গিয়েছিলাম বি কে পাল অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি ফ্ল্যাটে। আগে থেকেই কথা ছিল আমি যাব। ফোনেই সময়-দিন জানিয়েছিলাম। সে মোতাবেক একজন যুবক এসে আমাকে কোয়ার্টারের ভিতরে নিয়ে গেল। তিনতলায় গেলাম। আমাকে বলল, কেমন মেয়ে চান? বিবাহিত, না অবিবাহিত?
আমার পাঁচজন মেয়ে চাই একসঙ্গে–আমি বললাম।
–হয়ে যাবে। ডাকি মেয়েদের? পছন্দ করুন মেয়েদের।
–রেট বলুন।
–এক ঘণ্টার জন্য ২০০০ টাকা। নন-এসি। এসি হলে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা। একবার শট। দু-ঘণ্টার জন্য নিলে ৩০০০ টাকা নন-এসি। এসি অতিরিক্ত ৬০০ টাকা। চারবার শট নিতে পারবেন। টাকা কাজ করার পর দেবেন।
–এক ঘণ্টা হলেই হবে। পছন্দ করার কিছু নেই। ডাকুন যে-কোনো পাঁচজন মেয়ে।
পাঁচজন নানা বয়সের মেয়ে এসে আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেল। ঘরে ঢুকিয়ে দরজায় ছিটকিনি তুলে একজন মেয়ে আমাকে বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করল–“মাত্র এক ঘণ্টার পাঁচজন মেয়ে দিয়ে কী করবেন?” মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলাম–কী নাম তোমার? নাম বলল–“কাজল”। আমি বললাম–“তোমরা সবাই খাটের উপর উপর গোল হয়ে বসো। আমিও বসছি।” খাটের উপর গোল হয়ে বসে প্রত্যেকে নিজের নিজের টি-শার্ট খোলার জন্য উদ্যত হতে দেখে আমি বললাম–“খোলার দরকার নেই। তোমাদের সঙ্গে গল্প করার জন্য এসেছি। অন্য কোনো কারণে নয়। গল্প করা যাবে?” একটি মেয়ে বলল–কত ঘণ্টার জন্য নিয়েছ আমাদের?
–এক ঘণ্টা।
এই এক ঘণ্টা তোমার। তোমার যা মনে হয় করতে পারো।
শুধু গল্প করব, সবার সঙ্গে। প্রথমে তোমাদের নামগুলো বলো।
আমি পায়েল।
–আমি রীতা।
–আমি তপতী
–আমি নূরজাহান।
–আর তুমি কাজল।—আমি বললাম।
–কী গল্প করবেন?
—ব্যক্তিগত। তোমাদের কাজকর্ম নিয়ে।
–বলুন, কী জানতে চান?
–তোমরা এই কাজে কীভাবে এলে? প্রতারণার শিকার হয়ে?
–না। মেয়েরা সমস্বরে বলল।
–তাই নাকি? তাহলে কীভাবে এই কাজ বেছে নিলে শুনি সেই গল্প।
–আমি এখানে আসার আগে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতাম। বনগাঁ থেকে সল্টলেক আসতাম। করেছিলাম বেশ কয়েক বছর। একদিন কাজ শেষ হতে অনেকটা রাত হয়ে গেল। অফিস থেকে রাস্তায় বেরিয়েছি। হঠাৎ দেখি একটা গাড়ি এসে আমার সামনে দাঁড়াল। গাড়ির ভিতরে কোম্পানির মালিক। আমাকে উঠতে বলল। আমি বললাম–“প্রয়োজন নেই। আমি একাই যেতে পারব।” উনি নাছোড়। বাধ্য হয়েই গাড়িতে উঠে পড়তে হল। দশ মিনিটের রাস্তায় উনি বললেন–“চলো, একদিন দীঘা থেকে বেরিয়ে আসি তুমি আর আমি। খুব মজা হবে।” আমি বললাম–“তা কী করে হয়?” উনি বললেন–“কেন হবে না? তোমার কোনো খরচা নেই। সব খরচা আমার। এছাড়াও