একটা গল্প বলি, গল্প নয় সত্য ঘটনা। আমার মেজো ভাইরা ভাই বিখ্যাত মডেল ফোটোগ্রাফার। তিনি তাঁর এক অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে শেয়ার করলেন। বললেন–“আমাকে একটা মডেল সেশনের জন্য মধ্যপ্রদেশ যেতে হয়েছিল কয়েকদিনের জন্য। খাজুরাহের মন্দিরকে বিষয় করে মডেল-নারীরা বিভিন্ন রকমের পোজ দেবেন। সেই ছবি তুলে ফোটোগ্রাফার হিসাবে আমাকে মডেল-নারীদের প্রোফাইল তৈরি করে দিতে হবে। সেই প্রোফাইলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে ফোটোগ্রাফারদের উপর। সব মডেল-নারীই চাইবে তাঁর প্রোফাইলই শ্রেষ্ঠ হবে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চাইলেই তো শ্রেষ্ঠ হওয়া যায় না। তা নির্ভর করে একজন ফোটোগ্রাফার কতটা তাঁকে এক্সপোজ দেবে, কীভাবে দেখবে তার উপর। বিশেষ কোনো মডেল-নারীকে সে এক্সপোজ কেন দেবে? সেই প্রশ্নটাই বড়ো হয়ে দাঁড়ায়। অতএব ফোটোগ্রাফারকে বশে আনতে হবে। সেটা কীভাবে? মাঝরাতে হোটলে ফোটোগ্রাফারের ঘরের দরজায় কড়া নাড়তে হবে এবং শরীর নিবেদন করার সুযোগ নিতে হবে। সুযোগ নিতে পারলেই কেল্লা ফতে। এটাও মনে রাখতে হবে সব ফোটোগ্রাফারকে যেমন শরীর নিবেদন করে বশ করা যায় না, তেমনি সব মডেল-নারীও শ্রেষ্ঠ প্রোফাইলের জন্য শরীর বিক্রি করে না। তা সত্ত্বেও সমাজে মডেল-নারী ও মডেল-ফোটোগ্রাফারদের সুনজরে দেখা হয় না। ধরেই নেওয়া হয় মডেল-নারী ও মডেল ফোটোগ্রাফারের চরিত্রের ঠিক নেই। এঁরা এর সঙ্গে তাঁর সঙ্গে শোয়। মডেল ফোটোগ্রাফারের কাজ করি শুনলেই মেয়ের বাবারা তাঁদের মেয়ে দিতে চায় না এই কারণেই।”
নগ্ন আলোকচিত্রশিল্প বলতে নগ্ন বা অর্ধ-নগ্ন ব্যক্তির চিত্র ধারণকারী যে-কোনো ধরনের আলোকচিত্র বা নগ্নতার ইঙ্গিতপূর্ণ চিত্রসমূহ নির্দেশ করে। নগ্ন আলোকচিত্র বিভিন্ন উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়ে থাকে, যার মধ্যে শিক্ষাগত ব্যবহার, বাণিজ্যিক প্রয়োগ এবং শিল্পকর্মের উদ্দেশ্য নিহিত থাকে। সাধারণত ব্যক্তিগত ব্যবহার, নির্দিষ্ট বিষয় বা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সঙ্গীর উপভোগের উদ্দেশ্যেও নগ্ন আলোকচিত্র গ্রহণ করা হয়ে থাকে। প্রদর্শনী বা নগ্ন আলোকচিত্রের প্রকাশ বিভিন্ন সংস্কৃতি বা দেশে বিতর্কিত হতে পারে, বিশেষত যদি আলোকচিত্রের বিষয়টি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। অধিকাংশ নগ্ন আলোকচিত্র সাধারণত নারী বিষয়ক বৈশিষ্ট্য সংবলিত হতে দেখা যায়।
নগ্ন আলোকচিত্র সাধারণত বৈজ্ঞানিক এবং শিক্ষাবিষয়ক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করা হয়ে থাকে, যেমন জাতিগত গবেষণা, মানবদেহতত্ত্ব বা যৌনশিক্ষা ইত্যাদি। এই প্রসঙ্গে আলোকচিত্র গ্রহণে এর বিষয় বা আলোকচিত্রটির সৌন্দর্য বা যৌনকামনা সৃষ্টির উপর জোর দেওয়া হয় না, বরং শিক্ষাগত বা প্রদর্শনমূলক উদ্দেশ্যে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়।
