ঘটনা–৫
তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের একটি হোটেল। সেখানেই গোপনে চলছিল মধুচক্রের আসর। দীর্ঘদিন ধরেই ওই হোটেলের ঘর ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন বয়েসি ছেলে-মেয়েরা নিজেদের যৌন-চাহিদা মেটাচ্ছিল। জানা গিয়েছে, ওই বার-কাম-রেস্টুরেন্টের উপর তলায় অবৈধভাবে কয়েকটি ঘর তৈরি করেই এই কাজ চলছিল। সেখানে ঘণ্টা হিসেবে রুম ভাড়া দেওয়া হত। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই সেখানে হানা দেয় পুলিশ। হোটেলের বিভিন্ন ঘর থেকে হাতে নাতে ধরা হয় পাঁচ জোড়া স্কুল পড়য়াকে। এদের মধ্যে অনেকেই নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যেককেই আটক করে থানার নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশি অভিযানের খবর পেয়েই ওই হোটেলের সামনে জড়ো হয় এলাকাবাসী। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা, তাঁরা ওই স্কুল পড়ুয়াদের দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এলাকাবাসীর দাবি, বহুদিন ধরেই এই হোটেলে অল্প বয়সি ছেলেমেয়েদের যাতায়াত চোখে পড়ছে। অথচ পুলিশ এর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না-নেওয়ার ফলেই এখানে দেহ ব্যাবসার রমরমা বেড়ে গিয়েছিল।
ঘটনা–৫
তারিখ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০
খবরের কাগজে ‘বন্ধুত্ব করুন’-এর বিজ্ঞাপন। আর তার আড়ালে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ। বারাসতে গ্রেফতার এক সাইবার কাফের মালিক প্রভাস হালদার। মধুচক্র চালানোর পাশাপাশি বারাসত ও নিউটাউন থানায় কয়েক কোটি টাকা প্রতারণার মামলা রয়েছে ধৃত প্রভাস হালদারের বিরুদ্ধে। কল্যাণী থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল প্রভাস হালদারের বিরুদ্ধে। সেই তদন্তে নেমেই এই কীর্তির পর্দাফাঁস পুলিশের। কয়েক সপ্তাহ আগে মধ্যমগ্রামের একটি বাড়িতে ভুয়ো অফিসের সন্ধান পায় পুলিশ। সেখান থেকেই অপারেশন চালাত প্রভাস হালদার। ‘পত্রমিতালি’ নাম দিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় খবরের কাগজে। বন্ধুত্ব করুন’ সংস্থার আড়ালে রমরমিয়ে চলত মধুচক্র। এরপর বিভিন্ন অন্তরঙ্গ ভিডিও জোগাড় করে ক্রেতাদের ক্রমাগত ব্ল্যাকমেলিং করা হত। তাদের কাছ থেকে মোটা টাকার চেক নিয়ে রাখা হত বিভিন্ন বেনামি অ্যাকাউন্টে। সেই টাকাতেই মাইনে দেওয়া হত অফিসের কর্মচারীদের। বেনামি অ্যাকাউন্টগুলি বেশিরভাগই বিভিন্ন দুঃস্থ পড়ুয়াদের নামে। পরে সেখান থেকে চেক ভাঙিয়ে ক্যাশ তোলা হত।
কল্যাণী থানায় প্রতারিত এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নামে সিআইডি। সন্ধান পায় মধ্যমগ্রামের ভুয়ো অফিসের। জানা গিয়েছে, বাড়ির মালিককে মোটা ভাড়ার লোভ দেখিয়ে ভাড়া নেয় প্রধান অভিযুক্ত ঘনশ্যাম হালদার। তল্লাশিতে নেমে সেই বাড়ি থেকে ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় নাম উঠে আসে ঘনশ্যামের। ফোনের মাধ্যমে আলাপ ও পরে কাজ না হলে হুমকি। এভাবেই অপারেশন চালাত অভিযুক্ত। বারাসত থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার রাতে তল্লাশি চালায় সিআইডি। বারাসতের অশ্বিনীপল্লি থেকে অভিযুক্তের দাদা প্রভাস হালদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনা–৬
তারিখ : ২ জানুয়ারি, ২০১৯
শহরে দেহব্যাবসা এখন আর নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় সীমাবদ্ধ নেই। অভিজাত এলাকাতেও রমরমিয়ে মধুচক্রের কারবার চলছে বলে অভিযোগ। প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে অসৎ পথে পা বাড়াচ্ছেন তরুণীরা। কাজে লাগানো হচ্ছে নাবালিকাদেরও। সেক্টর টু-এর গ্রিন শেল্টার গেস্ট হাউসে মধুচক্রের সন্ধান পেলেন সিআইডি আধিকারিকরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই গেস্ট হাউসে অভিযান চালান গোয়েন্দারা। হাতেনাতে ধরা পড়ে যান গেস্ট হাউসের ম্যানেজার, এক মহিলা নারী পাচারকারীসহ ছয় জন। উদ্ধার করা হয়েছে দুজন নাবালিকাসহ ছয় জনকে। গেস্ট হাউসের ম্যানেজার ও এক মহিলাসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। দিন কয়েক আগেই কলকাতা ও বাগুইআটির পাঁচটি ম্যাসাজ পার্লারে মধুচক্রের পর্দাফাঁস করেন লালবাজারে গোয়েন্দারা। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে ৫৪ জন। ধৃতদের মধ্যে ৩৬ জন মহিলা। তাদের কেউ যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করত, কেউ আবার ছিল মধুচক্র বা ম্যাসাজ পার্লারের মালিক বা মালকিন। বিভিন্ন বয়সের এইসব যৌনকর্মীরা মূলত শহর ও শহরতলির বাসিন্দা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সল্টেলেকের গ্রিন শেল্টার গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সন্দীপ মিশ্র। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে। অপর দুই অভিযুক্ত রাজু দাস ও তুহিন বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়ার বাসিন্দা। বাকি তিনজন উত্তর চব্বিশ পরগনার দমদম, বারাসত ও পূর্ব বর্ধমানের।
ঘটনা–৭
তারিখ : ১০ জানুয়ারি, ২০২০
মধুচক্র (Sex Racket) চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বিগ বস ১৩-র প্রাক্তন প্রতিযোগী আরহান খানের বান্ধবী অমৃতা ধানোয়াকে। গোরেগাঁওয়ের একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় অমৃতাকে। গোরেগাঁওয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে পার্টি চলাকালীন গ্রেফতার করা হয় আরহান খানের প্রাক্তন বান্ধবী অমৃতা ধানোয়াকে। মধুচক্র চালানোর অভিযোগেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। অমৃতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অমৃতার পাশাপাশি রিচা সিং নামে আরও এক অভিনেত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। রূপোলি জগতে খাতা খোলার চেষ্টায় ছিলেন রিচা সিং নামে ওই অভিনেত্রী। আচমকাই গোরেগাঁওয়ের ওই পাঁচতারা হোটেল থেকে অমৃতার সহযোগী হিসেবে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। গোরেগাঁওয়ের ওই পাঁচতারা হোটেলে পুলিসের হানাদারি চলতে পারে। এই খবর শোনার পর সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন অমৃতা। কিন্তু সফল হননি। চম্পট দেওয়ার আগেই ওই পাঁচতারা হোটেলের পার্টি থেকে গ্রেফতার করা হয় আরহান খানের প্রাক্তন বান্ধবীকে।