তোমাকে দশ হাজার টাকা দেব। ক্যাশ।” আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। উল্টোডাঙা স্টেশন এসে গেছে। আমি বললাম–“ব্যাস, এখানেই নামিয়ে দিন।” “কিছু বললে না”–উনি বললেন। আমি বললাম–“ভেবে দেখি। কাল জানিয়ে দেব।” না, কাল আর কাজে গেলাম না। আসলে কাজটাই ছেড়ে দিলাম। আর ভাবতে থাকলাম, উনি কেন আমাকে নিজের খরচে বেড়াতে নিয়ে যাবেন? কেনই-বা এমনি এমনি দশ হাজার টাকা দেবেন? নিশ্চয় এমনি এমনি নয়। আমাকে ভোগ করবে। দশ হাজার টাকায় আমাকে ভোগ করার মূল্য দিতে চায়। আমাকে ভোগ করতে দিলে কেউ দশ হাজার টাকা দেবে তাহলে? মন্দ নয় তো ব্যাপারটা! পাকাপাকিভাবেই তো এ কাজ করা যেতে পারে। রোজগার আর সেক্স দুটোই মিটবে। এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে আমি ডেলি প্যাসেঞ্জারি করতাম। তাঁকে বললাম–“এরকম একটা কাজ দেখে দাও না। খুব ইচ্ছা।” উনি বললেন–“আচ্ছা, ঠিক আছে।” কয়েকদিন বাদে উনি জানালেন, “কালকে চলে এসো, তোমাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে আলাপ করিয়ে দেব।” আমি চলে এলাম এখানে। বাড়ির মালিক বলল–“তুমি নাবালিকা। তোমাকে কাজে নেওয়া যাবে না।” আমি বললাম–এই দেখুন আমার পেট। আমি দুই সন্তানের মা। আমার পেটে দাগ দেখুন। আমার বয়স তিরিশ।” মালিক বলল–“এসব কথা বোর্ডে বলবে। বোর্ডে বলতে পারবে তো? বোর্ডে পাশ করলে আমাদের কাজে নিতে কোনো অসুবিধা নেই।” বোর্ডে উঠলাম এবং পাশ করলাম। আজ প্রায় বছর খানেক হল এখানে কাজ করছি। সকাল সাতটার মধ্যে এখানে ঢুকি, আর রাত সাতটায় এখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরি। রোজ। তবে যেদিন হোল নাইট ক্লায়েন্ট আসে, সেদিন রাতে তো থাকতেই হয়।”–এ কাহিনি শোনাল কাজল।
–পায়েলের কথা বলল এবার। পায়েল, তোমারও কী এখানে আসার কাহিনি একরমই?
–একদম না।—ঘাড় ঝাঁকিয়ে পায়েল বলল।
–বলল, তোমার এখানে আসার গল্প।
–আমার স্বামী আছে। এক সন্তানও আছে। এই দেখুন ছেলের ছবি। ক্লাস সেভেনে পড়ে। ইংলিশ মিডিয়াম পড়ে। আমার স্বামীর যা রোজগার, তাতে আমার ছেলেকে ভালো স্কুলে পড়ানো সম্ভব নয়। আমাকেও কোনো কিছু করা দরকার। কিন্তু কী করব? কে কাজ দেবে? আমি তো কোনো কাজ জানি না। কাজ না-জানলে কায়িক পরিশ্রমের কাজ করতে হবে, যেখানে শরীরের শক্তি প্রয়োজন। রোজগারও তেমন হবে না। শরীরই যখন খাটাতে হবে, তবে শরীর খাঁটিয়ে অনেক বেশি রোজগার করা যায় তেমন পেশাই বাছতে হবে। চলে এলাম এখানে, শুরু করলাম কাজ। এ পেশায় টানা পাঁচ বছর। ডেলি কম করে ১০০০ টাকা রোজগার করা মোটেই কঠিন নয় এখানে। ধনী ক্লায়েন্টের কাছ থেকে বখশিস পাওয়া যায়। যদিও বকশিস ধনী-অধনী সবাই দেয় খুশি হয়ে।—এ হল পায়েলের এ পেশা বেছে নেওয়া কাহিনি।
