছন্দ। গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকে এখানে। এখানকার ক্রেতা ও বিক্রেতারা উভয়পক্ষই মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবার থেকেই আসে। এখানকার শরীর-বিক্রেতারা আসেন মূলত অতৃপ্ত যৌনবাসনা মেটাতে। কেউ আসে শুধুই যৌনবাসনা মেটাতে, কেউ আসে অধিক অর্থ-লালসায়। শুধুই যৌনবাসনা মেটাতে আসে, তাঁরা পছন্দের পুরুষ বা নারীর সঙ্গে বা অনেকের সঙ্গে গ্রুপ সেক্স করে। অনেকে আসেন বিবাহ-বহির্ভূত বা পরকীয় যৌন সম্পর্ক করতে। এছাড়া এক শ্রেণির মানুষ আসেন, যাঁরা নিজেদের স্বামী ও স্ত্রী বদল (Swap) করে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এইসব মধুচক্রে তাঁরাই আসে যাঁদের জীবনসঙ্গিনীর বা সঙ্গীদের সঙ্গে শরীরী সম্পর্ক করার আড়াল বা নিরাপদ জায়গা নেই। এঁরা অবশ্য নিজেদের অর্থ লেনদেন করে শরীরের বিনিময়ে। শুধু হোটেল বা রিসর্টের ভাড়া মিটিয়ে দিলেই হল। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ না-করলে বা খুনের মতো কোনো ঘটনা না-ঘটলে নির্বিঘ্নেই কাজ চলে। যেহেতু মধুচক্রের স্পট, স্পটের কর্তা ও স্পটের ব্যক্তিরা উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং হোমড়াচোমড়া দুনিয়ার হয়, তাই কেউ সাহস করে কাঠি দিতে যায় না। মাসোহারা পায় বলে পুলিশ নিষ্ক্রিয়। মাসোহারা বন্ধ হলে হঠাৎ করে জেগে উঠলেও বকেয়া মিটিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান। তাই কোথায় কী হয় দুনিয়ার সবাই জানলেও শুধু পুলিশই কিছু জানে না।
