–বেশ। রীতা, এবার তুমি বলো তোমার কথা।
–আমি ডিভোর্সি। এক বছর হল ডিভোর্স হয়েছে। স্বামী নপুংসক ছিল। ডিভোর্স তো হল, কিন্তু আমার বাকি জীবন চলবে কী করে? আবার বিয়ে করব? আবার বিয়ে মানে তো পুরুষ বদল। তিনি হবে দ্বিতীয় স্বামী। ডিভোর্সী মেয়ে মানে এঁটো মেয়ে। সে কী আমাকে ভালো চোখে দেখবে? মোহ ভেঙে দু-দিন বাদে সেও যদি আমাকে ছেড়ে দেয়? আমি কি তৃতীয় বিয়ে করব? তৃতীয়বার পুরুষ বদল? পুরুষ যদি বদল করতেই হয়, তবে এভাবে কেন? লাভ কী? বিগ জিরো। সিদ্ধান্ত নিলাম এ পেশায় আসব। এ পেশায় অর্থ যেমন আছে, তেমনি সক্ষম পুরুষের যৌনতা আছে, আছে প্রতিদিন নতুন নতুন পুরুষে সঙ্গ। চলে এলাম। কাজ শুরু দিলাম। বিন্দাস আছি। ব্যাংক ব্যালান্সও মন্দ নয়। অনেকেই আমাকে বিয়ের অফার দিয়েছে। আমি সেই প্রত্যাখ্যান করেছি। করার বিয়ের করার সঙ্গে সঙ্গে আমার আর্থিক স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলব। তা ছাড়া ওইসব পুরুষরা ভালোবেসে বিয়ের অফার দেয় না। অফার দেয় আমাদের ব্যাংক ব্যালান্স হাতানোর লোভে। আমাদের লাইনের বেশকিছু মেয়ে প্রতারিত হয়েছে সর্বস্ব খুঁইয়ে। আবার এখানেই ফিরে আসতে হয়েছে ‘সংসার’ হারিয়ে।
–না, তোমার ব্যাংক ব্যালান্স কত জানতে চাইব না। জানতে চাইব তপতীর কথা। তপতী কীভাবে এলেন?
–বিজ্ঞাপন দেখে। সাইট থেকে জানতে পারলাম যৌন-পরিসেবা দিয়ে প্রচুর রোজগার করা যায়। বিজ্ঞাপনে ফোন নম্বর দেখে যোগাযোগ করলাম। কাজ হয়ে গেল। আমি খুশি। রোজগারও বেশ ভালো। স্ব-ইচ্ছায় এসেছি, স্ব-ইচ্ছায় ছেড়ে চলে যাব।
–স্ব-ইচ্ছায় ছেড়ে যাওয়া যায়! আচ্ছা, এ ব্যাপারে পরে জানব। তার আগে নুরজাহান বলুক তাঁর কথা। কীভাবে এলে এই পেশায়?
–কোটিপতি না হলে কীসের বেঁচে থাকা! অনেক টাকায় মালিক হতে চেয়েছিলাম। এ পৃথিবীতে টাকাই সব। কলেজে পড়তে পড়তেই একদম স্বাধীনভাবে যৌনপেশা করতাম। তবে লুকিয়ে। একটা সাইট আছে এরকম। যাঁরা এ পেশায় আসতে চায় তাঁরা নিজেদের সম্বন্ধে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। সেই সঙ্গে প্রতি রাতে বা প্রতি ঘণ্টার কত পারিশ্রমিক নেব সেটাও জানাতে হয়। আমিও জানালাম। ক্লায়েন্ট পেতে থাকলাম। মোটা টাকা আসতে থাকল। কিন্তু ভয় পেয়ে বসল। নিজ দায়িত্বে কাজটি করতে হত। কোনো প্রোটেকশন নেই বিপদে পড়লে রক্ষা করার। কে কেমন জানতে পারি না। সন্দেহ নিয়ে কাজ করা মুশকিল। তখন ভাবলাম এখানে নাম লেখাই। নাম লেখালাম। মাথার উপর সবরকমের সার্পোট আছে। নিশ্চিন্তে কাজ করছি। রোজগারও বেশ ভালো। এ পেশায় কন্ডোম বাধ্যতামূলক। তাই যৌনরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়টাও নেই।
–যদি কখনো মনে হয় এ কাজ আর করবে না, তখন ছেড়ে দিতে পারবে?