Edouard-Henri Avril একজন ফরাসি চিত্রশিল্পী ছিলেন, যিনি তাঁর অঙ্কিত নগ্ন এবং যৌন উত্তেজক শিল্পকর্মের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি ‘পল আভ্রিল’ ছদ্মনামে ছবি প্রকাশ করতেন। তেওপিল গাউটিয়েরের (ফরাসি লেখক) লেখা উপন্যাস ‘ফরচুনিও’-তে ছবি আঁকতে গিয়ে তিনি সর্বপ্রথম ‘পল আভিল’ নাম গ্রহণ করেন। তাঁর আঁকা ছবি দেখে বহু লেখক তাদের গল্প বা উপন্যাসে নগ্ন ছবি আঁকার জন্য পলকে নিতেন। পল নগ্ন ছবি এঁকে রাতারাতি খ্যাতিমান হয়ে যান অল্প দিনের মধ্যেই। প্রায় প্রতিদিনই ফ্রান্সে তাঁর আঁকা ছবি সংবলিত বই বিক্রি হত এবং কমপক্ষে একশোটার নীচে বিক্রি হত না। তিনি নিজেও বহু ছবি এঁকে বেচেন এবং ভালো আয় করেন। শিল্পী নারীকে নগ্ন করেন সামান্য অর্থের বিনিময়ে। সেই চিত্র বিক্রি করে শিল্পী খ্যাতি লাভ করেন, প্রচুর অর্থ রাজগার করেন। আর যে নারী নগ্ন হয়ে শরীরী বিভঙ্গ বিক্রি করলেন, তাঁর প্রাপ্তি কতটুকু? সেই প্রশ্নটা থেকেই যায়।
নগ্ন শরীর প্রদর্শন করাও এক শ্রেণির নারীদের মধ্যে এক জনপ্রিয় পেশা। স্ট্রিপটিজ, অর্থাৎ পরনের কাপড় খোলা হচ্ছে মানুষের মধ্যে যৌন-উত্তেজনা জাগানোর জন্য এক প্রকারের আয়োজন, যেটাতে একজন সুন্দরী নারী একে একে তাঁর সব কাপড় খোলা শুরু করে ধীরে ধীরে এবং সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যায় একটা সময়ে। এরূপ কর্মে নিয়োজিত নারীকে স্ট্রিপার বা ইক্সোটিক ড্যান্সার বলা হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠান বা আয়োজন সাধারণত কোনো বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল বা স্ট্রিপ ক্লাবে হয়। স্ট্রিপটিজের মূল উদ্দেশ্য মানুষের শরীর দেখিয়ে অন্য মানুষকে যৌন-উত্তেজনা দেওয়া, যৌনমিলন করতে দেওয়া নয়। অর্থাৎ যৌনমিলন না-করেও শরীর বিক্রির ব্যবসা। চিনে এক ধরনের সংগীত গোষ্ঠী আছে, সেই গোষ্ঠীর সব সদস্যরাই নারী। অর্থাৎ ভোকালিস্ট থেকে কনসার্ট শিল্পীরা। এঁরা তিনদিক ভোলা মঞ্চে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে হাজার হাজার দর্শকদের সামনে সংগীত পরিবেশন করে থাকে। শুধু চিন কেন, আমাদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তিনদিক খোলা মঞ্চে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে হাজার হাজার দর্শকদের সামনে চটুল গানের সঙ্গে খ্যামটা নাচে। এমনকি খোলা মঞ্চে সব বয়সের হাজার হাজার দর্শকদের সামনে যৌনমিলনও করে থাকে। এই ধরনের যৌনব্যাবসা সবচেয়ে বেশি দেখতে পাওয়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে।