–ছাড়ব কেন? ছেড়ে রোজগার হারাব কেন? দু-হাতে টাকা ঘাটি এখন, পেশা ছেড়ে দিলে খুব খারাপ লাগবে। অতএব ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই।—বলল কাজল।
–তর্কের খাতিরে যদি ভাবি পেশা ছেড়ে দেব, যখন খুশি ছেড়ে দিতে পারি। বাড়ির মালিককে বললে, সে একবারের জন্যেও যারণ করবে না। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আমরা স্বাধীন। কারও ক্রীতদাসী নই। মালিকের কাছে কিছু পাওনা বকেয়া থাকলে হিসাব বুঝে নিয়ে চলে যেতে পারি।—বলল নুরজাহান।
–রোজগার কীভাবে হয়? ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে যা পাও সব তোমাদের?
–তা কখনো হতে পারে? আমাদের সঙ্গে এই কাজের সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত নানাভাবে। তাঁরাও ওই টাকার অংশ পাবে। যে ছেলেটি তোমাকে উপরে নিয়ে এসেছে, সেও পায়। আমাদের রেট দু-ঘণ্টার ৩০০০ টাকা। ২০০ টাকা আমাদের। বাকিটা মালিকের কাছে থাকে। অন্যান্যদের পেমেন্ট করে। এই কোয়ার্টারে অসংখ্য মালিক আছে। সেই মালিকের অধীনে কারো দশজন, কারো পনেরজন, আবার কারো পঁচিশজন বা তারও বেশি আছে। মনে করো ক্লায়েন্ট এলো আমার মালিকের কাছে। মালিক তাঁর নিজের ঘরের মেয়েদের আগে দেখাবে। যদি মালিকের ঘর থেকে মেয়ে পছন্দ না-হয়, তখন অন্য মালিকের ঘর থেকে মেয়ে দেখানো হয়। অন্য মালিকের ঘরের মেয়ে যদি আমার মালিকের ক্লায়েন্ট পছন্দ করে, তখন মেয়েটি পাবে ২০০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা। বাকি ১০০ টাকা পাবে আমার মালিক। তবে ক্লায়েন্টের দেওয়া বকশিসের টাকায় মালিক ভাগ বসায় না।—রীতা বলল।
–তাহলে বলছ যে-কোনো মেয়ে চাইলে এই পেশায় আসতে পারে?
–ইন্ডিভিজুয়াল যে-কোনো মেয়েই এই পেশায় আসতে পারে। কিন্তু এখানে সবাই আসতে পারে না। মালিক সরাসরি কোনো মেয়েকে কাজে লাগাতে পারে না। কোনো মেয়ে যদি আসে তখন তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সংগঠনের কাছে। আমাদের সংগঠন দুর্বার কমিটি। সেখানে গেলে তাঁকে বোর্ডে বসতে হবে। সে কেন এ পেশায় আসতে চায়, কেউ বাধ্য করাচ্ছে কি না ইত্যাদি প্রশ্ন জানতে চায়। বয়সের প্রমাণপত্র চাওয়া হয়। প্রমাণপত্র না-থাকলে বা বয়স নিয়ে কমিটির সন্দেহ হলে বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক বয়স জেনে নেওয়া হয়। কোনো যৌনরোগ আছে কি না, সেটাও পরীক্ষা করে জেনে নেওয়া হয়। একটা সময়ান্তরে আমাদেরও নিয়ম করে মেডিকেল টেস্ট করতে হয়। সব পরীক্ষায় পাশ হলে তবেই কমিটি একজন মেয়েকে কাজ করার অনুমতি দেয়। কমিটিকে এড়িয়ে কোনো মালিক গোপনে কোনো মেয়েকে কাজ করাতে পারবে না।—বলল কাজল।
